Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

নাইজেরিয়ায় অনাহারে ২শ’ শরণার্থীর মৃত্যু

বোকো হারামের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত

প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : নাইজেরিয়ার বামা শহরে জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের হাত থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ২০০ শরণার্থী অনাহারে প্রাণ হারিয়েছে। দাতব্য মেডিকেল সংস্থা এমএসএফের বরাত দিয়ে এ সংবাদ জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। ২৪ হাজার মানুষের একটি শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়ে এমএসএফ এ মানবেতর পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে। সেখানকার অনেক আশ্রয়প্রার্থী এখনো বোকো হারামের নৃশংস কর্মকা-ে গুরুতর আহত। প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে একজন ভুগছে অনাহারে। এদিকে, মাইদুগুরি থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বামায় বোকো হারামের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এতে সেখানে বসবাসকারী বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে জঙ্গিরা। উল্লেখ্য, বোকো হারামের সাত বছরের বিদ্রোহী হামলায় ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং ২০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এদের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে শরণার্থী শিবিরে। অসুস্থতা ও অনাহারে সেখানে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ৩০ জন করে। সম্প্রতি নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী বোকো হারামের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। কিন্তু বোকো হারাম এখনো নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্ব দিকের গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে সব। এমএসএফের বিবৃতিতে জানানো হয়, বামার আশ্রিত মানুষরা জানিয়েছে প্রায় প্রতিদিনই সেখানে নতুন নতুন গণকবরের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। অপর এক খবরে বলা হয়, পানিশূন্যতা ও ক্ষুধাপীড়িত হয়ে এসব শরণার্থী গত এক মাসে মারা যায়; যাদের অধিকাংশই শিশু।  চিকিৎসকরা জানান, ২৪ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নেয়া একটি ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে। সেখানে আশ্রয় নেয়া অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে আছে এবং শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এমএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, শরণার্থীদের সঙ্গে থাকা শিশুরা ক্ষুধায় ও পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে। আশ্রয়শিবিরের এক হাজার ৫০০ শিশুর মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজন মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া যেসব লোক এই করুণ অবস্থা দেখছে, তারা বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তাদেরও চিকিৎসা প্রয়োজন। ওই শরণার্থী শিবির থেকে গত মঙ্গলবার ১৬ হাড্ডিসার শিশুকে মউদুগুরিতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের হামলায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত লোক অনেক জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশের অবস্থাই খুব নাজুক। ২০১৪ সালে বামা বোকো হারামের দখলে চলে যায়। ২০১৫ সালে নাইজেরিয়ার সেনারা বামা পুনর্দখল করে। ১৮ মাস ধরে সেখানকার কৃষকরা কোনো চাষাবাদ করতে পারেনি। এমএসএফের একটি দল মঙ্গলবার বামায় গিয়েছিল। বর্নো রাজ্যের মাইদুগুরি শহর থেকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দলটি সেখানে পৌঁছায়। নাইজেরিয়ায় থাকা এমএসএফের প্রধান ঘিদা হাতিম বলেন, এবারই প্রথম বামায় এমএসএফ দল পৌঁছতে সক্ষম হলো। কিন্তু সেখানকার মানুষের জন্য আসলে যা প্রয়োজন, তা দেয়াটা বেশ জটিল। মাইদুগুরি শহরে আমাদের মেডিকেল ক্যাম্পে আসা রোগীদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখেছি। তারা অসংখ্য ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষী। এপি, আল-জাজিরা, বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নাইজেরিয়ায় অনাহারে ২শ’ শরণার্থীর মৃত্যু
আরও পড়ুন