Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ২৭ জানুয়ারী ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ০১ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

প্রশ্ন : অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কি বিশ্ব নবী (সা:)?

অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুন্নবী রহমানী | প্রকাশের সময় : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

উত্তরঃ আমাদের প্রাণের প্রাণ জানের জান পেয়ারা রাসূল ছরকারে দো-জাহান হযরত মুহাম্মদ (সা:) তামাম জাহানের সৃষ্টির মূল। তাঁর নূরে সবুকিছু পয়দা। তাঁর নুরানী বদন, তাঁর মহান চরিত্র মাধুর্য বিশে^র সকলের কাছে অতীব গুনান্বিত-প্রশংসিত তাঁর পবিত্র বেলাদত শরীফ বা শুভ জন্ম শৈশব, নব যৌবন, বার্ধক্য সব কিছু তামাম জাহানের সকলের জন্য শিক্ষনীয়-বরনীয়। বিশে^র সকল শ্রেণী- পেশার মানুষের জন্য তিনি একজন মডেল মহা মানব, তিনিই সকলের জন্য মহান শিক্ষক। হাদীস শরীফে এসেছে নবীজী (সা:) বলেন, আমি সকলের উত্তম চরিত্র গঠনের নিমিত্তে একজন মহান শিক্ষক রূপে আর্বিভূত। তাঁর পতি আস্থা, ভালবাসা ও শ্রদ্ধা ভক্তি যে কোন মানুষকে এইভবে সংসারে অবশ্যই সম্মানিত করবে। তিনি এই জগতে প্রতিটি মূহুর্তের জন্য একেক টি আদর্শ- সুন্দর পরিবেশ কায়েম করে গেছেন। জগদ্বাবাসীর জন্য মান্যবর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। বস্তুত: মহানবী (সা:) তাঁর মহান মিল্লাত ও সুন্দর আদর্শ সকলের প্রাণে শিক্ষা, সংস্কৃতির ও আনুগত্যের বীজ বপন করেছে। আমাদের মহানবী (সা:) এর কী মহান শান- তার অনেক বিবরণী পূর্বেকার আসমানী কিতাব সমূহে বর্ণিত রয়েছে। এখানে পাঠক কুলের মনে প্রিয় নবীর (সা:) মুহাব্বত সৃষ্টির নিমিত্তে ২/১ ছতর উপস্থাপন করছে।

প্রিয় পাঠক! আপনারা জানেন পৃথিবীর বুকে কোন শিশু জন্ম গ্রহণ করলে তার মুখে হুয়া হুয়া করে কাঁদে শিশুটি তখন কী অসহায়-অবস্থা থাকে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তার প্রতি ¯েœহময়ী মাতা বা অন্যরা সহ একটু সহানুভূতি না করলে তার কঠিন অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি তার অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে। এর ৮/১০ মাস পর না হলে তার অচল-অসহায় অবস্থার অবসান হয় না। কিন্তু আমাদের নবীজীর অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি যেহেতু একজন নবী ও রাসূল সেহেতু জন্মের পূর্ব থেকে তিনি উক্ত উপাধীতে ছিলেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবেন। আমাদের নবী (সা:) এই ধরাপৃষ্ঠে আগমনের পূবে আরব জাহানের বহু মো’জেযা বা অলৌকিক নিদর্শন ফুটে উঠেছে। এতে বোঝা যায়, তিনি কোন সাধারণ মানুষ নন। যাক, আশেক পাঠক কুলের সম্মানে জানাচ্ছি যে, আমাদের নবী (সা:) মা আমেনার নূরানী ঘরে তাশরীফ আনার পূর্বে অগণিত ফিরিশতা ও পক্ষীকুল নবীজীর শুভাগমনকে এস্তেকবাল বা স্বাগত জানাতে অবিরাম সালাত-সালাম পেশ করে। কুরাইশ বংশের গোড়াল ঘরে বিভিন্ন ধরনের পশু আরবী ভাষায় কথা বলতে শুরু করে। তারা তাদের ভাষায় নবীজীর শুভাগমন বার্তা বা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) এর বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা করতে থাকলে গৃহকর্তা বিস্মিত চিত্তে তা শ্রবণ করেন। এতে তারা ধারণা করেন যে, অচিরেই এই ধরায় কোন একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে। পরে ভোর বেলায় জানা গেল, শেষ জামানার নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এই জমীনে শুভাগন করেছেন ( মারহাবা আহলান-সাহলান)। নবীজী মক্কা নগরীতে যখন শুভাগমন করেন, তখন তিনি সাধারণ কোন শিশুর ন্যায় নয় বরং অনন্য বৈশিষ্ট্যের নবী অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়েই শুভ আগমন করেন। বিভিন্ন বর্ণনা মতে তিনি মা আমেনার মুখ দিয়ে বা বাম পাজর হয়ে শুভাগমন করেন। শুভ জন্মের সাথে সাথে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ-তাহলীল করেন। তিনি ঐসময়ে জমিনে সিজ্্দা করে আল্লাহর গুণ-গান গেয়ে গুনাহগার উম্মতের ক্ষমার জন্য মহান রবের দরবারে দোয়া করেন “রাব্বী হাবলী উম্মতী” বলে। আল্লাহর হাবীব (সা:) এর শুভ বেলাদতের সাথে সাথে অসংখ্য ফেরেশতা তাঁকে ত’াযীম-তাকরীম করতে তাঁর গৃহে প্রবেশ করে। নবীজীর শুভ বেলাদত শরীফের একটু পরে খানা কা‘বার মুতোয়াল্লি দাদা আব্দুল মোত্তালিব নাতির শুভ জন্ম সংবাদ প্রাপ্ত হন এবং তাৎক্ষণিক নাতিকে নিয়ে খানা কা‘বার তাওয়াফ করে নাতীর নাম রাখেন মোহাম্মদ (সা:) নবীজীর শুভ জন্ম সংবাদ শুনে নবীজীর চাচা আবু লাহাব স্বীয় দাসী সুয়াইবিয়া দ্রুত কদমে আবু লাহাবকে জানালে তিনি ঐ দাসীকে মুক্ত করে দেন। আবু লাহাবের এই কাজে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন খুশি হন এবং আবু লাহাবকে প্রতি সোমবারে কবরের আযাব হালকা করে দেন এমনকি তাঁর আঙ্গুল থেকে উত্তম পানীয় পাণের সুযোগ দেন। কুখ্যাত কাফের হয়ে আবু লাহাব যদি এই পুরুষকার লাভ করে, তাহলে উম্মত হিসাবে নবীজীর মিলাদুন্নবী (সা:) উদ্যাপন করে আমরা সত্যিই দো-জাহানের অশেষ নে‘য়ামতের অধিকারী হব নিশ্চিত ভাবেই।

বিশ^ বাসীর জন্য সত্য-ন্যায়ের মুর্ত প্রতীক শিশু নবী (সা:) জন্ম লাভ করে তাঁর মহামান্যা মাতা আমেনা (রা:) দুধ পান করেন। পরে সুয়াইবিয়া (রা:), বিবি হালিমা (রা:) সহ নয়জন স্বনাম ধন্য মহিলার দুধ পান করে বলে সীরাতে হালবিয়া কিতাবে বর্ণিত আছে। তিনি হালিমা (রা:) দুধ পান প্রাককালে কেবল মাত্র ডান স্থান পান করতেন। বাম স্তন তাঁর দুধ ভাই আব্দুল্লাহর জন্য রেখে দেন। আমাদের নবীজীর শুভ জন্মের পর আসমানের একটি উজ্জ্বল তারকা নবীজীকে সালাম জানাতে একদম কাছে এসে যায়। প্রিয় নবী (সা:) দরিদ্র ক্লিষ্টা বিবি হালিমার বাড়িতে অবস্থান কালে বিবি হালিমা (রা:) অনেক নে‘য়ামত লাভ করেন। ৪ বছরকাল নবীজী (সা:) বিবি হালিমার বাড়িতে অবস্থানকালে নবীজী নিজ হাতে গরু, ছাগল, মেষ, চরাতেন এবং বিশ^বাসীর নিকট শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। ঐ সময়ে নবীজীর বক্ষ বিদীর্ণ বা অপারেশন হার্ট সার্জারী করেন দুই জন প্রখ্যাত ফিরিশতা হযরত জিব্রাঈল (আ:)
ও মীকাঈল (আ:)। এতো বড় কঠিন অপারেশনে নবীজী বিচলিত হননি বরং হুশে থেকে তিনি তা আপন চক্ষে প্রত্যক্ষ করেন। ক্ষণিকের মধ্যে তিনি ফের সুস্থ হয়ে যান। এতে নবীজীর অনন্য মু‘জেযার কথা জানা যায়।

উত্তর দিচ্ছেন ঃ অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুন্নবী রহমানী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন