Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

অহিংস অসহযোগের ডাক

বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল প্রত্যাহারের আহ্বান অরুন্ধতীসহ ৬২৩ বিশিষ্টজনের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ভারতের ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (সিএবি) তীব্র সমালোচনা করে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সে দেশের কয়েকজন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (আইএএস)। বিতর্কিত বিলটি লোকসভায় পাস হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে ‘অহিংস গণ-আইন অমান্য’ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সোমবার মধ্যরাতে ৩১১-৮০ ভোটে লোকসভার অনুমোদন পায় ‘দ্য সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্টমেন্ট) বিল, ২০১৯’ শীর্ষক বিতর্কিত বিল। অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে লোকসভায় এটি উত্থাপন করে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে বিলটিকে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বুধবার এটি রাজ্যসভায় উত্থাপন করার কথা রয়েছে। অ্যাক্টিভিস্ট ও সাবেক আইএএস কর্মকর্তা হর্ষ মন্দার বলেছেন, ‘বিলটি পার্লামেন্টে পাস হলে আমি মুসলিম হওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন করবো। তারপর এনআরসির জন্য কোনও নথি জমা দেবো না। নথিবিহীন মুসলিমদের যে শাস্তি দেওয়া হবে, (যেমন ডিটেনসন ক্যাম্পে পাঠানো) নিজের জন্য আমি সেই শাস্তির দাবি তুলবো। একইসঙ্গে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের মতো শাস্তি চাইবো।’ একই রকমের ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য আইএএস-এর চাকরি ছেড়ে দেওয়া শশীকান্ত সেন্থিল-ও। তিনি এনআরসি হলে কোনও নথি জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ‘আমি নাগরিক নই বলে ঘোষণা দিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে যাবো।’ লেখক টনি জোসেফ বলেছেন, ‘নাগরিকত্ব প্রমাণে নথি জমা দেওয়ার বিষয়টিকে অনৈতিক উল্লেখ করে আমি তা প্রত্যাখ্যান করবো। আমার [মুসলিম] ভাইবোনদের বঞ্চিত করা হবে, তার নিষ্ক্রিয় দর্শক হওয়ার চেয়ে বরং তাদের পাশে দাঁড়াবো।’ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহিংস গণ-আইন অমান্য আন্দোলনের শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাক্টিভিস্টরা। তারা টুইটারে #সিএবিএনআরসিসত্যগ্রাহ ও #নোটুসিএবিএআরসি নামে হ্যাশট্যাগ চালু করেছেন। এতে ভারতীয়দের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নথি জমা না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। সেন্থিলের মতোই কাশ্মিরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে পদত্যাগ করেছিলেন কান্নন গোপীনাথন। মোদি সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ও এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘বিলটা অমানবিক, অসাংবিধানিক। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতিবাদ করার সব অধিকার রয়েছে।’ অনেক সরকারি কর্মকর্তা আবার ‘সত্যাগ্রহ’ ও ‘অহিংস অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসির অর্থনীতিবিদ লেখা চক্রবর্তী। টুইটারে নিজেকে ‘মুসলিম’ ঘোষণা করে তিনি বলেন ‘আমিও মুসলিম। ভারতেই আমার জন্ম। আমি সুরা ফাতিহা জানি। গায়ত্রী মন্ত্রও জানি। কারণ আমার জন্ম ভারতে।’ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা উমর খালিদও বলেছেন, ‘দেশে সিএবি ও এনআরসি পাস হলেও নথি জমা দেবো না।’ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতের সংবিধানের ওপর নীতিগত আঘাত। তবে এনআরসি প্রত্যাহিক জীবনে আরও বিপজ্জনক।’ অপর এক খবরে বলা হয়, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) প্রত্যাহার করতে মোদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বুকারজয়ী লেখক ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়সহ ছয় শতাধিক বিশিষ্টজন। মুসলিম শরণার্থীদের উপেক্ষার প্রশ্ন তুলে বিলটিকে ‘বিভাজক, বৈষম্যম‚লক ও অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়েছেন ৬২৩ লেখক, শিল্পী ও সাবেক বিচারপতি। সোমবার মধ্যরাতে ৩১১-৮০ ভোটে লোকসভার অনুমোদন পায় ‘দ্য সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্টমেন্ট) বিল, ২০১৯’ শীর্ষক বিতর্কিত বিল। বুধবার এটি রাজ্যসভায় উত্থাপন করার কথা রয়েছে। অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে লোকসভায় এটি উত্থাপন করে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে বিলটিকে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এক খোলা চিঠিতে বিশিষ্টজনরা বলছেন, নাগরিকত্ব বিল-২০১৯ ভারতের যে সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীনতা সংগ্রামকে পথ দেখিয়েছিল তা মলিন/ অশ্রুসিক্ত করে দিয়েছে। স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দেশজুড়ে এনআরসির পাশাপাশি এই বিলটিও মানুষের জন্য অবর্ণনীয় ভোগান্তি বয়ে আনবে। এটা ভারতের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ভয়াবহ ও অপ‚রণীয় ক্ষতির কারণ হবে। এজন্য আমরা এই বিল প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সরকারকে বলছি, সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করতে।’ অরুন্ধতী ছাড়াও চিঠিতে স্বাক্ষরকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন লেখক নয়নতারা সাহগল, অশোক বাজপেয়ী, পল জাকারিয়া, অমিতাভ ঘোষ এবং শশী দেশপান্ডে; শিল্পী টি এম কৃষ্ণ, অতুল দোদিয়া, বিভান সুন্দরম, সুধীর পাটওয়ার্দন, গুলামমোহম্মদ শেখ, নীলিমা শেখ; চলচ্চিত্র নির্মাতা অপর্ণা সেন, নন্দিতা দাস, আনন্দ পাটওয়ার্দন; অ্যাকাডেমিশিয়ান রোমিলা থাপার, প্রভাত পটনায়েক, রামচন্দ্র গুহ, গীতা কাপুর, আকিল বিলগ্রামি এবং জয়া হাসান; অ্যাকটিভিস্ট তিস্তা সেতলবাদ, এনডিটিভি, পিটিআই, টিওআই, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

১ ডিসেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ