Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৭ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জাল সনদে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক!

যশোর ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০৯ এএম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক ঘটে চলেছে। নিয়োগে ভিসির দুর্নীতি, দুর্নীতির ব্যাপারে সাংবাদিক সম্মেলন, ভিসির কর্মকা-ে শিক্ষা-দের অসন্তুষ্টি, নিজেকে আওয়ামীপন্থী হিসেবে প্রচার চালানো অথচ বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করে ক্যালেন্ডার ছাপানোর ঘটনায় ভিসির বিরুদ্ধে মামলা, ক্যাম্পাসে গৃহপরিচারিকা নির্যাতন, ভিসির একগুয়েমীপনাসহ নানা ঘটনায় আলোচনার অন্ত নেই। এবার যবিপ্রবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুর রশীদ জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকরি নেয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
যবিপ্রবির সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকে এ ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে তিনি চাকরি করছেন। যবিপ্রবির সনদপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বিষয়টি ধরা পড়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আব্দুর রশীদের সার্টিফিকেটটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করলেও তার বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে ভিসি প্রফেসর আনোয়ার হোসেন কোনো ব্যবস্থা নেননি।
সূত্র আরও জানায়, ২০১০ সালে যবিপ্রবিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে আব্দুর রশিদ যোগদান করেন। এসময় তার দাখিলকৃত এলএলবি সার্টিফিকেট পাশের সাল দেখানো হয় ১৯৯২। তার এইচএসসি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকায় অধিকতর শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি এই এলএলবি সার্টিফিকেটটি জমা দেন। কিন্তু যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ গত ১২ অক্টোবর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুর রশীদসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৭টি সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। সে অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. বাবুল ইসলাম গত ২২ অক্টোবর যবিপ্রবি রেজিস্ট্রারের কাছে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুর রশীদের এলএলবি সার্টিফিকেটটি জাল বা ভুয়া। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, অফিস রেকর্ড অনুযায়ী মো. আব্দুর রশীদের সনদপত্রে নামের বানানে গরমিল থাকায় এবং মো. নজরুল ইসলামের সনদপত্র ইস্যুর তারিখ ভিন্ন হওয়ায় তা যাচাই করা গেলো না।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যবিপ্রবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুর রশীদ বলেন, ১৯৯২ নাকি ১৯৯৫ সালে আমি এলএলবি পাস করেছি তা ঠিক এই মুহূর্তে মনে নেই। সনদপত্র যাচাই বাছাই করা হচ্ছে কিনা তাও আমি জানি না।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আহসান হাবীব বলেন, সনদপত্রের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর আব্দুল মজিদ বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। যোগাযোগ করা হলে সনদপত্র যাচাই বাছাই কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর আব্দুল মজিদ বলেন, সনদপত্রে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা পাঠিয়েছিলাম। যদি কারো সনদপত্রের ত্রুটি থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন