Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ২৫ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

তোমরা আইসোরে, বাউল দাদার ঝাল মুড়ির দোকানে

মাহফুজ আদনান, যুক্তরাষ্ট্র | প্রকাশের সময় : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩:৫৫ পিএম

“তোমরা আইসোরে, বাউল দাদার ঝাল মুড়ির দোকানে, মুর্শিদের আদর্শে ঝাল মুড়ি দড়িয়াছি রে...” নিজের রচিত এমন অসংখ্য বাউল গান গেয়ে ও ঝাল মুড়ি বিক্রি করে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙ্গালীদেরকে আনন্দ দেন বাউল দাদা। নিউ ই্য়র্কের জ্যাকশন হাইটস সেভেনটি থার্ড স্ট্রিট । বাংলাদেশ ওয়েতে তার অবস্থান । যাকে বলা যায় সাউথ এশিয়ান পাড়া বা বাঙ্গালী পাড়া। এখানের কিশোর তরুণ, বৃদ্ধ সকলের প্রিয় নাম বাউল দাদা। পুরো নাম সানোয়ার আহমেদ। গ্রামের বাড়ি সিলেটের মৌলভীবাজারের একাটোনা গ্রামের দক্ষিণবালি। জীবনের অনেক সুখের, দুখের স্মৃতি বয়ে বেড়ানো এই বয়োবৃদ্ধ বাউল দাদা ঝাল মুড়ি বিক্রি করে প্রবাসী বাঙ্গালীদের এক চিমটি বাঙ্গালীয়ানার স্বাদ দিচছেন বেশ কয়েকবছর যাবত।

রোদ, বৃষ্টি, বরফের আচছাদন কিংবা ঠান্ডা বাতাস কোন কিছুই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী বাউল দাদার কাছে ডলার না থাকলেও ঝালমুড়ি খেয়ে যান অনেকেই। আর প্রবাসে কোন বাউল আসলে তো বাউল দাদার সাথে দেখা করেই যান। নিউইয়রকে বেরাতে আসা দেশের খ্যাতনামা বাউল বারী সিদ্দিকী, কালা মিয়া সহ অনেকেই বাউল দাদাকে দেখে গেছেন। বাউল দাদা জানান, জীবন জীবিকার খোজে ১৯৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রবেশ। যদিও এর আগে ইরাক, কুয়েত ও ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। ৩৫ বছর থেকে তিনি প্রবাসে থাকলেও কয়েকবার গিয়েছেন স্বদেশ ভুমিত। স্ত্রী ও দুই পুত্র, দুই কন্যা সন্তানের জনক বাউল দাদা। তাঁর পীর ও মুর্শিদ মৌলভীবাজারের নিমাত্রা পীরের নির্দেশেই ঝাল মুড়ি বিক্রি করছেন। যদিও এর আগে তিনি কাজ করেছেন রেস্টুরেন্ট। দেশে কাজ করতেন ক্ষেত খামারে ও ব্রিক ফিল্ডে । কথা প্রসঙ্গে বাউল দাদা বলেন, আমার জানা আছে অসংখ্য গান। আমি বিভিন্ন বই পড়েছি জীবনে। আছে অনেক সুখের ও দুখের স্মৃতি। কিনতু দুখের স্মৃতিগুলো মনে রাখি না। কত ইনকাম করি, কিভাবে চলি সেটা বড় কথা নয়। আমি মানুষকে আনন্দ দেই, গান শোনাই, ঝাল মুড়ি খাওয়াই। এটাই আমার পরম তৃপ্তি। এখানে এসেছি অনেকদিন হয়। আমার চোখে দেখা, লিগ্যাল হাউক- ইনলিগ্যাল হউক কত জন কত কিছুই করেছে। কতজনই না বড়লোক হয়েছে এই নিউইয়র্কে। ভাই আমার এসব চিন্তা নেই। কেন নেই ? কারণ আমি তো এগুলো নিয়ে কবরে যাবো না। কবরে যাবে আমার ভালো কাজ গুলো।

কথা হয় রোটারেকট ক্লাব অব নিউইয়রক কুইন্সের সভাপতি এমদাদুল রাজজাকীর সাথে তিনি বলেন, ব্যস্ত প্রবাসি জীবনে থেকে জ্যাকসন হাইটসে আসতে হয়। আর বাউল দাদার ঝাল মুড়ি তো আছেই।

কমিউনিটি একটিভিসট আবু সাদেক রনি বলেন, আমরা বন্ধুরা মাঝে মধ্যে এই বাঙ্গালী পাড়ায় আসি। ভালো লাগে বাউল দাদার বাংলা গান।

কমিউনিটি লিডার মুসতাফিজুর রহমান মুরাদ । এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা সিলেটীরা ঝালমুড়ি খুব পছন্দ করি। আর এখানে এসে বাউল দাদার সন্ধান পেয়ে সত্যিই আনন্দিত। আমরা বাউল দাদার দীর্ঘায়ু কামনা করি।

প্রবাস জীবন বিভাগে সংবাদ পাঠানোর ঠিকানা
probashjibon.inqilab@gmail.com



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ