Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৬ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বৃদ্ধ জব্বার

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বাহাত্তর বছরের বৃদ্ধ আব্দুল জব্বারের চেহারায় আতঙ্কের ছাপ। নিজের ঘর ভেঙ্গে দেওয়া, পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া ও ছেলেকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর বিচার চেয়ে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বৃদ্ধ আব্দুল জব্বারের বাড়ি বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের কেয়াজু পাড়া গ্রামে। ঢাকায় তার তেমন একটা আসা হয়নি। রাস্তাঘাট অচেনা। বহুকষ্টে খুঁজে বের করেছেন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোয়েশন। সেখানেই তিন চোখের পানি ছেড়ে সাংবাদিকদের কাছে তার ওপর অত্যাচার নির্যাতনের কথা জানান।

আব্দুল জব্বার জানান, তার ছোট ছেলে প্রবাসী, বড় ছেলে কৃষক। তার নাম জয়নাল আবেদীন ভেট্টু। গত ২৩ জুলাই তাদের এলাকায় আলমগীর সিকদার নামে এক ব্যক্তি খুন হন। হত্যাকাÐের ঘটনাস্থল থেকে তার ছেলে ভেট্টু প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি দোকানে বসা ছিল। অথচ পূর্ব শত্রæতার জের ধরে ভেট্টুকে ওই মামলায় আসামি করা হয়। এরপর থেকেই মামলার বাদী ও তার সহযোগীরা নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করছে। তারা ক্রসফায়ারে মারার হুমকি দেয়। অব্যাহত হুমকির মুখে ভেট্টু পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
জব্বার বলেন, বাড়িতে কেউ না থাকায় তার বাগানের ৫ হাজারের বেশি ফলবান পেপে গাছ ে
কটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। গত ১৯ অক্টোবর চাষের পুকুরে জাল ফেলে ৬-৭ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। আত্মীয়ের রাবার বাগান কেটে ফেলে। মোটা অংকের চাঁদাদাবী করে বিভিন্ন জনকে দিয়ে হুমকি দেয়। তা না হলে ওই মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। অব্যাহাত হুমকির মুখে এই বয়সেও তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
জব্বার আরও জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে ছেলে-মেয়েদের নামে খতিয়ানভুক্ত ও দখলীয় ১০ একর জমিতে প্রায় ৫০ হাজার গাছ রোপন করে বাগান করেন। সেখানে আকাশমনি, সেগুন ও গর্জনসহ বিভিন্ন গাছ হয়েছে। সেগুলো কেটে নেওয়ার জন্য কয়েক দফায় লোকজন ও ট্রাক ভাড়া করে। পরে থানা পুলিশ ও আলী কদম সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের সহযোগিতা চান।
গত ৭ ডিসেম্বর বাগানে তাদের কৃষকদের তাড়িয়ে দিয়ে দুটি সেমিপাকা খামার ঘর ভেঙ্গে মাটিতে মিশিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসীদের ভয়ে থানায় মামলাও করতে পারেননি।

বৃদ্ধ জব্বার চোখের পানি ছেড়ে বলেন, বিগত ৩০ বছর ধরে গাছগুলো সন্তানের মতো করে লালন করে আসছি। অথচ সন্ত্রাসীরা আমার গাছগুলো লুট করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব গাছ কেটে নিলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ