Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জ্বলছে উত্তর-পূর্ব ভারত, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০৫ পিএম

ভারতের নতুন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আসাম জ্বলছে বিক্ষোভের আগুনে। শুধু আসামই নয়, অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উত্তর-পূর্বে। এমন অবস্থায় আমেরিকা, ইউকে, ফ্রান্স এবং ইসরায়েলের তরফে সে দেশের নাগরিকদের বলা হয়েছে এই অশান্ত পরিবেশে এই সব রাজ্যে বেড়াতে না যেতে। এবং যাঁরা এই মুহূর্তে ভারতের কোনও উত্তর-পূর্ব রাজ্যে রয়েছেন, তাঁদের সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে বিক্ষোভ হচ্ছে। খবরে জানা গেছে, ভারতের উত্তর-পূর্ব, বিশেষ করে আসাম ও ত্রিপুরাতে বিক্ষোভ বড় আকার নিয়েছে। গুয়াহাটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে ও আসামের ১০ জেলায় মোবাইল পরিষেবা বন্ধ। তাই এই এলাকায় বেড়াতে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন পর্যটকরা।’

এতে আরও বলা হয়েছে, কারও যদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোনও কারণে সেখানে যেতেই হয়, তাহলে যেনও তারা এই নির্দেশিকায় জানানো সব বিষয় মাথায় রাখেন ও যে যে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে তা মেনে চলেন। এছাড়া তিনি বা তারা যেন সবসময় ব্রিটিশ পর্যটন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তাতেও প্রায় একই কথা লেখা রয়েছে। তবে তারা আসামে এই মুহূর্তে কাউকে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
নতুন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্য। ইতোমধ্যেই আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুরের একাধিক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা। রাজপথে বিক্ষোভে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী।

বৃহস্পতি রাতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরেই দেশের আইনে পরিণত হয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল। তারপর থেকেই সহিংসতা বেড়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে। প্রতিবাদের আগুনে বেশি জ্বলছে আসাম ও ত্রিপুরা। এই পরিস্থিতিতে এই সমস্ত অঞ্চলে ভ্রমণের সময় গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হতে পারে যেকোনও সময়।
নাগরিকত্ব (সংশোধিত) আইন বিরোধী বিক্ষোভে গত কয়েকদিন ধরে অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে আসাম। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আটক করা হয়েছে সহস্রাধিক মানুষকে। গ্রেফতার হয়েছেন ৬৫ জন। গোলমাল থামাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার আসামে পুলিশের গুলিতে ৫ আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে। গুয়াহাটির লাসিতনগরে গুলি চালানোয় মৃত্যু হয় দীপাজ্জ্বল দাসের। তিনি গুয়াহাটির সৈনিক ভবনের ক্যান্টিনের কর্মী। নিহত যুবকের বাড়ি আসামের ছয়গ্রামে। গুয়াহাটিরই হাতিগাঁও এলাকার শঙ্করপথে আন্দোলনকারীরা টানা পাথর ছুড়তে শুরু করলে এক সময় গুলি চালায় পুলিশ। তাতে আরও এক আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়। তৃতীয় বার গুলি চালানো হয়েছে গুয়াহাটিরই বৈশিষ্ট্যের নতুন বাজারে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘটনায় নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসন আসামের অন্তত ১০টি জেলায় আরও ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। গুজব রুখতে বুধবার ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তপ্ত আসামে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হয় সেনাবাহিনীকে। গুয়াহাটির ইউনিফায়েড কমান্ডারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওদালগুড়ি, শোণিতপুর, ডিমহাসসহ বেশ কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপারদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের এই অশান্ত পরিবেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলও। শুক্রবার বাংলাদেশের যুগ্ম কমিশনারের গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর খবর প্রকাশ্যে আসে। ওই দিনই ভারত সফর বাতিল করেন দুই বাংলাদেশি মন্ত্রী। আগামী সপ্তাহে গুয়াহাটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্মেলন স্থগিত রাখছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরও দাবি করেছে, দেশ থেকে মুসলিম নাগরিকদের সরাতে ভারতের এই নতুন নাগরিকত্ব আইন যথেষ্ট ‘বৈষম্যমূলক’। সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ওয়াল



 

Show all comments
  • ash ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:৩৭ পিএম says : 0
    ASAM SHOULD BREAK WAY FROM INDIA ! CALL FOR INDEPENDENT NATION
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ