Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ২৫ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:৪৭ পিএম

বর্ণবাদী ও মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশের পর ভারতজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবারেও ব্যাপক সংখ্যক লোক এই আইনের প্রতিবাদে সড়কে নেমে আসছেন বলে খবরে বলা হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, রাজধানী নয়াদিল্লিতে রোববার রাতভর সংঘর্ষ হয়েছে। আর উত্তরপূর্ব ভারতে এ পর্যন্ত নিহত বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও এনডিটিভির খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তনের অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে এই আইনটি পাশ করা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ২০ কোটি মুসলমানকে কোণঠাসা করতেই নতুন এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় উত্তরপূর্বাঞ্চলে হাজার লোক রাস্তায় নেমে আসেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই সেখানে দাঙ্গা ও প্রাণঘাতী সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া দিল্লি, আলীগড়, হায়দারাবাদ, মুম্বাই, পাটনা ও রায়পুরেও সহিংসতা ঘটেছে।

রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের বাইরেও হাজার হাজার লোককে বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে।

চারটি বাস ও দুটি পুলিশের বাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, ধরপাকড় ও আটক করেছে পুলিশ।

তারা জানিয়েছে, অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সকালে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলছে, তারা কোনো সহিংসতায় জড়িত ছিল না। তারা বলেন, আমরা ফের দাবি করছি যে আমাদের বিক্ষোভ ছিল অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। সহিংসতায় কেউ জড়িত থাকলে আমরা তার নিন্দা জানাই।

জামিয়ার ভিসি নাজমা আখতারও পুলিশের নির্মমতার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে চড়াও হয়েছে পুলিশ, সেটা ঠিক হয়নি।

উত্তরপ্রদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, আলীগড়ে বিক্ষোভের জের ধরে পশ্চিমের কয়েকটি অংশে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হচ্ছে আলীগড়।

শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সংহতি জানিয়েছেন বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাপক মেরুকরণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে ভারতে ফ্যাসিবাদের বিস্ফোরণ ঘটবে।

জামিয়া মিলিয়ার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস ও মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সোমবার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে দেশটিতে বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রভূমি উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বহু আগ থেকেই নৃতাত্ত্বিক উত্তেজনা ও ক্ষোভ চলছিল। তারা মনে করেন, এই আইনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হাজার হাজার লোক– যাদের অধিকাংশই হিন্দু– সেখানে নাগরিকত্ব নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানে ভাগ বসাবে।

এতে তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ও হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার রাতে আসামে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, ভারতের সংবিধানে রক্ষিত সমঅধিকারের প্রতিশ্রুতি এই আইনের মাধ্যমে খর্ব হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আর দেশজুড়ে এই বিক্ষোভের জন্য বিরোধী দল কংগ্রেসকে দায়ী করছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোদির ডানহাত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

তিনি বলেন, আমাদের ভাই-বোনদের সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও রাজনৈতিক অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।



 

Show all comments
  • মাহমুদুল মান্নান তারিফ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:৩৮ পিএম says : 0
    ভারতে দিনদিন মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে দেখে সহ্য হচ্ছে না মোদি দাদার তাই তিনি হিংসার বশবর্তী হয়ে দেশকে মুসলিম শূন্য করতে চাচ্ছেন!
    Total Reply(0) Reply
  • মাহমুদুল মান্নান তারিফ ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:৩৭ পিএম says : 0
    ভারতে দিনদিন মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে দেখে সহ্য হচ্ছে না মোদি দাদার তাই তিনি হিংসার বশবর্তী হয়ে দেশকে মুসলিম শূন্য করতে চাচ্ছেন!
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন