Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে এরদোগানের বৈঠক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:০৫ পিএম

ত্রিপোলি অনুরোধ জানালেই লিবিয়ায় সৈন্য পাঠাবে তুরস্ক। শনিবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের এমন ঘোষণার পরদিনই ইস্তাম্বুলে এসে তার সাথে বৈঠক করলেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফয়েজ আল-সরাজ। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক এই বৈঠকটি ইস্তাম্বুলের অটোমান-যুগের ডলমাবাচ প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকের বিষয়ে তুর্কি কর্তৃপক্ষ বিশদ কোন তথ্য প্রকাশ করেনি।

গত ২৭ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে তুরস্কের সঙ্গে সুরক্ষা, সামরিক সহযোগিতা এবং সমুদ্রসীমা প্রতিরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে লিবিয়া। যার মাধ্যমে লিবিয়া সরকার তুরস্ককে দেশটিতে সেনা পাঠানোর অনুরোধ করতে পারবে। লিবিয়াকে পুলিশ, সামরিক, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দেয়ার বিষয় নিয়ে চুক্তিটি শনিবার তুর্কি পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়েছে। সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে তুরস্কের সাথে সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য লিবিয়া-সহ আরব লিগের আহ্বান সত্ত্বেও এই চুক্তি সাক্ষরিত হয়। গ্রীস ও সাইপ্রাস সহ বেশ কয়েকটি দেশ তুরস্ক-লিবিয়া চুক্তির তীব্র নিন্দা করেছিল।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তুরস্ক সৈন্য পাঠালে উত্তর লিবিয়ার সামরিক ভূমিপুত্র খলিফা হাফতারের বাহিনীর সঙ্গে লিবিয়া সরকারের সামরিক সংঘাত আরও বাড়বে। হাফতার এখন জাতীয় সংহতির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে লিবিয়া অভিমুখে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

হাফতার বাহিনীকে এই লড়াইয়ে সমর্থন দিচ্ছে প্রতিবেশী মিসর ও পারস্য উপসাগর সংলগ্ন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। ফলে তুরস্কের সমর্থনে লিবিয়া সরকার হাফতার বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে এই দুই দেশও তাতে যোগ দিবে। ফলে বৃহৎ এক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই চুক্তির মধ্যে সামুদ্রিক সীমানায় সহযোগিতা নিয়ে যা বলা আছে তার ফলে ভূমধ্যসাগরে পূর্ব দিকেও তুরস্ক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এই এলাকায় যে বিশাল গ্যাস মজুদ সম্প্রতি আবিষ্কার হয়েছে, তার ফলে আশেপাশের দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক তেল সংস্থাগুলো এই এলাকা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

রোববার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানতে এরদোগান জানান, ‘কী উদ্যোগ নেবে সেই সিদ্ধান্ত তুরস্ক একাই নেবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে বলেছি যে আমরা লিবিয়ায় সব ধরণের সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার স্ট্রংম্যান হাফতার জিএনএ সরকারের কাছ থেকে ত্রিপোলি মুক্ত করতে ‘সর্বান্তক যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জিএনএর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফাতি বাশাঘা বলেছিলেন যে তার সরকার হাফতার নেতার যে কোনও পাগলামীর প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত। সূত্র: নিউজ রিপাবলিক।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ