Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

রাজাকারের তালিকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত --- মির্জা ফখরুল

রাজধানীতে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম | আপডেট : ৭:২৬ এএম, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

রাজাকারের তালিকা উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাজাকারের যে তালিকা করা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। দৃষ্টিভঙ্গিটা রাজনৈতিক। তারা মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক একটা প্রোডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করে, এটা তাদের একটা প্রোডাক্ট। ঠিক একইভাবে আজকে এই রাজাকারের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা এই সমস্ত তৈরি করে আসল মুক্তিযোদ্ধাদের, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে, প্রকৃত রাজাকার যারা তাদেরকে বাদ দিয়ে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে পারে সেই ধরণে তালিকা প্রস্তুত করতে চায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রকৃত রাজাকারদের বাদ দিতেই সরকার পাকিস্তানিদের তৈরি করা তালিকা প্রকাশ করেছে। স্বাধীনতার ঠিক ৪৮ বছর পরে কী প্রয়োজন হলো তালিকা তৈরি করার? আবার যে তালিকা করেছেন সেখানে বলছেন অনেক ভুল আছে। ওটা পাকিস্তানিদের তৈরি করা তালিকা। তাহলে পাকিস্তানিদের তৈরি করা তালিকা দিয়ে আপনি রাজাকারের তালিকা দেবেন- সেটা আপনার তালিকা তো হবে না, এদেশের তালিকা তো হবে না।

গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সোয়া তিনটায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিকাল তিনটায় বিজয়র‌্যালি শুরু হয়ে শান্তিনগর মোড় হয়ে আবার পল্টনের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। বর্ণাঢ্য ব্যানার-ফেষ্টুন-জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী এই র‌্যালিতে অংশ নেয়। র‌্যালীতে বড় আকারের জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা ও ব্যান্ড সঙ্গীতের দলও ছিলো। কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোঁরা মোড় থেকে যখন র‌্যালি শুরু হয় তখন নয়াপল্টন থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত সড়কে নেতাকর্মী-সমর্থকদের ঢল নামে, তিল পরিমাণ ধারণের ঠাঁই ছিলো না ওই সড়কে। র‌্যালি শুরু হওয়ার পর অতি কম সময়ের মধ্যে শান্তিনগরে মোড়ে পৌঁছায় র‌্যালির প্রথম ভাগ তখন শেষ ভাগ ছিলো নয়াপল্টনের সামনেই।
বিজয় দিবস উপলক্ষে পূর্বঘোষিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিতে বেলা ১১টা থেকেই নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হতে থাকেন। দুপরের পর থেকেই খÐ খÐ মিছিল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে আসতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি সম্বলিত ফেস্টুন, প্লেকার্ড এবং মুখে মুখে ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্লোগান। শোভাযাত্রার নির্ধারিত সময় বেলা ২টার আগেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের পরে কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের উপর নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে উঠেন এবং নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেদনা-ক্ষোভ-ব্যথা নিয়ে আমরা এই বিজয় র‌্যালিতে অংশ নিচ্ছি। আজকের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেয়ার কথা আমাদের নেত্রীর। একই সঙ্গে স্মরণ করতে চাই- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যিনি সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে একটা হতাশ জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। যখন রাজনৈতিক নেতারা পালিয়ে গিয়েছিলো তখন তিনি সামনে এসে মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা করে আমাদের যুদ্ধে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। আমরা স্মরণ করতে চাই মুক্তিযোদ্ধাদের যারা তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছিলেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি। এই একটি সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার জন্য সারা দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। এই অন্যায়-অত্যাচার, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে না পারলে আমরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবো না, আমাদের এদেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো না, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারবো না।
মির্জা আব্বাস, আমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, বিজয় অর্জন করেছিলাম, আজকে আমাদের সেই বিজয়ের আনন্দ ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। এই বিজয় দিবসে আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে বন্দি আছেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকে আমাদের উল্লাসের দিন নয়, আমাদের ভাববার দিন- গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এদেশের জেলখানায় জেলখানায় আবদ্ধ রেখে আমাদের এই উল্লাস কতটুকু মানাসই। আসুন আমরা মরি বাঁচি, আমরা ডু অর ডাই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি, বাংলাদেশকে মুক্ত করি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের পরিচালনায় সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানও বক্তব্য রাখেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর র‌্যালী শুরু হয়। বিএনপি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটি সদস্যরা পায়ে হেটে র‌্যালীতে অংশ নেন।
র‌্যালীতে বিএনপির মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, কামরুজ্জামান রতন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শিরিন সুলতানা, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, সেলিম রেজা হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল আউয়াল খান, আব্দুল খালেক, হারুনুর রশীদ, আমিরুজ্জামান শিমুল, অঙ্গসংগঠনের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, কাজী আবুল বাশার, বজলুল বাসিত আনজু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, আনোয়ার হোসেইন, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, আবুল কালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, হাসান জাফির তুহিন, ফজলুর রহমান খোকনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা ছিলেন।



 

Show all comments
  • Md. Nurul Amin Chowdhury ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩:০৫ পিএম says : 0
    রাজারের তালিকা সংশোধনের বিষয় নয়। প্রকৃতভাবে যারা রাজাকার ছিলেন, বদর বাহিনীর সদস্য ছিলেন, তাদেরকে নিয়েই তাদের নিয়োগ কর্তৃপক্ষ তখনকার (১৯৭১ সাল) পাকিস্তানী সরকার তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। সে তালিকার ভিত্তিতেই তাদেরকে বেতন ভাতাও দেয়া হয়েছিল। নিরপেক্ষতার দৃষ্টিতে এটা সংশোধনযোগ্য নয়।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন