Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭, ০৬ সফর ১৪৪২ হিজরী

ব্যাংক-ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের যৌথ কাজে গুরুত্বারোপ বিআইবিএমের আলোচনা সভা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গোলটেবিল আলোচনায় ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করলে গ্রাহক সেবার মান বাড়বে। গ্রাহকরা নতুন নতুন সেবা উপভোগ করতে পারবে। একই সঙ্গে আর্থিক অর্ন্তভ’ক্তি অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘ফিনটেক অ্যান্ড রেগটেক : পসিবল ইমপ্যাক্ট অন ব্যাংকিং সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম’র মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএম’র প্রফেসর এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন ও পরামর্শ এবং প্রশাসন ও হিসাব) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী।
বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বিআইবিএম’র নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএম’র ড. মোজাফফর আহমদ চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক প্রফেসর ড. বরকত-এ-খোদা; বিআইবিএম’র সুপারনিউমারারি প্রফেসর এবং পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধূরী; আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম; বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশিয়ালিস্ট এ কে এম আব্দুল্লাহ।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে ফিনটেক এবং রেগটেক বিষয়ে সচেতনতা জরুরী। কেননা ব্যাংকিং খাতে পরিবর্তিত প্রযুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে সচেতনতা থাকলে ব্যাংক বা আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।
এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্বক্ষণিকভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করছে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে গাইডলাইনও দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিট কয়েনের ব্যবহার বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি স্টেক হোল্ডারদের মধ্যে সচেতনতাও বাড়ানো হয়েছে। ই-ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও জোরদারভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রফেসর ড. বরকত-এ- খোদা বলেন, আইটি খাতে ব্যয় করলে এখান থেকে আয়ের পাশপাশি চলমান খরচ আরও বেশি সাশ্রয় করা সম্ভব। এ কথা ব্যংক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বোঝাতে হবে।
হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ফিনটেক এখন বাস্তবতা। বর্তমানে একটি প্রযুক্তি জ্ঞান সমৃদ্ধ একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছি। তার জন্যে নতুন নতুন প্রযুক্তি আত্মস্থ করতে হবে। ব্যাংকিং অনেক বেশী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। পুরানো ধ্যান ধারণাকে কেড়ে ফেলে দিয়ে প্রযুক্তি নির্ভর সেবা নিয়ে আসতে হবে যুগের দাবীর সাথে তাল মিলিয়ে। ব্যাংক যত সত্ত্বর তা গ্রহণ করবে তত উত্তম। প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং পরষ্পর সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তিকে আরও বেশী অনুশীলনের মাধ্যমে আমাদের জনবল কে সমৃদ্ধ করতে হবে।
মোমিনুল ইসলাম বলেন, আর্থিক খাতের অনেক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে ব্লক চেইন। এর মাধ্যমে ভূমি রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও কর আদায় এমনকি ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণও সহজ হবে।
এ কে এম আব্দুল্লাহ বলেন, ব্যংকিং খাতে অনেক ইস্যু আছে যেখানে সব ব্যাংক পারষ্পরিক সংযোগ ও সহযোগিতা করে কাজ করতে পারে। এতে ব্যাংকগুলো মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিআইবিএমের আলোচনা সভা
আরও পড়ুন