Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ময়মনসিংহে ধানের ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত কৃষক

ফায়দা লুটছে ফড়িয়া-মধ্যস্বত্বভোগীরা

মো. শামসুল আলম খান | প্রকাশের সময় : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩:৩৫ পিএম

ময়মনসিংহ ধানের ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত কৃষকরা। এতে কৃষক পর্যায়ে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সরকারী ধান ক্রয়ে ফায়দা লুটছে স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্তভোগীরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারী ভাবে অপ্রতুল পরিমান ধান সংগ্রহ এবং ধান ক্রয় প্রক্রিয়ায় ফড়িয়া-মজুদদারদের নিয়ন্ত্রণের কারণে ধানের ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন কৃষক সমাজ। কিন্তু বৃদ্ধি পাচ্ছে চালের ম্যূল্য। চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ ধানের দাম নেই। অথচ এক মন ধান উৎপাদনে খরচ করতে হয়েছে এক মন ধানের মূল্যের চেয়েও বেশি।
কৃষকরা আরো জানায়, মৌসুম অনুযায়ী বর্তমানে এক মন ধানের মূল্য হবার কথা এগারো শ থেকে বারো শ টাকা। কিন্তু সেই ধান মৌসুমের শুরুর দিকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে ক্ষুদ্র কৃষক। কারণ অনেকেই ধার-দেনা করে ধান আবাদ করছেন। এখন দেনা শোধ এবং পরিবারের প্রয়োজনেই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ধান বিক্রি করতে হয়। ফলে ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হচ্ছে ক্ষুদ্র কৃষকরা।
ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ড. মোছা: নাসরিন আক্তার বানু জানান, ময়মনসিংহ জেলায় মোট কৃষক রয়েছে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৬জন। তাদের মাধ্যমে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৭১ হাজার ৩০৯ হেক্টর। কিন্তু নানান কারণে শেষতক ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে ধান। এতে ধান উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার ৭২৮ মেট্রিক টন।
এদিকে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সরকারী ভাবে ময়মনসিংহ জেলায় ধান ক্রয় করা হবে ২৭ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন। এ হিসেবে প্রায় ৩০ হাজার কৃষকের কাছ থেকে সরকারী ভাবে ধান সংগ্রহ করা যাবে। কিন্তু ময়মনসিংহ জেলায় মোট কৃষক রয়েছে ১০ লাখের অধিক। ফলে সবার কাছ থেকে সরকারী ভাবে ধান ক্রয় করা সম্ভব নয়। তিনি আরো জানান, ধান ক্রয় অভিযান ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। চলবে নতুন বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। ওই সময়ে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার জন্য তালিকা তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু তালিকাভ’ক্ত সব কৃষকদের কাছ থেকে সরকারী ভাবে ধান ক্রয় করা সম্ভব নয়। তাই ওই তালিকা থেকে লটারীর মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আশা করছি স্বচ্ছতার সাথেই নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ধান ক্রয় অভিযান শেষ করা সম্ভব হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ