Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ১১ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

আরো এক বছর সময় পেল চামড়া শিল্প নগরী

একনেকে ৪৬১২ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

পরিবেশবান্ধব শিল্প নগরী স্থাপনের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্পনগরীকে সাভারে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছিল সেই ২০০৩ সালে। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি সাভার চামড়া শিল্পনগরীর। এরইমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিন বার। কিন্তু ওই সময়েও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এবার চতুর্থবারের মতো প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, এবার শেষবারের মতো সময় দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক)। এরপর আর সময় দেওয়া হবে না। এ সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, হাজারীবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১৫৫টি চামড়া শিল্পকে পরিবেশসম্মত স্থানে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে ১৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বিসিক। হাজারীবাগে ট্যানারির কারণে প্রচুর পরিমাণে পরিবেশ দূষণকারী তরল ও কঠিন বর্জ্য নির্গত হওয়ার কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে যায়। প্রকল্পটি নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, বুড়িগঙ্গা নদীকে রক্ষা করা। একইসঙ্গে হাজারীবাগে পরিবেশ দূষণকারী কারখানাগুলোকে ঢাকার অদূরে সাভারে আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাসহ একটি চামড়া শিল্পশিল্প নগরী স্থাপন করা।

এরপর তিন দফা প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে। ১৭৬ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৯ কোটি টাকা। অবশ্য গতকাল প্রকল্পটি একনেক সভায় সংশোধিত আকারে যখন অনুমোদিত হয়, তখন প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ৭৯ কোটি টাকা থেকে কমে গেছে এক হাজার ১৫ কোটি টাকায়।
বিসিক থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধানাগার (সিইটিপি) নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। ২০২০ সালের জুনের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তিনটি ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ বাকি আছে। সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) কাজও বাকি আছে। সে কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে এক লাখ চালককে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল একনেক সভায় ২৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান নামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের এক লাখ দুই হাজার ৪০০ গাড়ি চালককে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর তাদেরকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাকরি দেওয়া হবে। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, ‘বিদেশে যারা কাজ করতে যায় বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে গাড়ি চালকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এক লাখ ভালো মানের চালক পাওয়া গেলে দ্রæতই তাদেরকে চাকরি দেওয়া সম্ভব। এটি শুধু সৌদি আরবেই, অন্য দেশ তো আছেই। প্রশিক্ষণ শেষের সঙ্গে সঙ্গে তারা চাকরি পেয়ে যাবে।

একনেক সভায় মোট নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে চার হাজার ৬১২ কোটি টাকা। পুরো টাকাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যোগান দেওয়া হবে। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ৪০১ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, ৩৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার এবং বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ, ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ, ৯৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন’ ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি’র জন্য অফিসার্স মেস নির্মাণ প্রকল্প।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চামড়া


আরও
আরও পড়ুন