Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

দৃষ্টি সতেজ রাখতে শীতের সবজি

ডা: মাও: লোকমান হেকিম | প্রকাশের সময় : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৭:১৯ পিএম

বাজারে শীতকালীন নানা সতেজ শাক-সবজি আসতে শুরু করেছে। শীতের শাক-সবজি পুষ্টিগুণে ভরপুর। আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন কিংবা ফ্যাট এর পাশাপাশি মিনারেলস এবং ভিটামিনের ভূমিকা অন্যতম। শরীরের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে শীতকালীন সতেজ শাক-সবজিতে। তাই শরীরকে ফিট রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত শাক-সবজি গ্রহণ। আমাদের দেশে শীতের সবজিতে এখন বাজার সয়লাব। আমরা জানি, মূল খাদ্যোপাদান হলো ছয়টি। শর্করা, আমিষ বা প্রোটিন, স্নেহ বা তৈলজাতীয়, ভিটামিন, খনিজ ও পানি। তবে সব খাবারে সব খাদ্যোপাদান থাকে না। আবার বিদ্যমান উপাদান সব খাবারে সমানভাবে থাকে না। তাই প্রয়োজন মেটাতে কোন খাবারে কী খাদ্যোপাদান আছে, তা জানতে হবে এবং সেভাবে খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন-শরীরের শক্তি জোগায় কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা এবং তৈলজাতীয় খাদ্য। আবার শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজন আমিষ। সঙ্গে তৈলজাতীয় খাবার। 

শরীর কর্মক্ষম রাখতে অবিরাম বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়া-বিক্রিয়া চলতে থাকে। এতে চলমান রাখতে বিশেষভাবে প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ভিটামিন ও খনিজ। এর মধ্যে চোখের জন্য বিশেষ প্রয়োজন ভিটামিন-এ, সি, ই এবং খনিজ লিউটিন। চোখের স্পর্শকাতর স্নায়ু হলো রেটিনা, যা আমাদের দেখতে সাহায্য করে। রেটিনার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটির নাম মেকুলা। এটিকে সুস্থ রাখতে লিউটিন হলো এক অপরিহার্য উপাদান। দেখার জন্য রেটিনা সর্বক্ষণ আলোর সঙ্গে একধরনের ক্রিয়া-বিক্রিয়া লিপ্ত থাকে। এ রাসায়নিক কর্মকান্ডে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো বিটা-ক্যারোটিন বা ভিটামিন-এ। রেটিনায় আলোর এই কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন বা ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলে একধরনের কেমিক্যাল বর্জ্য বা ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয়, যা মেকুলার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দ্রুত এসব ফ্রি রেডিক্যাল নিষ্ক্রীয় ও অপসারিত না হলে স্থায়ীভাবে মেকুলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রেডিক্যাল নিষ্ক্রিয়করণ ও অপসারণের এ জরুরি কাজটি সম্পাদন করে থাকে ভিটামিন-এ, সি,ই। এগুলোকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও বলা হয়ে থাকে। তাই এটি খুবই সঙ্গত, চোখের প্রয়োজনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ভিটামিন-এ,সি,ই সংবলিত খাবার এবং সঙ্গে লিউটিন সম্পর্কিত খাবারগুলো প্রাধান্য দেয়া। ভিটামিন-এ প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান পালংশাক, লেটুসপাতা, গাজর, মিষ্টিকুমড়া ইত্যাদিতে। আবার নিউটিনসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে পালংশাক, লেটুস পাতা, গাজর, কমলা, বাঁধাকপি ও ফুলকপি উল্লেখযোগ্য। টমেটো, মিষ্টিকুমড়া, কমলা, লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টিকুমড়া, কাঁচা ছোলা ইত্যাদিতে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়। এই শীতে খাবার তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন এবং পরিবার, বিশেষ করে শিশুদের শাকসবজি গ্রহণে উৎসাহিত করুন। ভিটামিন সি’র উৎস হিসেবে প্রতিদিন কিছু পরিমাণ টক জাতীয় ফল খাওয়া ভাল। তাই বাসি, ভেজাল, রঙ মেশানো ও কীটনাশকযুক্ত খাবার পরিহার করুন। রাতকানা বা অন্ধত প্রতিরোধে ক্যারোটিনযুক্ত খাবার গাঢ়/রঙিন শাকসবজি, ফল ও ভুট্রা নিয়মিত খাওয়ার অভ্যেস করা দরকার। সবশেষে এ সত্যটি মনে রাখুন-নিজের যত্ন না নিলে নিজে অন্যের ওপর ভরসা মিছে।

চিকিৎসক-কলামিস্ট, মোবা : ০১৭১৬২৭০১২০



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শীত

২৬ জানুয়ারি, ২০২০
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
২৬ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন