Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭, ০৬ সফর ১৪৪২ হিজরী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দূষণের রাজা ড্রাম্প ট্রাক

কামাল আতাতুর্ক মিসেল | প্রকাশের সময় : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত ঢাকনাবিহীন ড্রাম্প ট্রাকে করে অবাধে চলছে বালু ও মাটি পরিবহন। এতে একদিকে মহাসড়কের মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে যেমন দেখা যায় বালু ও মাটির চিহ্ন পাশাপাশি চলন্ত ট্রাকে থাকা মাটি, বালু বাতাসে উড়ে সৃষ্টি করছে বায়ু দূষণ।

বায়ু দূষণের কারণে মানুষ নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফুসফুসের রোগের অন্যতম উপাদান হলো গাড়ির বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং বায়ু দূষণ। আর এই বায়ু দূষণের কবলে পড়ছে বিভিন্ন যানবাহনের লাখ লাখ যাত্রী, চালকসহ পথচারীরা। আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে। বিষয়টি প্রকাশ্যে হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার।

মহাসড়ক পথেই চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে দেশের সিংহভাগ আমদানি-রফতানির কাজ হয়। এছাড়া পর্যটন এলাকা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই, রামগড়, কক্সবাজার, টেকনাফ ও দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে দেশ-বিদেশের অধিকাংশ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের প্রধান ও একমাত্র সড়ক পথের যোগাযোগ এই মহাসড়ক হয়েই। তাছাড়া রাজধানী ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর-পশ্চিামাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করছে মানুষ এই সড়ক পথে।

প্রতিদিন এই মহাসড়ক পথে কমপক্ষে ২৭ হাজার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লং ভেহিকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করে। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের আশপাশে রয়েছে জেলার দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং, কুমিল্লা আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা। এসব উপজেলার বিভিন্নস্থানে থাকা ইটভাটা, হাউজিং প্রকল্প, ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি নির্মাণ বা নিচু জমি ভরাটের কাজে শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিনই এই মহাসড়ক হয়ে উল্লেখিত উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্নস্থানের ফসলী জমি, গোমতী নদীর ভিতরসহ বিভিন্নস্থানের খাল, পুকুর থেকে মাটি এবং গোমতী ও মেঘনা নদী থেকে বালু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব মাটি, বালু প্রতিদিনই ড্রাম্প ট্রাকে করে মহাসড়ক হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা, কুমিল্লা-ঢাকা-কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী একাধিক পরিবহনের বাস চালক ও যাত্রীরা জানান, চলন্ত ট্রাক থেকে উড়ে আসা বালুর কারণে বাসের জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত মাটি ট্রাক থেকে পড়ে মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে মাটির স্তুপ জমছে প্রতিদিন। মহাসড়কে চলাচলকারী স্টারলাইন পরিবহনের যাত্রী শাহাজাদা এমরান বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমি এই পথে চলাচল করি। খোলা ট্রাকে বালু মাটি পরিবহনে তীব্র বায়ু দুষণের কবলে পড়তে হয় যাত্রী ও চালকদের।

তিনি আরও বলেন, প্রায়ই বাসের জানালা বন্ধ রাখতে হয়। এভাবে কুমিল্লা অংশে মাটি ও বালু পরিবহনে মহাসড়কের ফোরলেনের দু’পাশ জুড়ে বালুর স্তুপের পাশাপাশি সড়কের উপরেও অনেকস্থানে মাটির চিহ্নে বিবর্ণ হয়ে গেছে মহাসড়ক। মহাসড়কের দু’পাশের মাইলের পর মাইলজুড়ে শুধু বালি আর ময়লা আবর্জনা। এ বিষয়ে পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লার সভাপতি ডা. মোসলেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের অন্যান্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন