Inqilab Logo

শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৩ মুহাররম ১৪৪৪

বৃষ্টির পিছু তীব্র শীত

সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত যশোরে ৫ মি.মি. ষ তেঁতুলিয়ায় ৫.৭ ডিগ্রি

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

প্রায় মাঝ-পৌষের বৃষ্টি। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজ শুক্রবারও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সাথে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। শীত ঋতুতে এই অকাল বর্ষণের পিছু পিছু আসছে তীব্র আকারের শৈত্যপ্রবাহ। আরও জেঁকে বসবে শীত। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব এবং ঢাকা বিভাগসহ মধ্যাঞ্চলে হাঁড় কাঁপানো প্রচ- শীত ও ঘন কুয়াশা পড়তে পারে আসছে সপ্তাহ থেকে। এতে করে থমকে যেতে পারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জানুয়ারির গোড়াতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে পারদ ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে যেতে পারে। বাড়তে পারে কুয়াশার ঘনত্ব। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া নেটওয়ার্ক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ সূত্রে এ কথা জানা যায়।

গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা আর মেঘের সাথে হালকা কিংবা ঝিরি ঝিরি ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক জেলায় জনজীবনে ঘটে ছন্দপতন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় যশোরে ৫ মিলিমিটার। এ সময় ঢাকা, ফরিদপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে হালকা ও গুঁড়িবৃষ্টি, গোপালপঞ্জে এক মি.মি., খুলনা, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের কয়েক জায়গায় অস্থায়ী হালকা বৃষ্টি ঝরেছে। গতকাল সকালে দেশের সর্ব-উত্তরের জনপদ তেঁতুলিয়ায় ঘন কুয়াশা ও কনকনে হাওয়ার মধ্যেই পারদ নেমে আসে ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা চলতি শীত মৌসুমে দেশে এ যাবৎ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগের দিন (বুধবার) তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ছিল ৬.২ ডিগ্রি সে.। গতকাল কক্সবাজারে ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬.৮ ডিগ্রি সে.। ঢাকার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২১.৮ এবং সর্বনিম্ন ১২.৫ ডিগ্রি সে.। চট্টগ্রামে তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ২৬.৬ এবং সর্বনিম্ন ১৩.৫ ডিগ্রি সে.।

গতকাল রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি কিংবা তারও নিচে, যা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর্যায়ে। দেশের সর্বোচ্চ ৫ মি.মি. বৃষ্টিপাতের পর যশোরে দিনের তাপমাত্রার পারদ নেমে যায় ১৬.৬ ডিগ্রি সে.। যশোরে ভোরের তাপমাত্রা ছিল ১১.৮ ডিগ্রি সে.।

ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চল, ফরিদপুরসহ খুলনা, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে দুপুর ও বিকেল থেকে বিক্ষিপ্ত হালকা কিংবা গুঁড়িবৃষ্টি শুরু হয়। থেমে থেমে বৃষ্টি নামে কোথাও কোথাও সন্ধ্যা অবধি। এরফলে দিনের তাপমাত্রা হ্রাস পায়। অনেক জেলায় আকাশ ছিল মেঘলা কিংবা আংশিক মেঘলা। দুপুরের দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তাঘাট কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে। তবে এতোদিন যাবৎ বাতাসে অসহ্য ধুলোবালি, ধোঁয়ার যন্ত্রণা থেকে মানুষ আপাতত রেহাই পায়। আজ শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত হালকা কিংবা গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় ভোর থেকেই গুঁড়িবৃষ্টির মতোই ঘন কুয়াশা ঝরেছে। এতে করে দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষজন ছাড়াও স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আবার অনেক জেলায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় দিনের বেলায় শীতের দাপট ছিল আগের কয়েকদিনের তুলনায় কম।

পৌষের প্রথম দু’তিন দিন পর থেকেই অব্যাহত ঘন কুয়াশার সাথে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, সেই সঙ্গে ধুলোবালির দূষণের কারণে ঘরে ঘরে এখন ঠা-াজনিত রোগী। হাসপাতাল-ক্লিনিক ডাক্তারের চেম্বারেও বেড়েছে রোগীর ভিড়। সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ হরেক রোগব্যাধিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকেই।
এদিকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ময়মনসিংহ, রাজশাহী, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ অঞ্চলসহ রংপুর বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশা থাকবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন।

পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। এরপরের ৫ দিনের শেষের দিকে আবারও হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টিপাতের পর তীব্র ধরনের শৈত্যপ্রবাহে কাঁপতে পারে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

যশোর থেকে, মিজানুর রহমান তোতা জানান : যশোরে প্রচ- শীতের মধ্যে কুয়াশা বৃষ্টি হয়। একদিকে শৈত্যপ্রবাহ অন্যদিকে কুয়াশা বৃষ্টিতে জনজীবন হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। বৃহস্পতিবার সকালে সূর্য গ্রহণে অন্ধকার ছিল। ধীরে ধীরে গাড়ো কালো অন্ধকার নেমে আসে চারিদিকে। এরপর শুরু হয় কুয়াশা বৃষ্টি। যশোরে দিনের বেলায় রাতের পরিবেশ বিরাজ করে। চারিদিকে অন্ধকারভাব, কুয়াশা বৃষ্টি পড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি। নিতান্ত জরুরি কাজকর্ম ছাড়া লোকজন বাইরে বের হয়নি।

অন্যদিকে, প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা রক্ষা করা কঠিন হচ্ছে। এই মুহূর্তে মাঠে মাঠে চলতি বোরো আবাদের জোর প্রস্ততি চলছে। বোরো বীজতলার চারা একটু বড় হওয়ার পরই রোপন শুরু হবে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছে বীজতলা। এতে বিবর্ণ ও রুগ্ন হচ্ছে চারা। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, কিছু চারা আক্রান্ত হয়েছে ঠিকই কিন্তু তাতে বোরো চারা সংকট বা আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৪৮লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের শৈত্যপ্রবাহে বীজতলা রক্ষার্থে পরামর্শ দিচ্ছেন বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. আকতারুজ্জামান দৈনিক ইনকিলাবকে জানিয়েছেন। তিনি জানান, শৈত্য প্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। শৈত্যপ্রবাহে মাঠে মাঠে কৃষিকাজকর্মের গতি অনেকটা কমে গেছে। সবজি, ফুল ও অন্যান্য কৃষিকাজে কৃষকদের মাটে উপস্থিতি ঘটছে কম।

খুলনা থেকে, আবু হেনা মুক্তি জানান : কখনও ঝড় ঝাপটা নদী ভাঙ্গন আবার কখনও জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় ঘের বাড়ি আর এখন তীব্র শীতে নাকাল উপকূলবাসী। দুর্ভোগের যেন শেষ নেই এ অঞ্চলের মানুষের। এক দুর্ভোগ কাটতে না কাটতেই আরেকটি বিপদ এসে হাজির হয় দুয়ারে। এ যেন “মরার উপর খাড়ার ঘা”। এভাবে প্রতিমূহুর্তে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেচে থাকে উপকূলবাসী। এবার শীতে অতীতের চেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা নামার আগেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে গোটা উপকুলীয় জনপদ। শীতের সাথে ঠা-া বাতাসে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষজন পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

খুলনাসহ উপকুলীয়াঞ্চলে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে উপকূলীয়াঞ্চলের মানুষরা শীতে কাতর হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড শীতের কারণে শিশু এবং বয়স্কদের বিভিন্ন প্রকার অসুখ দেখা দিয়েছে। গৃহপালিত পশুর দারুণ কষ্টের পাশাপাশি খামারিরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। অন্যদিকে খুলনায় প্রচ- শীতের মধ্যে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ-বালাই বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতলগুলোতে রোগীদের ভিড় বেড়েছে। এতে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। বিশেষ করে শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে শুধু খুলনা শিশু হাসপাতালেই ডায়ারিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত রোগে ২১৬ জন ভর্তি রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক মিঠুন দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে যেসব রোগী আসছে, তাদের বেশিরভাগের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছর। এদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি।

খুলনা শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলামিন বলেন, শীতের সময় ঠা-াজনিত রোগ নিয়ে শিশুরা একটু বেশি আসে। কিন্তু এ বছর হঠাৎ করে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ‘কোল্ড ডায়রিয়ায়’ আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাট সহ উপকুলীয়াঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় মৃদু শৈত্য-প্রবাহ শুরু হয়েছে। কুয়াশা এবং ধোঁয়াশার কারণে দিনের আলো কিছুটা কম দেখা গেছে। যার ফলে উপকুলীয়াঞ্চলে শীত জেঁকে বসতে শুরু করে।

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) উপজেলা সংবাদদাতা জানান : তীব্র শীত, ঘনকুয়াশা আর কনকনে বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় শ্রমজীবি লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

শীতের মোকাবেলা করতে রাস্তার পাশে ও বাসা-বাড়িতে খর-কুট জালিয়ে মানুষজন শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। শীতার্ত মানুষজন সরকারী-বেসরকারী সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘনকুয়াশা থাকায় বিভিন্ন সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন গুলো চলাচল করছে।

তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল আলম জানান, তেতুলিয়ায় শীতার্তদের প্রায় ৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে শীতার্ত মানুষের তুলনায় শীতবন্ত্র তুলনামুলকভাবে অনেক কম।

নীলফামারী সংবাদদাতা জানান : তীব্র ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো শীতে নীলফামারীর জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে পথ-ঘাট। মধ্যরাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বৃষ্টির মতো কুয়াশাপাত পড়ছে। খেটে খাওয়া মানুষজন শীত ও কুয়াশার কারণে কাজে যেতে পারছেন না।

দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও তেমন উত্তাপ ছড়াতে পাড়ছেনা। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে গতকাল বৃহস্পতিবার নীলফামারীর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ