Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৮ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

বিশ্বের নজর এড়াতে কাশ্মীরকে অশান্ত করতে পারেন মোদি : ইমরান খান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:৩১ পিএম

ভারতের মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব এনআরসি/সিএএ আইনকে ঘিরে দেশের ভেতরে তৈরি হওয়া অস্থিরতা থেকে বিশ্বের মনযোগ অন্যদিকে সরাতে আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিতে পারেন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু পাকিস্তান নরেন্দ্র মোদির যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ মোকাবেলায় প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ঝিলুম জেলার পিন্ড দাদন খানে এক জনসমাবেশে এসব কথা বলেছেন ইমরান খান। একই দিনে পাক সেনাবাহিনী বলছে, দেওয়া সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে গোলাবর্ষণে দুই পাক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
নিহত ওই দুই সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে ইমরান খান বলেন, সীমান্তে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে; সেটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।
তিনি বলেন, মোদি কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর উপত্যকার ৮০ লাখ মানুষকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এখন তিনি দেশে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা চালু করেছেন। ভারতের ২০ কোটি মুসলিমবিরোধী এই দুই আইনের বিপক্ষে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
ইমরান খান বলেন, আমি গত পাঁচ মাস ধরে বিশ্বকে বলে আসছি যে, মোদি-আরএসএস সরকার অধিকৃত কাশ্মীর এবং মুসলিমবিরোধী আইন থেকে বিশ্বের মনযোগ সরিয়ে নেয়ার জন্য আজাদ কাশ্মীরে গোলযোগ তৈরির মতো পদক্ষেপ নিতে পারেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া এই হুমকির ব্যাপারে আমাকে অবহিত করেছেন। জেনারেল বাজওয়া বলেছেন, ভারতের যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় পাক সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকার গত ১১ ডিসেম্বর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাসের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০১৪ সালে দেশটিতে ক্ষমতায় আসার পর এমন তীব্র বিক্ষোভ এবং বিরোধিতার মুখে প্রথমবারের মতো পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পার্সি এবং জৈন সম্প্রদায়ের সদস্যরা সে দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এ আইনে মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে একই ধরনের বিধান রাখা হয়নি।
সমালোচকরা বলেছেন, ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ভারতে বিভাজন তৈরি করতে এ নতুন নাগরিকত্ব আইন তৈরি করেছে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
বিতর্কিত এ আইনে মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে কিছু না বলায় ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের দাবানল বেশি ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
সূত্র : ডন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইমরান খান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ