Inqilab Logo

সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

কার্টিং মাস্টার কারিগররা মহাব্যস্ত

প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

কুমিল্লার টেইলার্সগুলোতে ছুটছে তরুণ-তরুণীরা
সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : ঈদ সামনে রেখে কুমিল্লা নগরীর নামি-দামি জেন্টস ও লেডিস টেইলার্সের কার্টিং মাস্টার ও কারিগররা মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মহিলারা থ্রিপিস আর পুরুষরা প্যান্ট, শার্টের পিস কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে ছুটছেন টেইলার্স দোকানে। এবারে রোজার শুরু থেকে নগরীর লেডিস টেইলার্স দোকানগুলোতে অর্ডারের চাপ বেশি। তবে জেন্টস টেইলার্সে অর্ডার গতবারের চেয়ে কমেছে। তারপরও দিন-রাত ধরে কার্টিং মাস্টার, সহকারী মাস্টারের হাত থেকে যেমন কাঁচি সরছে না তেমনি মেশিনে যেন হাত-পা চুম্বকের মতো লেগে রয়েছে কারিগরদের।
কুমিল্লা নগরীর লেডিস ও জেন্টস টেইলার্সগুলোতে সকাল থেকে রাত প্রায় ১২টা অবধি পছন্দের পোশাক তৈরি করতে তরুণ-তরুণীদের ভিড় লেগেই রয়েছে। ছেলেরা বডিফিটিং শার্ট ও ন্যারো প্লেইন পেন্ট সেলাইয়ের প্রতি এবারেও ঝোঁক রয়েছে। তবে জেন্টস টেইলার্সে গতবারের চেয়ে কাজের অর্ডার কম পড়ছে। তরুণ, যুবকরা এবারে রেডিমেইড শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্টের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। এরপরও জেন্টস টেইলার্সে তুলনামূলক সেলাই কাজ ভালোই হচ্ছে। এবারে মেয়েরা ঝুঁকেছে হালফ্যাশনের লংকামিজ ও রাউন্ড ফ্রগ সেলাইয়ের প্রতি। সেমিলং কামিজের সঙ্গে ডিভাইন টাইপের সালোয়ার সেলাইয়ের চাহিদাও রয়েছে এবারে। আর লং কামিজের সঙ্গে চুরিদার বা সোস সালোয়ারের চলন উঠেছে এবারে। কুমিল্লার নগরীর শপিংমল, বিভিন্ন মার্কেটসহ এলাকার অলিগলি, পাড়া মহল্লায় কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক জেন্টস ও লেডিস টেইলার্স রয়েছে। টেইলার্সগুলোতে সকাল থেকে কোথাও মধ্যরাত কোথাও ভোর পর্যন্ত কারিগরদের হাত-পায়ে চলে মেশিনে খট খট আওয়াজ তুলে পোশাক সেলাইয়ের বিরামহীন কাজ। বেশিরভাগ বড় আকারের টেইলার্সে ইলেকট্রনিক্স মেশিন আসায় কারিগরদের পরিশ্রম অনেকটা কমেছে। পোশাক সেলাই কাজে নগরীর পাঁচ শতাধিক টেইলার্সে ব্যস্ত সময় পার করছে চার হাজারেও বেশি কারিগর।
বেশিরভাগ টেইলার্স ঘুওে দেখা গেছে, কার্টিং মাস্টার, সহকারী কার্টিং মাস্টার ও কারিগরদের এক মুহূর্তের জন্য অবসর নেই। বিভিন্ন ফ্যাশনের সালোয়ার-কামিজ ও শার্ট, প্যান্ট সেলাইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কারিগররা। এবছর শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি ও থ্রিপিস সেলাইয়ের মজুরি বাড়ানো হয়েছে। টেইলার্স মালিকরা জানান, কারিগরদের মজুরি, দোকান ভাড়া, সুতা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্ডারের মজুরিদর কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। নগরীর মনোহরপুরের রয়েল ম্যানসনের অনু টেইলার্সের কার্টিং মাষ্টার আবদুল খালেক বাচন জানান, ‘এবারে মোটামুটি অর্ডার মিলছে। তবে গতবারের চেয়ে বেশি নয়। গার্মেন্টস বা ব্র্যান্ড আইটেমের প্রতি এবারে তরুণ, যুবকদের চাহিদা থাকায় সেলাই পোশাকের অর্ডার কম হচ্ছে।’
নগরীর মনোহরপুরের তাহের ম্যানসনের তিনতলায় নিউ শারমিন লেডিস টেইলার্সের কার্টিং মাস্টার আমজাদ জানান, ‘রোজার সপ্তাহখানেক আগ থেকেই মেয়েদের ঈদের পোশাকের অর্ডার আসা শুরু হয়েছে। অর্ডারে ভালোই সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কাজের চাপ গতবারের চেয়ে বেশি। এবারে বেশিরভাগই ক্যাটালগ অনুযায়ী কামিজ সালোয়ার সেলাইয়ের অর্ডার দিচ্ছে মেয়েরা। আর রাউন্ড ফ্রগের অর্ডারও বেশি হচ্ছে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কার্টিং মাস্টার কারিগররা মহাব্যস্ত
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ