Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

বিতর্কিত আইন নিয়ে বিক্ষোভ চলছেই, নিরাপত্তা জোরদার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২:৫৭ পিএম | আপডেট : ৪:২৬ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের সময় আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির বিরুদ্ধে ভারতে গৃহযুদ্ধ ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
বিক্ষোভে উত্তাল নয়াদিল্লি। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির রাজপথে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। এতে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। বিতর্কিত আইনটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ¯েøাগান দেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করেন তারা। এ সময় আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে।
একই প্রতিবাদে ব্যাঙ্গালুরুতে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ’ নারী। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের নারীরা অংশ নেন। এছাড়া ব্যাপকভাবে সমালোচিত মুসলিমবিরোধী আইনটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন ভারতের সাংবাদিকরাও। মুম্বাই প্রেসক্লাবের সামনে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমের সংবাদ মাধ্যমের ওপর বিজেপি সরকারের কড়াকড়ি আরোপের প্রতিবাদ জানান তারা।
সিনিয়র সাংবাদিক গুরবির সিং বলেন, যখন স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রতিরোধ সৃষ্টি করা হয়। যখন ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের জানার পরিধি কমিয়ে দেয়া হয় তখন মানুষ গুজবকে বিশ্বাস করতে শুরু করে। সমাজে বিভাজন এবং সহিংসতা বাড়তে থাকে। স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যোগাযোগ মাধ্যম স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ-সহিসংতায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর নেয়া পদক্ষেপের ভুয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ভারতে গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, আন্দোলকারীদের উসকানি দিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছেন তারা।
এদিকে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিয়ে সেনাপ্রধান যে মন্তব্য করেছেন তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের কোনো পার্থক্য নেই।
অন্যদিকে শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উত্তর প্রদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগম ঠেকাতে বাড়ানোর হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল। এছাড়া, বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।
ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভ ঠেকাতে বিভিন্ন রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বড় ধরনের সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। এসব বিক্ষোভে-সহিংসতায় নিহত হয়েছে সারাদেশে অন্তত ২৫ জন। এর মধ্যে শুধু উত্তর প্রদেশেই নিহত হয়েছে ২১ জন। গত শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজ্যটিতে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিনই বেশিরভাগ নিহত হয়। একারণে এই শুক্রবার জুমার নামাজের পর বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের জুমার নামাজের পর আন্দোলন নতুন করে ছড়ানোর আশঙ্কায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষেèৗসহ ২১ জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে লক্ষেèৗ তে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলেও সেখানে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সমাবেশ-জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। উত্তর প্রদেশে এই নিষেধাজ্ঞা এক সপ্তাহ ধরে জারি রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, এসব বিধিনিষেধ সত্তে¡ও জুমার নামাজের পর দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হবে আশা করা হচ্ছে।
উত্তর প্রদেশের পুলিশের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) পিভি রামাশাস্ত্রী বার্তাসংস্থা এএনআই’কে বলেছেন, ‘আমরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছি, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। একদিনের জন্য বিভিন্ন জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয়ের ওপরেও আমরা নজর রাখছি।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

২৩ অক্টোবর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন