Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ০৮ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ঘৃণা ছড়ানোয় উস্কানি বন্ধের আহ্বান

মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধের তদন্তে জাতিসংঘ বাজেটে বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশের সময় : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোয় উস্কানি বন্ধ করতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার গৃহীত ওই প্রস্তাবে গত চার দশকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নতুন এই প্রস্তাবকে মানবাধিকার নৈতিকতার বৈষম্যম‚লক ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দ‚ত। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার। তাদের ‘বাঙালি মুসলমান’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় নেপিদো। ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক জান্তা সরকার নৃগোষ্ঠীভিত্তিক নতুন নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করে। বিতর্কিত ওই বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। এছাড়া সেখানে যুগের পর যুগ ধরে বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেনা চৌকিতে হামলার জেরে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। ওই ঘটনায় চলতি মাসে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগের শুনানিতে অংশ নিয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবটি শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদন পেয়েছে। ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৩৪টি দেশই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৯টি। এছাড়া ২৮টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। অপরদিকে প্রথমবারের মতো অপারেটিং বাজেটে সিরিয়া ও মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধের তদন্তে তহবিল বরাদ্দ করে ৩০৭ কোটি ডলারের বাজেট গৃহীত হয়েছে জাতিসংঘে। ২০২০ সালের জন্য এই বাজেট নির্ধারণ করছে জাতিসংঘ। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়ে বলছে, ২০১৯ সালের ২৯০ কোটি ডলারের বাজেটের চেয়ে এই বাজেটে স্বল্প পরিমাণে অর্থ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক‚টনীতিকদের মতে, বাজেটের আকার বৃদ্ধির কারণ হলো জাতিসংঘ সচিবালয়ে অতিরিক্ত মিশন পরিচালনা করা, মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা বিনিময় হারে সমন্বয়। এর আওতায় রয়েছে ইয়েমেনে একটি পর্যবেক্ষক মিশন পরিচালনা করা, হাইতিতে প্রতিষ্ঠা করা একটি রাজনৈতিক মিশন, ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের তদন্ত করা এবং ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের তদন্ত করা। প্রথমবারের মতো সিরিয়া ও মিয়ানমারের বিষয়ে তদন্তে বাজেট ধরা হয়েছে। আগে এ খাতে অর্থায়ন হতো স্বেচ্ছাসেবী অনুদানকারীদের কাছ থেকে। কিন্তু ২০২০ সালে এসব অনুদান সরাসরি যুক্ত হবে জাতিসংঘ সচিবালায়ের বাজেটে। ১৯৩ টি সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্যই দেয় অর্থ এতে যুক্ত হবে। কমিটি অন বাজেটারি কোয়েশ্চেন মিটিং এবং জাতিসংঘের প্লিনারি সেশনে দর কষাকষির সময় বহু সংশোধনী প্রস্তাব করেছিল রাশিয়া। এর প্রতিটি প্রস্তাবের ওপর ভোটে রাশিয়া, সিরিয়া, মিয়ানমার, তাদের সমর্থক উত্তর কোরিয়া, ইরান, নিহারাগুয়া ও ভেনিজুয়েলা পরাজিত হয়েছে। তারা বলেছে, গৃহীত প্রস্তাবনায় তদন্তের যে মেকানিজম রয়েছে তা থেকে তারা দ‚রত্ব বজায় রাখবে। অর্থাৎ সহযোগিতা করবে না। এএফপি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন