Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

উপকূলীয় অঞ্চলে শিক্ষার হার হতাশাজনক

প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : উপকূলীয় এলাকার বর্তমান শিক্ষার হার হতাশজনক। এই এলাকায় বর্তমানে স্নাতক পাস করছে মাত্র ১ শতাংশ। এইচএসসি পাসের হার মাত্র ৯ শতাংশ। আর পঞ্চম শ্রেণি ৩৩, নবম শ্রেণি ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব কর্মসূচি ‘বাংলাদেশ ডিজাস্টার রিলেটেড পরিসংখ্যান এবং ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ন্যাচারাল ডিজাস্টার পারস্পেক্টিভ’ রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার শেরে বাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত ২০০৯-২০১৪ সাল পর্যন্ত ৬ বছরের পরিবারভিত্তিক আর্থিক ক্ষতি ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৪৭ মিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শস্যখাতে ৩৬ দশমিক ২০ শতাংশ, প্রাণিসম্পদে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, পোল্ট্রিতে ১ দশমিক ২১ শতাংশ, মৎস্যখাতে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, জমিতে ২৬ দশমিক ৭২ শতাংশ, বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘর ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং উঠানের গাছপালায় ৮ দশমিক ১০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনজীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কর্মসূচি প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
এই ৬ বছরে পরিবারভিত্তিক পূর্বাভাস (আগাম সতর্কবার্তা) গ্রহণ করে যথাক্রমে ঘূর্ণিঝড়ে ৬৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ জলোচ্ছ্বাসে ৬১ দশমিক শূন্যে ৩ শতাংশ, বন্যায় ১৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অন্যদিকে যে সমস্ত পরিবার পূর্বাভাস গ্রহণ করে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছে যথাক্রমে ঘূর্ণিঝড়ে ৮৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, জলোচ্ছ্বাসে ৭৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, বন্যায় ১৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দুর্যোগে পূর্বাভাস ৩৮ শতাংশ পরিবার টেলিভিশন, ২৫ শতাংশ পরিবার বেতার, ২০ শতাংশ পরিবার মোবাইল ফোন, আইভিআর প্রভৃতি থেকে ১৪ শতাংশ পরিবার কমিউনিটি থেকে ৩ শতাংশ পরিবার স্থানীয় প্রশাসন থেকে পেয়েছে।
৬ বছরে দুর্যোগ আক্রান্ত ৭৪ শতাংশ পরিবার সরকার, ১৫ শতাংশ পরিবার এনজিও বা আন্তর্জাতিক সংস্থা, ৪ শতাংশ পরিবার স্থানীয় ধনী ব্যক্তি, ৩ শতাংশ পরিবার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং ২ শতাংশ অন্যান্য উৎস থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।
৬ বছরে ১৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৪ জন পরিবার সদস্য অসুস্থ ও আহত হয়েছিল। এর মধ্যে ৫২ দশমিক ৪০ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ মহিলা অসুস্থ এবং ৫৮ দশমিক ১২ শতাংশ পুরুষ, ৪১ দশমিক ৮৮ শতাংশ মহিলা আহত হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় ৪৩ লাখ ৬১ হাজার ২৬১টি পরিবার রয়েছে এবং দুর্যোগ প্রবণ এলাকার জনসংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ৪ হাজার ৩৬৭ জন। দেশের সর্বমোট পরিবার প্রায় ১৩ শতাংশ পরিবার এবং ১২ দশমিক ৬৪ শতাংশ জনসংখ্যা দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় বসবাস করে। দুর্যোগ প্রবণ এলাকার পরিবারের আকার ৪ দশমিক ৬৩।
দুর্যোগ প্রবণ এলাকার পরিবার প্রধান ঘর ৭০ দশমিক ৩১ শতাংশ, কাঁচা ঘর ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্ধপাকা, ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ পাকা, ঝুপড়ি ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং অন্যান্য শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।
দুর্যোগ প্রবণ এলাকার পরিবারের পানির উৎস ৯৫ দশমিক ২৩ শতাংশ সাপ্লাই/পাইপ, স্যালো, ডিপ টিউবওয়েল, নলকূপ এবং ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ পানির উৎস পুকুর, কূপ ও অন্যান্য।
দুর্যোগ প্রবণ এলাকার পরিবারের মোট পাকা পায়খানা (ওয়াটার সিল ও সিলবিহীন) ৪৯ দশমিক ৯০ শতাংশ, কাঁচা পায়খানা ৪৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং খোলা জায়গা ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে পকিল্পনামন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে গত ৬ বছরে ১৮ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগে এই ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব-উপকূলীয় অঞ্চলে শক্ত করে বাঁধ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, বাংলাদেশ সেন্টার ফর-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং ইউএন স্ক্যাপের পরিসংখ্যানবিদ ডেনিয়াল ক্ল্যাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক কে এম মোজাম্মেল হক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন