Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

গেন্ডারিয়ায় নির্মাণাধীন মসজিদ থেকে মুসল্লিদের বের করে দিয়েছে পুলিশ

প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় একটি নির্মাণাধীন মসজিদ থেকে মুসল্লিদের টেনেহিঁচড়ে বের করে দিয়েছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, নির্মাণাধীন এ মসজিদে কোনো ধরনের কাজ না করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। কালীচরণ রোডের ৩১ নম্বর হোল্ডিংস্থ নির্মাণাধীন এ মসজিদকে ঘিরে সেখানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর মুসল্লি নারী-পুরুষ মসজিদে ফের অবস্থান নিয়েছে। ভারী যান যাতে চলাচল না করতে পারে এজন্য রাস্তার দু’ধারে বাঁশ দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কালীচরণ রোড কিংবা মিলব্যারাক এলাকায় ৪টি মন্দির থাকলেও একটিও মসজিদ নেই। তাই ওই মসজিদ নির্মাণে যে কোনো ধরনের বাধা তারা প্রতিহত করবেন। গে-ারিয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেছেন, ১ বছরের লিজ নেয়া সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করার বিধান নেই। এছাড়া অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের বিষয়ে উল্লেখ করে সেখানের স্থানীয় পূজা কমিটির সভাপতি এ ব্যাপারে গে-ারিয়া থানায় জিডি ও ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বহুতল ভবন নির্মাণে নিষেধ করেছেন। কাউকে নির্যাতন করা হয়নি।
গতকাল বিকেল তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ভেতরে মুসল্লিরা অবস্থান করছেন। আর বাইরে সরু রাস্তায় রয়েছে স্থানীয় কয়েকশ’ মানুষ। সেখানে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা নাজিবুর রহমান জনি, এমদাদ হোসেন, ফরিদ মিয়া, মশিউর রহমান, বয়োবৃদ্ধ কাশেম আলীসহ অনেকের সাথে।
নাজিবুর রহমান বলেন, নির্মাণাধীন মসজিদের জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি। পাশে রয়েছে মিলব্যারাক সমাজকল্যাণ সংঘ নামে একটি ক্লাব। এখন যেখানে মসজিদ তৈরি করা হচ্ছে তার লিজি মালিক তিনজন। তাদের অনাপত্তি থাকায় সেখানে মসজিদ করা হয়। আগেও সেখানে নামাজ পড়া হতো। এক মাস ধরে মসজিদটির নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে গতকাল পুলিশ এসে মসজিদ থেকে মুসল্লিদের বের করে দেয়। পুলিশ অস্ত্র বের করে অনেককে ভয়-ভীতি দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় ৪টি মন্দির রয়েছে, অথচ একটিও মসজিদ নেই। তাই তারা এখানে যেকোনোভাবে মসজিদ করবেন।
এ ব্যাপারে গে-ারিয়া থানার ওসি বলেন, অর্পিত সম্পত্তির মালিক সরকার, যা রক্ষণাবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক। যেখানে মসজিদ করা হচ্ছে, সেখানে মোট সম্পত্তির পরিমাণ দুই কাঠা। এর ইয়ারলি লিজি মালিক ৩ জন। অস্থায়ী লিজের জায়গায় স্থায়ী ভবন করার বিধান নেই। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে সেখানকার একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা ও পূজা কমিটির সভাপতি এ বিষয়ে থানায় জিডি করেছেন। গতকাল স্থানীয় ডিসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখানে মসজিদের নামে বহুতল ভবন করতে বারণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, মসজিদের নাম করে স্থানীয় একটি চক্র সুবিধা নিতে চাচ্ছে। তারাই পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।



 

Show all comments
  • মুসা ২৭ জুন, ২০১৬, ২:২২ এএম says : 2
    বাংলাদেশের জনগনের ৯০ % মুসলমান , সেখানে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়া শুধু দূরদর্শিতার অভাবই নয় বরং বোকামিও বটে, আমি সাবধান করে বলছি জনতার রোশানলে পরলে পুলিশ সেনাবাহিনী কেহই রক্ষা করতে পারবেনা
    Total Reply(1) Reply
    • জীবনের শেষ প্রহর ২৮ জুন, ২০১৬, ১২:১৩ এএম says : 0
      আল্লাহ যদি সেখানে মসজিদ কবুল করে থাকেন তাহলে কেও বাধা দিলেও তা হবে।
  • Abu MoonTachir ২৭ জুন, ২০১৬, ১১:৫১ এএম says : 1
    ভাবতেই আজব লাগছে, কি হচ্ছে দেশে ? মুসলিমরা কবে থেকে সংখ্যালঘু হল বাংলাদেশে ?
    Total Reply(0) Reply
  • Faruq Hossain ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:০২ পিএম says : 0
    মুসলমানদেরকে সব দল বল মতভেদ ভুলে সবাইকে এক কাতারে আসতে হবে।আমাদের পরিচয় একটাই হতে হবে আমরা মুসলমান।
    Total Reply(0) Reply
  • Iqbal Hossain ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:১৫ পিএম says : 0
    kon deshe aci bujte partecina.bangladeshe thaikao hinduder adipotto r balo lagena.allah tumi muslimder rokka koro.
    Total Reply(0) Reply
  • মাহামুদুল হাসান ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:১২ পিএম says : 1
    মসজিদ রক্ষায় তৌহিদী জনতা এক হও । ধন্যবাদ দৈনিক ইনকিলাব কে এই সংবাদটি দেয়ার জন্য ।
    Total Reply(0) Reply
  • Jahidul Islam ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:১৫ পিএম says : 2
    ঘুমাও বাংলার মুসলমান ঘুমাও ঘুম থেকে জেগে দেখবা নিজের কবরের জায়গাটুকুও সশানে চলে গেছে
    Total Reply(0) Reply
  • Afrin Joti ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:১৬ পিএম says : 2
    বাংলাদেশই মনে হয় একমাত্র মুসলিম দেশ যেখানে ইসলামের কথা বললে,নামাজ পড়লে,দাঁড়ি রাখলে কারাবরণ করতে হয়। একটা কথা আছে, পিঁপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে, আল্লাহ সুযোগ দিছে কত বাড়াবাড়ি করতে পারে সেটা দেখার জন্য, সঠিক সময় সঠিক বিচার হবে ইনশাল্লাহ।
    Total Reply(0) Reply
  • Mayin Uddin Pasha ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:১৭ পিএম says : 1
    পুলিশ সাম্পতিক দাঙ্গা উসকিয়ে দিচ্ছে....হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে বেদাভেদ সৃষ্টি করছে...৯৫% মুসলমানের বাংলাদেশে মুসলমানদের বিজয় নিচ্চিত ইনসাআল্লাহ...
    Total Reply(0) Reply
  • Engr Arif Biswas ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:১৯ পিএম says : 0
    Okhane mosjid nirmaner dabi thakle sorkarer uchit mosjid nirmane sohojogita kora.
    Total Reply(0) Reply
  • Shafaul ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:২০ পিএম says : 3
    জীবন দিয়ে হলে ও মসজিদ নিমন করবো,আসুন দল মত ভুলে সবাই এক হই,এখনি সময়
    Total Reply(0) Reply
  • খন্দকার ২৭ জুন, ২০১৬, ১২:৪৭ পিএম says : 0
    ধন্যবাদ ইনকিলাবকে খবরটি প্রচার করার জন্য। হলুদ মিডিয়া তো এগুলো প্রচার করে না।
    Total Reply(0) Reply
  • matri vumi ২৭ জুন, ২০১৬, ১:৩৮ পিএম says : 2
    apnara monojo akorsoner jonno je shironam diyecen ta uskanimulok. tai ghotonar sottota jene marjito shironam dewar onurode roilo. na hole desher modde choto vuler karone boro dhoroner bipotti ghote pare. dhonnobad
    Total Reply(0) Reply
  • Shmasul Alam ২৭ জুন, ২০১৬, ১:৩২ পিএম says : 6
    এ ভাবে কি সম্প্রদায়িক সম্প্রতি হয়। হিন্দুরা যখন রাজ-পথ দখল করে পুজা-পার্বন ও রথের মেলা ও রথ-যাত্রা করে তখন কি মুসলমাগণ আপত্তি দেয়?
    Total Reply(0) Reply
  • Md khokon Biswas ২৭ জুন, ২০১৬, ২:৩৬ পিএম says : 1
    ধন্যবাদ ইন‌কিলাব‌কে খবরটা প্রচার করা জন্য
    Total Reply(0) Reply
  • alamgir ২৭ জুন, ২০১৬, ৩:১৭ পিএম says : 0
    mosjide hamla korai amra er tibro ninda janassy
    Total Reply(0) Reply
  • মনির ২৮ জুন, ২০১৬, ২:৫২ এএম says : 0
    বেশির ভাগ পুলিশ .........., আজ ..........র মত পরিচয় দিল।
    Total Reply(0) Reply
  • Sagor Hossain ২৮ জুন, ২০১৬, ১:১২ পিএম says : 0
    অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে হয়,কিন্তু বলতে পারি না।
    Total Reply(0) Reply
  • Sagor ২৯ জুন, ২০১৬, ৪:০৩ পিএম says : 0
    ..................... Agey Jachai Koren tarpor comments koren.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ