Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ শাবান ১৪৪১ হিজরী

মানুষ খুঁজি

শে খ দ র বা র আ ল ম | প্রকাশের সময় : ১ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০৩ এএম

॥ এক ॥

লেখাপড়া নিয়েই থাকি। মনে হয়, কত বিষয়ে কত কিছু পড়ার আছে, কত বিষয়ে কত কিছু লেখার আছে। এভাবেই আমার দিন কাটে, রাত কাটে। এর মধ্যে কোনো কোনো সময়ে মনে হয়, কারো সঙ্গে কোনো কোনো বিষয়ে আলাপ করি। তখন মনে মনে মানুষ খুঁজি। আমার মনে হয় সবচেয়ে সুন্দর হতে পারে, সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে পারে মানুষের মন। কোনো কোনো সংবেদনশীল মনের মানুষের স্পর্শকাতর মন; সহানুভূতিশীল মন। সে রকম মন সব সময়েই মনে মনে খুঁজি আমি। আলাপযোগ্য মানুষ খুঁজি। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন মানুষ খুঁজি। গঠনমূলক চিন্তা-ভাবনা সম্পন্ন মানুষ খুঁজি। মানুষই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তা তিনি যে ধর্মের, যে বর্ণের বা যে ভাষারই হন না কেন।
॥ দুই ॥
এই ভারতীয় উপমহাদেশে আমাদের প্রতিবেশী কিন্তু সমাজের মানুষ খুব ভালো মানুষকে, প্রকৃত ভালো মানুষকে দেবতা বলেন। নিজের সীমিত অভিজ্ঞতায় দেখেছি তারা মিথ্যা বলেন না। খুব ভালো মানুষ, প্রকৃত ভালো মানুষ তাদের সমাজে আছেন। এটা কারো কারো লেখা পড়ে বুঝেছি। কারো কারো কথা শুনেও বুঝেছি। কারো কারো ব্যবহার থেকেও বুঝেছি। এমন ভালো মানুষও দেখেছি, যে রকম ভালো মানুষ আমাদের এই সমাজহীন মুসলমান সমাজে পেতে হলে ডুবুরী নামাতে হবে। তারপরও পাওয়া যাবে কি না সে খবর কেবল আল্লাহই দিতে পারেন। তবে এ রকম ভালো মানুষ আমাদের এই সমাজহীন মুসলমান সমাজেও কোনো কোনো সময়ে এসেছেন। এখন ভালো মানুষ টিকে থাকার মতো পরিবেশ আমাদের এই অজ্ঞ ও অপরিণামদর্শী সমাজহীন মুসলমান সমাজে নেই।
॥ তিন ॥
আমাদের প্রতিবেশী হিন্দু সমাজে ভালো মানুষ টিকে থাকার মতো পরিবেশ এখনও আছে। এর কারণ ১৭৫৭’র ২৩ জুনের পলাশীর ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধ যুদ্ধ প্রহসন মঞ্চায়নের সময় থেকে ১৯৪৭ এর মধ্যে আগস্টের বিভাজন ও স্বাধীনতার সময় পর্যন্ত, এই একশ’ নব্বই বছর যাবৎ সম্মানজনক জীবিকার এবং সম্মানজনক জীবিকার্জনের সহায়ক শিক্ষার ক্ষেত্রে একচেটিয়ারভাবে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আর্য-হিন্দুরা এককভাবে এগিয়ে গেছেন। অন্যদিকে ১৭৫৭’র ২৩ জুন থেকে ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই একশ’নব্বই বছর যাবৎ সম্মানজনক জীবিকার এবং সম্মানজনক জীবিকার্জনের সহায়ক শিক্ষার ক্ষেত্রে অধিকার বঞ্চিত হয়ে মুসলমানরা হতদরিদ্র, অশিক্ষিত, অসচেতন, অসংগঠিত, লক্ষ্যভ্রষ্ট ও লক্ষ্যহীন, অদূরদর্শী ও অপরিণামদর্শী হয়ে মানবেতর জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম প্রধান অবিভক্ত পাঞ্জাব ভাগ করে। মুসলিম প্রধান অবিভক্ত বাঙলা ভাগ করে এবং মুসলিম প্রধান অবিভক্ত আসাম ভাগ করে ব্রিটিশ ভারতের বিশ শতাংশ জায়গায়, ভারতীয় উপমহাদেশের দশ শতাংশ জায়গায় যে মুসলিম প্রধান দেশটা জাতীয়তাবাদী এবং একজাতিতত্ত্ব আরোপকামী আর্য-হিন্দুরা ক্রুসেডের চেতনাসম্পন্ন সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের হাত দিয়ে সেই সময়েই অত্যন্ত সাময়িকভাবে বা অস্থায়ীভাবে দিয়েছিলেন সেটা উপযুক্ত মর্যাদায় ধারণ করার মতো কেবল অর্থনৈতিক ক্ষমতা, শিক্ষা ক্ষমতা, সাংগঠনিক ক্ষমতা, দূরদর্শিতা এবং সচেতনতা নয়, নৈতিক এবং মানসিক ক্ষমতা ও অনেকেরই সে সময়ে ছিল না। একশ’ নব্বই বছরের হতদরিদ্র এবং অশিক্ষিত ও অজ্ঞ হওয়ার পরিবেশ অনেককে একই সঙ্গে গাছের খাওয়ার এবং তলার কুড়ানোর রুচিও দিয়েছিল।
॥ চার ॥
১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের পর থেকে ১৭৫৭-র ২৩ জুন থেকে ১৯৪৭-এর মধ্য আগস্ট পর্যন্ত একশ’ নব্বই বছরের ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনামলের ইতিহাস উপযুক্ত মর্যাদায় স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটির পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত না করাটা এই মুসলিম প্রধান দেশের হতদরিদ্র, অশিক্ষিত, অসচেতন, অসংগঠিত ও অজ্ঞ প্রধান সমাজহীন মুসলমান সমাজের মুসলমানদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ এবং একটা আত্মঘাতী কাজ হয়েছে। এই ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের পর থেকে স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগের পাঠ্য তালিকায় মুসলমান সমাজের ইতিহাস ঐতিহ্য ও ইসলামী সংস্কৃতির পরম্পরা এবং এর পরম্পরাভিত্তিক মুসলিম জাতিসত্তা সংশ্লিষ্ট সাহিত্য সঙ্গীতও উপযুক্ত মর্যাদায় পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট থেকে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই পাকিস্তান আমলেই ঢাকা বিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগের এম.এ. ক্লাসের পাঠ্য তালিকায় মুসলমান সমাজের ইতিহাস ঐতিহ্য ও ইসলামী সংস্কৃতির পরম্পরা এবং এই পরম্পরাভিত্তিক মুসলিম জাতিসত্তা সংশ্লিষ্ট সাহিত্য সঙ্গীত অচ্ছ্যুৎ হয়ে থাকার অংশ হিসাবে সাম্য ও সহাবস্থানের কবি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সঙ্গীতও অবশ্যপাঠ্য করা হয়নি। এটাও নিশ্চয়ই একটা ভাবার কথা।
১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের পর সেই পাকিস্তান আমলেই ভেতর থেকে এ সবই করা হয়েছে আর্য বংশোদ্ভূত বৈদিক ব্রাহ্মণ শাসিত বর্ণ ও অধিকার ভেদাশ্রুী মনুসংহিতার জাতীয়তাবাদী সমাজপ্রধান স্বাধীন ভারতের স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটির পাঠ্য তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে ভারতীয় উপমহাদেশের ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টে সৃষ্ট মুসলিমপ্রধান দেশও ভবিষ্যতে আর্য-হিন্দুদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার এবং আর্য-হিন্দুদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক এক জাতিতত্ত্ব কায়েম করার লক্ষে এ সব যাদের করার কথা এবং করানোর কথা তারাই করেছিলেন এবং তারাই করিয়েছিলেন।
॥ পাঁচ ॥
ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম প্রধান অবিভক্ত পাঞ্জাব, মুসলিম প্রধান অভিবক্ত বাঙলা এবং মুসলিম প্রধান অবিভক্ত আসাম ভাগ করে ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের বিশ শতাংশ জায়গায় ভারতীয় উপমহাদেশের দশ শতাংশ জায়গায় একটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র সাময়িকভাবে বা অস্থায়ীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল ভবিষ্যতে তামাম ভারতীয় উপমহাদেশে আর্য-হিন্দুদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার এবং আর্য-হিন্দুদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক এক জাতিতত্ত্ব কায়েম করার লক্ষে।
১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের পর ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম প্রধান দেশের এতদঞ্চলের শিক্ষাঙ্গন, সাংস্কৃতিকাঙ্গন, সাহিত্যাঙ্গন, সাংবাদিক আঙিনা, ট্রেড ইউনিয়ন, রাজনৈতিক অঙ্গন ভেতর থেকে অর্থনৈতিক শক্তি, শিক্ষা শক্তি এবং সাংগঠনিক শক্তির বদৌলতে নিয়ন্ত্রণ করেছেন অনুশীলন সমিতি (১৯০২)র আর্য-হিন্দু সভ্য মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান সোস্যালিস্ট পার্টির “অনুশীলন সমিতি” (১৯০২)-র “যুগান্তর দল” (১৯০২)-এর (বরিশালের) “স্বদেশ বান্ধব সমিতি”-র (ফরিদপুরের) “ব্রতী সমিতি”-র (ময়মনসিংহের) “সুহৃদ সমিতি”-র এবং “সাধনা সমাজ” এর আর্য-হিন্দু সভ্যরা এবং অনুশীলন সমিতির আর্য-হিন্দু সভ্য মনসিংহের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির অনুশীলন সমিতির আর্য-হিন্দু সভ্য, যুগান্তর দলের আর্য-হিন্দু সভ্য, স্বদেশ বান্ধব সমিতির আর্য-হিন্দু সভ্য, ব্রতী সমিতি আর্য-হিন্দু সভ্য, যুক্ত সমিতির আর্য-হিন্দু সভ্য ও সাধনা সমাজের আর্য-হিন্দু সভ্যরা। এই সব আধা সামরিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদী গুপ্ত সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামী সংগঠনের সভ্যপ্রভাবিত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের যে সব সদস্য ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টে সৃষ্ট ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম প্রধান দেশের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভায় এবং সমপরিষদে সদস্য ছিলেন তারাও ওই একই লক্ষে কাজ করেছিলেন। ফলে এদেরই সবার প্রভাবে সাতচল্লিশের মধ্য আগস্টের অব্যবহিত পর ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের এবং অঞ্চলভিত্তিক জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়েছিল। এই ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ এবং অঞ্চলভিত্তিক জাতীয়তাবাদ কাজ করে আসছে ভারতীয় উপমহাদেশে সাতচল্লিশের ১৪ আগস্টে সৃষ্ট মুসলিম প্রধান দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী প্রধান মুসলিম প্রধান প্রদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে, মুসলিম উম্মার ঐক্য ও সংহতির বিরুদ্ধে এবং মুসলমান সমাজের ইতিহাস ঐতিহ্য ও ইসলামী সংস্কৃতিক পরম্পরা ও এই পরম্পরাভিত্তিক মুসলিম জাতিসত্তার বিরুদ্ধে ও মুসলিম জাতিসত্তা সংশ্লিষ্ট সাহিত্য, সঙ্গীত ও অন্যান্য শিল্প ও মুসলিম নামাঙ্গিত সবকিছুর বিরুদ্ধে।
॥ ছয় ॥
অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের “গুপ্ত সমিতি” (১৮৯৪), মুসলিম প্রধান অবিভক্ত বাংলার “অনুশীলন সমিতি” (১৯০২), “যুগান্তর দল” (১৯০২), বরিশালের “স্বদেশ বানুর সমিতি”, ফরিদপুরের “ব্রতী সমিতি”, ময়মনসিংহের “সুহৃদ সমিতি” ও “সাধনা সমাজ”, মহারাষ্ট্রের “অভিনব ভারত” (১৯০৪) প্রভৃতি ইসলাম ও মুসলিম উৎখাতকামী আধা সাময়িক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদী গুপ্ত সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামী সংগঠনের আর্য-হিন্দু সভ্যদের একটা অংশ ১৯১০ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের ২৬ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত এলাহাবাদে স্যার উইলিয়ম ওয়েডারবার্নের সভাপতিত্বে চারদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ২৫তম অধিবেশনে রাষ্ট্র গুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভূপেন্দ্রনাথ বসুর প্রস্তাব। ক্রমে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসেরই একটা অংশ নিয়ে গঠিত নিখিল। ভারত হিন্দু মহাসভায় ঢুকেছেন, একটা অংশ বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকের প্রথম ভাগে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে ঢুকেছেন, একটা অংশ বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের প্রথম ভাগে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে ঢুকেছেন, একটা অংশ ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩রা মে গঠিত নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ফরোয়ার্ড ব্লকে ঢুকেছেন, একটা অংশ ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে রেভলিউশনারী সোস্যালিস্ট পার্টি (আরএসপি) গঠন করেছেন, একটা অংশ ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের পর অনুশীলন সমিতির আর্য-হিন্দু সভ্য মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্ত্তীয় নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান সোস্যালিস্ট পার্টি গঠন করেছেন, আর একটা অংশ ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টেরই পর অনুশীলন সমিতির আর্য-হিন্দু সভ্য মনসিংহের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেছেন।
॥ সাত ॥
ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ইসলাম এবং মুসলিম উৎখাতকামী আধাসামরিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদী গুপ্ত সশস্ত্র স্বাধীনতা, সংগ্রামী সংগঠন অনুশীলন সমিতি (১৯০২)-র আর্য-হিন্দু সভ্য ও ভারতের জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫)-এর সদস্য এবং কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা ডাক্তার কেশব বলিরাম হেড গেওয়ারের নেতৃত্বে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্গ (আরএসএস)।
ভারতীয় জনতা পার্টি
(বিজেপি) কার্যত এই আরএসএস এরই শাখা সংগঠন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, দুর্গা বাহিনী, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, ধর্ম রক্ষা সমিতি, বিদ্যা ভারতী, রাম সেনা, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ, হিন্দু সেনা, ধর্ম সেনা, আরোগ্য ভারতী, হিন্দু যুব কাহিনী, স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ, হনুমান সেনা, হিন্দু একতা মঞ্চ, রাজপুত কর্ণী সেনা, ইউনাইটেড হিন্দু ফ্রন্ট ইত্যাদি আরো অনেক ইসলাম ও মুসলিম উৎখাতকামী শাখা সংগঠন আরএসএস-এর আছে।
॥ আট ॥
অনুশীলন সমিতির সভ্য, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য এবং কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা ডাক্তার কেশব বলিরাম হেড গেওয়ার ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ইসলাম এবং মুসলিম উৎখাতকামী একটা একটা আধাসামরিক সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসবাদী সশস্ত্র সংগঠন হিসাবে। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন পড়ার ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না। আজীবন তিনি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসেরই সদস্য ছিলেন এবং আরএসএস তখন কাজ করেছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসেরই একটা শাখা সংগঠন হিসাবে। অনুশীলন সমিতির সভ্য, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার কেশব বলিরাম হেড গেওয়ার ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যোগ দিয়ে ৯ মাস কারাদ- ভোগ করেছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের একটা শাখা সংগঠন হিসাবে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে বিশেষ করে উত্তর পশ্চিম ভারতে কংগ্রেস শাসিত বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন জায়গায় মুসলিম নিধন যজ্ঞে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছে। সাম্প্রদায়িকতার ওপর জত্তহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক বিপন চন্দ্রের গবেষণায় এটাও দেখা গেছে যে, আরএসএস-এর সভ্যদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ব্রিটিশ ভারতের সেনা বাহিনীতেও ঢুকেছে। ডাক্তার কেশব বলিরাম হেড গেওয়ার ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২১ জুন মারা গিয়েছিলেন।
তার মৃত্যুর এগারো বছর পর, আরএসএস প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক (সর্বাধিনায়ক) মাধব সদাশিব রাও গোলওয়ালকরের কাছ থেকে অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদভানী, দীন দয়াল উপধ্যায়, নানাজী দেশমুখ, সুন্দর সিং ভান্ডারী প্রমুখ কয়েকজন স্বয়ং সেবক নিয়ে “হিন্দুর স্বার্থে” হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় “ভারতীয় জনসঙ্ঘ” নাম দিয়ে একটা রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ছিলেন।
পরে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় লোকদল, সংগঠন কংগ্রেস, সমাজবাদী দল এবং ভারতীয় জনসঙ্ঘ মিলে গঠিত হয়েছিল জনতা পার্টি। আরএসএস-এর সঙ্গে ভারতীয় জনসঙ্ঘের সম্পর্ক ত্যাগ করাকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্যের কারণে- ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে জনতা পার্টি ভেঙে গেলে “ভারতীয় জনসঙ্ঘ” আবির্ভূত হলো ভারতীয় জনতা পার্টি” (বিজেপি) নামে। ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন আর্য-হিন্দুদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠাকামী এবং আর্য-হিন্দুদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক একজাতিতত্ত্ব আরোপকামী জাতীয়তাবাদী স্বাধীন ভারত রাষ্ট্র তামাম ভারতীয় উপমহাদেশকে ইসলাম ও মুসলিম মুক্ত করার কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে ইসরায়েল হতে চায়। মুসলমানদেরকে তাঁরা মুসলমান থাকতে দিতে চান না বলে তাদের পারিবারিক আইন কেড়ে নেয়া শুরু করেছেন, কাশ্মীরি মুসলমানদেরকে দেয়া সাংবিধানিক ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। জাতীয় নাগরিক তালিকা প্রণয়ন করার কাজ শুরু করে এবং এর পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে বহু কোটি মুসলমানের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছেন। মানুষ খুঁজতে হবে এখন এই অবস্থায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন