Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ০১ রজব ১৪৪১ হিজরী

‘হত্যাযজ্ঞ অস্বীকার করেনি মিয়ানমার’

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৬ এএম

 পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের চলানো বর্বর ‘হত্যাযজ্ঞ’ অস্বীকার করেনি মিয়ানমার। তবে তারা তাদের প্রত্যাবাসনে এখনও দেশটি আন্তরিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘ফ্ল্যাশ অন রোহিঙ্গা জেনোসাইড’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে সব ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে সরকার। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের শুনানির মুখোমুখি হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, আদালতে রোহিঙ্গা ‘হত্যাযজ্ঞ’ চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেনি তারা। তবে ‘গণহত্যা’ যে হয়েছে সেটা এখনও কবুল করেনি বরং তারা এ অভিযোগের বিষয়ে আপত্তি তুলেছে।
মন্ত্রী বলেন মিয়ানমারের আন্তরিকতার অভাবে দু’দফা প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ভেরিফিকেশনের জন্য প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু তারা মাত্র আট হাজার রোহিঙ্গাকে নিজেদের নাগরিক বলে গ্রহণে অনাপত্তি দিয়েছে। মন্ত্রীর অভিযোগ মিয়ানমার এ নিয়ে ঠিকমত হোমওয়ার্ক করেনি। তাদের আন্তরিকতায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু এখন দেশটি তাদের ফেরত নিচ্ছে না। বাংলাদেশও তাদেরকে জোর করে ফেরত পাঠাতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা কাজ করছে, তারা যেনো স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যে। মন্ত্রী বলেন, আমরা মিয়ানমারকে বলেছি, তোমাদের জনগণ তোমাদের বিশ্বাস করছে না। তোমরা রোহিঙ্গা নেতাদের রাখাইনে নিয়ে যাও, সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখাও। তাহলে তাদের মধ্যে আস্থা ফিরতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকা নেপি’ড বরাবর চিঠিও দিয়েছি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিন্তু এর কোনো জবাব এখনও আসেনি।

রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে জীবনযাত্রার পরিবর্তন হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেখানে স্থানীয়দের চেয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। এ কারণে কক্সবাজারের জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানকার তরুণরা চাকরি পাচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সংখ্যাও বেড়েছে। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও, তা যথেষ্ট নয়।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই অর্থ আমরা আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে পারতাম। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান বক্তৃতা করেন।

আলোকচিত্রী মাহমুদ হোসেন অপু, কে এম আসাদ, সুমন পাল ও সালাউদ্দিন আহমেদের তোলা শতাধিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। আগামী ৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন