Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

মোহাম্মদ আবদুল গফুর | প্রকাশের সময় : ৪ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল আরেকটি বছর। ২০১৯ সালের পর আমরা পা রেখেছি নতুন বছর ২০২০ সালে। সবার মধ্যেই প্রশ্ন: কেমন যাবে নতুন বছরটি? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অবশ্যই বিদায়ী বছরের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আনতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় গত মঙ্গলবার যে প্রধান খবর বের হয় তার শিরোনাম ছিল: ‘বিএনপির ব্যর্থতার বছর’। অর্থাৎ বছরটিতে দেশের দুটি প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আওয়ামী লীগ, যেভাবেই হোক, সরকার গঠন করতে সমর্থ হয়, যা বিএনপির পক্ষে সম্ভব হয়নি। সরকার গঠন করতে সমর্থ হওয়াটাই যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সাফল্যের প্রধান প্রমাণ হয়, তা হলে এ কথা স্বীকার করে নিতেই হবে যে, বিদায়ী বছরটি ছিল বিএনপির ব্যর্থতার বছর।

তবে সরকার গঠনে সমর্থ হতে আওয়ামী লীগ যে পদ্ধতি বা কৌশল অনুসরণ করেছে তা কতটা গণতান্ত্রিক ছিল, এ প্রশ্ন যদি কেউ তোলেন, তাহলে সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের অবশ্যই অতীত ইতিহাসের আশ্রয় নিতে হবে। এর আগে একটা সত্য স্বীকার করে নিতে হবে যে, বর্তমানে বাংলাদেশে যে ক’টি রাজনৈতিক দল রয়েছে, তার মধ্যে আওয়ামী লীগই প্রাচীনতম দল। দলটিকে প্রাচীনতম অভিধায় অভিহিত করার কারণ, এর জন্ম হয় পাকিস্তান আমলে ১৯৪৯ সালের ২৩ মার্চ। তখন একটি কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে এর নাম রাখা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ। এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৪৯ সালে যে দলের কর্মী সম্মেলনে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়, তার আসল নাম ছিল নিখিল ভারত মুসলিম লীগ।
ইতিহাস-গবেষক মাত্রই সাক্ষ্য দেবেন, নিখিল ভারত মুসলিম লীগের জন্ম হয় ১৯০৬ সালে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহ কর্তৃক আহূত নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন উপলক্ষে আগত ডেলিগেটদের একটি বিশেষ রাজনৈতিক অধিবেশনে। ওই অধিবেশন পরবর্তীকালে মুসলিম লীগের অবিসংবাদিত নেতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জিন্নাহ সাহেব সে অধিবেশনে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এই যুক্তিতে যে, তার ফলে বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের ময়দানে সক্রিয় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি হবে। তাছাড়া শুধু মুসলমানদের জন্য যদি কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করা হয় তাহলে হিন্দু-মুসলমান অনৈক্য সৃষ্টি হবে, যা সঠিক হবে না।
মুহম্মদ আলী জিন্নাহর এই বক্তব্যের কারণে তিনি হিন্দু-মুসলমান মিলনের অগ্রদূত হিসাবে খ্যাতিলাভ করেন। তবে কংগ্রেসের দরজা যদিও হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত ছিল, তবুও এটি প্রধানত পরিচালিত হতো হিন্দুদের নেতৃত্বে। ফলে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের জন্য কঠোর বাস্তবতার নিরিখে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজন উপলব্ধি করে এই মুহম্মদ আলী জিন্নাহই পরবর্তীকালে মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমি হিসাবে উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম প্রধান এলাকাসমূহ নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নেতৃত্ব দান করেন।
এখানে উল্লেখ্যযোগ্য যে, উপমহাদেশের মুসলমানরা কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, স্বাধীন অখন্ড ভারতের সমর্থক, না ভারতবর্ষকে হিন্দু ও মুসলিম প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত করে একাধিক স্বতন্ত্র, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী, এ প্রশ্নে ১৯৪৬ সালে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে মুসলিম লীগের দাবি সংশ্লিষ্ট জনগণ কর্তৃক সমর্থিত হওয়ায় ১৯৪৭ সালে সেই ভিত্তিতে উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলমান প্রধান অঞ্চলকে একাধিক স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহীত হয় নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে ১৯৪০ সালে। যদিও এ প্রস্তাবের কোথাও ‘পাকিস্তান’ শব্দের উল্লেখ ছিল না, তবুও হিন্দু সংবাদপত্রসমূহে এ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়: ‘পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত’ শিরোনামে। যে অঞ্চল নিয়ে এখন পাকিস্তান রাষ্ট্র, সেখানে কোনো প্রদেশে মুসলিম লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে না পারলেও শুধুমাত্র বাংলা প্রদেশে মুসলিম লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে সরকার গঠন করে কায়েদে আজমের হাত শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়। এর ফলে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের এলাকাসমূহ নিয়ে পাকিস্তান নামের রাষ্ট্র গঠিত হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, যদিও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় মুসলিম বাংলার অঞ্চলই ছিল প্রধান, তবুও পাকিস্তান রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রাজধানী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সমগ্র নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দপ্তর পাকিস্তানের পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে প্রথম দিন থেকেই একটা হতাশা বিরাজ করতে থাকে।
এর সাথে যুক্ত হয় আরেকটি সমস্যা। সমগ্র পাস্তিানের জনসংখ্যার মধ্যে পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যাই ছিল সর্বাধিক এবং তাদের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে অবাঙ্গালী তথা উর্দুভাষীদের সংখ্যাধিক্যের সুযোগে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার আগেই উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে চালানোর এক গোপন ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায়। এর প্রমাণ পাওয়া যায় নতুন রাষ্ট্রের পোস্টকার্ড, এনভেলপ, মানিঅর্ডার ফরম প্রভৃতিতে ইংরেজির পাশাপাশি শুধু উর্দুর ব্যবহার দেখে।
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শুরু হয়ে যায় ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলন যদিও শুরু হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্তৃক প্রকাশিত ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামের একটি পুস্তিকার মাধ্যমে, অচিরেই এর প্রতি পূর্ববঙ্গের সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তমদ্দুন মজলিস নামের এই সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম। তবে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালে তাঁর সঙ্গে সহযোগী ছিলেন আরো অনেক ছাত্র-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী।
তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৪৭ সালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক (পরে ডক্টর) নূরুল হক ভুইয়াকে আহ্বায়ক করে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। যদিও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট উপমহাদেশে সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ শাসনের অবসানে, তবুও এ সম্পর্ক শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিকরা পাকিস্তানের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে সক্রিয় ছিলেন কলকাতা ও ঢাকার দুটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি ও পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদের মাধ্যমে কলকাতা ও ঢাকাকেন্দ্রিক এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান, সৈয়দ আলী আশরাফ প্রমুখ সাহিত্যিক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী।
১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিসের পক্ষ থেকে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শীর্ষক যে পুস্তিকা প্রকাশিত হয়, তাতে ছোট একটি লেখা প্রকাশিত হয়। এর লেখক ছিলেন তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেম। ভাষা আন্দোলনের মূল দাবিসমূহ তিনি তুলে ধরেন এভাবে- (১) পূর্ব পাকিস্তানের অফিস-আদালতের ভাষা হবে বাংলা। (২) পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার মাধ্যম হবে বাংলা। (৩) কেন্দ্রীয় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে দুটি: বাংলা ও উর্দু। যখন ভাষা আন্দোলন পরিচালিত হয় এ দাবিসমূহের ভিত্তিতে। এখানে আরো উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পাকিস্তান আন্দোলনের সমর্থক ছাত্রদের নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। এই ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তমদ্দুন মজলিসের ভাষা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিতে এগিয়ে আসে। ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর তমদ্দুন মজলিস ও ছাত্রলীগের যুগ্ম সদস্য শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠিত হয়।
ইতোমধ্যে পাকিস্তানের গণপরিষদের কংগ্রেস দলীয় সদস্য বাবু ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত পরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাতেও বক্তৃতা দানের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সে দাবি স্পিকার কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়। এর প্রতিবাদে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয় ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ। সে হরতালের প্রতি পূর্ব পাকিস্তানের রেলওয়ে কর্মচারী লীগের সমর্থন থাকায় সেদিন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোনো ট্রেন ছেড়ে আসতে সমর্থ হয়নি।
ঢাকার পরিস্থিতি ছিল আরো কঠিন। সেদিন ভোর থেকেই ঢাকা সেক্রেটারিয়েটের চারপাশে রাষ্ট্রভাষা বাংলার সমর্থকরা পিকেটিং করায় অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সেক্রেটারিটে প্রবেশ করতেই সক্ষম হননি। তখন সেক্রেটারিটের চারপাশে বর্তমানের মতো পাকা দেয়াল ছিল না। ছিল কাঁটাতারের বেড়া। এই কাঁটা তারের বেড়া কোনোক্রমে পার হয়ে ভাষা আন্দোলনের অনেক কর্মী ভেতরে ঢুকে পড়ে সেক্রেটারিয়েটে উপস্থিত কর্মকর্তাদের কক্ষে প্রবেশ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করলে তারা সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করবেন, এমন মৌখিক ওয়াদা নিয়ে আসে।
এদিকে সেক্রেটারিয়েটের চারদিকে পিকেটিং করার দায়ে অধ্যাপক আবুল কাসেমসহ অনেকে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন এবং শেখ মুজিবর রহমানসহ বহু ছাত্রনেতা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার খবর শহরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সেক্রেটারিয়েটের চারদিক বিক্ষুব্ধ জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং সরকারি কাজকর্মে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা চলতে থাকে ১১ মার্চ থেকে শুরু করে ১২, ১৩, ১৪, ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এতে পূর্ববঙ্গের তদানীন্তন চিফ মিনিস্টার খাজা নাজিমুদ্দিন ভয় পেয়ে যান। কারণ কয়েক দিনের মধ্যে কায়েদে আজম মুহম্মদ আলী জিন্নাহর ঢাকা আসার কথা। তিনি ঢাকায় এসে এ বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখলে নাজিমুদ্দিন সম্পর্কে তাঁর ধারণা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা। তাই আপাতত পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে তিনি রাষ্ট্রভাষা পরিষদের সকল দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে সংগ্রাম পরিষদের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এরপর কায়েদে আজম মুহম্মদ আলী জিন্নাহ যথাসময়ে ঢাকা সফরে আসেন। তিনি প্রথমে এক জনসভায় এবং পরবর্তীতে কার্জন হলে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবর্তনে ভাষণ দান করেন। উভয় স্থানে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে উর্দুর সমর্থনে তিনি কথা বলেন। বিশাল জনসভার কোন দিক থেকে তার কথার প্রতিবাদ ওঠে সেটা টের না পেলেও কার্জন হলের স্বল্পসংখ্যক উপস্থিতিতে তার বক্তব্যের প্রতিবাদের ঘটনায় তিনি অবাক হয়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। কারণ ছাত্ররাই এতদিন পাকিস্তান দাবিতে সমর্থন যুগিয়ে এসেছে। তিনি তাঁর বক্তৃতা সংক্ষেপ করে মঞ্চ থেকে চলে যান। পরে তিনি ছাত্রনেতাদের সঙ্গে অনেক কথা বলেন। তবে উভয় পক্ষই যার যার দাবিতে অটল থাকায় সে আলোচনা ব্যর্থ হয়।
তবে একটা বিষয় লক্ষণীয়। এরপর জিন্নাহ সাহেব রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে আর কোথাও প্রকাশ্যে বক্তব্য দেননি। তবে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্নেল এলাহি বখশকে তিনি বেশ কয়েকবার বলেন, অন্যের কথায় বিশ্বাস করে আমি জীবনে কিছু ভুল করেছি। এর একটা হলো, রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা দেওয়া। অপরটা লাহোর প্রস্তাবের মর্মবাণী অনুযায়ী দুটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চলকে নিয়ে একটি রাষ্ট্রের দাবি সমর্থন করা। কারণ পূর্বাঞ্চলে এক শ্রেণির চাটুকারের মনোভাবের কারণে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন একাধিক অঞ্চল নিয়ে একটি রাষ্ট্রের পরিকল্পনা অবাস্তব প্রমাণিত হচ্ছে। ঢাকার লোকদের সঙ্গে কথা বলে আমি তাদের মধ্যে যে আন্তরিকতা দেখেছি তাতে তাদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে আমার বিরোধী বক্তব্য দেয়াও ঠিক হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন