Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

কুষ্টিয়ায় অপরিশোধিত পানি বিক্রির অভিযোগ

এস এম আলী আহসান পান্না, কুষ্টিয়া থেকে | প্রকাশের সময় : ৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

কুষ্টিয়ায় ফিল্টার না করেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে পানির অবৈধ ব্যবসা গড়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনো রকম অনুমতি না নিয়েই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। টিউবওয়েল থেকে প্ল্যাস্টিকের জারে পানি ভর্তি করে তা সরবারহ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এসব পানির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বিএসটিআই কর্মকর্তারা।
বিএসটিআইয়ের কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে পানির ব্যবসা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। পানি পরিশোধনের কোনো প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়াতে নেই। তারপরও মান যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব পানি শহরের বেকারি-ফাস্টফুড, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে ফিল্টার পানি নামে বিক্রয় এবং ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোক্তারাও পানির গুণগত মান যাচাই ছাড়াই ওই ফিল্টার পানিকে বিশুদ্ধ পানি হিসেবে পান করছেন। তবে বিএসটিআই কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা দিয়ে ওই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খাদ্যজাত দ্রব্য বাজারজাতকরণে সরকারি আইন-কানুন উপেক্ষা ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) কর্তৃক লাইসেন্স ছাড়াই শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় আলামিন ফ্রেশ ওয়াটার, আড়–য়াপাড়ার হরিবাসর গলিতে লাইফ সেফ ওয়াটার, মিল লাইনের ধোপাপাড়া এলাকায় গ্রিন লাইফ ওয়াটার ও বড়বাজার বিহারি পট্টিতে মেরিন এ-ওয়ান ওয়াটার কোম্পানির নামে ফিল্টার পানির অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। পানি ব্যাকটেরিয়া মুক্ত কি-না, তা নির্ণয়ের পানি ফিল্টার উপযোগী ল্যাবরেটরি এবং প্রশিক্ষিত কোনো কেমিস্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই। ঘরে বসেই টিউবওয়েল ও ট্যাপের পানি সাধারণ মানের একটি ফিল্টারের মাধ্যমে জারভর্তি করে ওই জারের মুখে একটি কর্ক লাগিয়ে ‘ফিল্টার পানি’ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জনর সঙ্গে কথা হলে জানান, বিশুদ্ধ পানি পান না করলে টাইফয়েড, আমাশয়, জন্ডিস ও ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব রোগ থেকে রেহাই পেতে স্বাস্থ্য সচেতনতাসহ বিশুদ্ধ পানি পানের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে লাইফ সেফ ওয়াটার কোম্পানি জানান, বিএসটিআই লাইসেন্স, ল্যাবরেটরি ও কেমিস্ট ছাড়াই তিনি গত ৫-৬ বছর ধরে ফিল্টার পানির ব্যবসা করে আসছেন। মেরিন এ-ওয়ান ওয়াটার কোম্পানি বলেন, অনুমোদন নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। অনুমোদন পত্রের ব্যাপারে বলেন, বিএসটিআই কর্মকর্তাদের কাছে আছে।
বিএসটিআই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, কুষ্টিয়াতে কোনো প্রতিষ্ঠানের এখন পর্যন্ত পানি পরিশোধন করে বাজারজাত করার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন