Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ০৪ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

দরজাখোলা মাইক্রোবাস আতঙ্কের নাম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : | প্রকাশের সময় : ৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৮৫ কিলোমিটার রাস্তায় চলাচল করছে পারমিট ও ফিটনেসবিহীন দু’শতাধিক দরজাখোলা মাইক্রোবাস।
ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে এসব মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক গ্রুপ ম্যানেজ ও বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদা দিয়ে মহাসড়কে দাবড়িয়ে চলছে। এধরণের মাইক্রোবাস ছাড়াও মহাসড়কে লেগুনা, মেক্সি ও লক্কর-ঝক্কর যানবাহন হরদম চলাচল করছে। এসব দরজাখোলা মাইক্রোবাসের বেপরোয়া চলাচলের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। মহাসড়কের দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জ, কুটম্বপুর, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ক্যান্টনমেন্ট, পদুয়ারবাজার, সোয়াগাজী, মিয়ারবাজার, জগন্নাথদিঘী, চৌদ্দগ্রাম, নানকরা, মোহাম্মদআলী এলাকা পর্যন্ত দুই শতাধিক ফিটনেসবিহীন দরজাখোলা মাইক্রোবাসের প্রায় ১৫টি কথিত স্ট্যান্ড রয়েছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মহাসড়কের এসব স্ট্যান্ডে মাইক্রোবাসগুলোতে যাত্রী উঠা নামা করে। চাঁদা উঠানোর এসব স্ট্যান্ডে রয়েছে অন্তত ৫০জন লাইনম্যান। বিআরটিএ’র নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মহাসড়কে বড় বড় যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে এসব দরজাখোলা মাইক্রোবাস। অনুসন্ধানে জানা যায়, এধরণের দরজাখোলা মাইক্রোবাসের বেশিরভাগই সড়কে চলাচল অনুপোযোগী। নেই ফিটনেস সার্টিফিকেট, ইনস্যুরেন্স এবং রুট পারমিটের বৈধতাও। এধরণের যানবাহন চলাচলে যাতে আইনি কোন সমস্যায় পড়তে না হয় এজন্য সমিতিও গড়ে তোলা হয়েছে। সমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাও দেয়া হয় সবকিছু ম্যানেজ করার জন্য। অবৈধ এসব মাইক্রোবাসের বেশ ক’জন মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়ক থেকে সিএনজি অটোরিকশা তুলে দেয়ার পর অনেকেই পুরাতন মাইক্রোবাস যাত্রী পরিবহনের জন্য মহাসড়কে নামিয়েছেন। মহাসড়কে ঝামেলা হলে শ্রমিক নেতারা বিষয়টি দেখভাল করেন।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ অপু জানান, মহাসড়কে সবধরণের অবৈধ যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও হাইওয়েতে কর্তব্যরত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। অবৈধ, নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে বেশকিছু মাইক্রোবাস দরজাখোলা অবস্থায় যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করে থাকে। যা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এসব যানবাহনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। এগুলোর ব্যাপারেও হাইওয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা থাকতে হবে। এধরণের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে ভ্রমণ পরিহার করতে পারলে যাত্রী সঙ্কটের কারণে মহাসড়কে এগুলোর চলাচল অনেকাংশে কমে আসবে।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথারিটি- বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের সহকারি পরিচালক এম.এ আশরাফ সিদ্দিকী জানান, দরজাখোলা মাইক্রোবাসগুলোর বেশিরভাগই মহাসড়কে চলাচল অনুপোযোগী। এগুলোর ফিটনেস, রুটপারমিট নেই। আমরা প্রতিমাসেই অভিযান পরিচালনা করে এধরণের মাইক্রোবাসসহ অবৈধ সকল যানবাহন আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে থাকি। আবার কোনটির জরিমানা করা হয়। এছাড়াও আমরা কুমিল্লা জেলার ৭২টি পেট্রলপাম্পে হাইকোর্টের নিদের্শনা অনুযায়ি নোটিশ টানিয়ে দিয়েছি যাতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন, ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন কোন যানবাহনকে জ্বালানি সরবরাহ করা না হয়। এব্যাপারে আমাদের মনিটরিংও হচ্ছে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন