Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, ১৮ রজব ১৪৪০ হিজরী।

মুবারক হো মাহে রমজান

প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুনশী
তেইশে রমজান শবে কদর তালাশ করা
আজ ২২ রমজান। অদ্য দিবাগত রাতটি ২৩ রমজানের বেজোড় রাত। এ রাত ফজিলতপূর্ণ ও লাইলাতুল কদরের একটি সম্ভাব্য রাত। অতএব প্রত্যেক মুসলিমের উচিত এ রাতে জাগ্রত থাকা ও অধিক হারে ইবাদত-বন্দেগী করা। তেইশের রাতে চাঁদ বড় গামলার [অর্ধেকের] ন্যায় হয়। আলো ¯িœগ্ধ ও কোমল হয়। দেহ মনে ইবাদতের অনুরাগ বহু গুণে বর্ধিত হয়।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস জুহানী (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন : ‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি দেখেছি, আমি সে রাতের সকালে পানি ও মাটিতে সিজদাহ করছি। বর্ণনাকারী বলেন, তেইশ তারিখের রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সা: আমাদের সাথে সালাত আদায় করে ঘুরে বসেন। তখন তাঁর কপাল ও নাকের ওপর পানির ও মাটির আলামত ছিল। তিনি বলেন : আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস বলতেন; সেটা ছিল রমজানের তেইশ তারিখ। (সহীহ মুসলিম : হাদীস নং-১১৬৮; মুসনাদে আহমাদ : খ- ৩, পৃষ্ঠা ৪৯৫; সুনানে আবু দাউদ : হাদীস নং- ১৩৭৯)
ইমাম মালেক (রহ:)-এর মুয়াত্তার এক বর্ণনায় আছে, একদা আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস রাসূলুল্লাহ সা:-এর খেদমতে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সা:। আমি খুব দূরের লোক। আমাকে একটি রাতের নির্দেশ দেন, যেন আমি আপনার খেদমতে উপস্থিত হতে পারি। তিনি বললেন : তুমি রমজানের তেইশের রাতে আস।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালেক : খ- ১, পৃষ্ঠা ৩২০)।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রমজানে ঘুমিয়েছিলাম। আমাকে নিয়ে আসা হলো। বলা হলো আজ কদরের রাত। তিনি বলেন : আমি তন্দ্রাসহ দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ সা:-এর তাঁবুর রশি ধরে তাঁর নিকট আগমন করলাম। তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তিনি বলেন : আমি লক্ষ করলাম সে রাত ছিল তেইশের রাত। আমি চাঁদের দিকে দেখলাম, আমি তা গামলার অর্ধেক টুকরার ন্যায় দেখলাম। আবু ইসহাক সাদিহী বলেছেন, তেইশের রাতে চাঁদ অনুরূপ হয়। (মুসনাদে আহমাদ : খ- ১, পৃষ্ঠা ২৫৫; ইবনে আবি শায়বাহ : খ- ২, পৃষ্ঠা ২৫০; তাবরানী কিল কাবীর : খ- ১১, পৃষ্ঠা ২৯২; হাদীস নং-১১৭৭৭; মাযমাউয যাওয়ায়েদ : খ- ৩, পৃষ্ঠা ৭৬, সুনানে নাসাঈ : হাদীস নং-৩৪১১;)
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর নিকট লাইলাতুল কদরের আলোচনা করলাম। তিনি বললেন : তোমাদের মধ্যে কে স্মরণ করতে পারে সে সময়ের কথা যখন চাঁদ উদিত হয় গামলার অর্ধেক টুকরার ন্যায়? (সহীহ মুসলিম হাদীস নং-১১৭০)। এতে বোঝা যায় যে, সাহাবায়ে কেরাম ইবাদত-বন্দেগী ও জিকির করার উদ্দেশ্যে ফজিলতপূর্ণ রাত অন্বেষণ করতেন এবং সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা:কে জিজ্ঞেস করতেন। অতএব তেইশে রমজানের রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করার প্রবণতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক, এটাই আজকের একান্ত কামনা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মুবারক হো মাহে রমজান
আরও পড়ুন