Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সব হাসপাতালে তামাকবিরোধী সাইনেজ স্থাপন করতে হবে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

দেশের সব হাসপাতালে আইন অনুসারে পর্যাপ্ত পরিমাণ তামাকবিরোধী সাইনেজ স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত লাইন ডিরেক্টর ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামের ম্যানেজার ডা. রায়হান-ই-জান্নাতকে তিনি এই অনুরোথ জানান। একই সঙ্গে তামাক কর কাঠামো সংস্কার ও কর বাড়াতে ১০০ এমপিকে নিয়ে কাজ করার ঘোষণা ডা. হাবিবে মিল্লাত।

সেমিনারে রাজধানীর সব সরকারি হাসপতালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন পরিস্থিতি জানতে পরিচালিত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুসারে দেশের হাসপাতালগুলো সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ঢাকার ৭১ শতাংশ সরকারি হাসপাতালে ধূমপান হয়, এমন প্রমাণ হিসেবে সিগারেটের বাট, ধোঁয়ার গন্ধ ইত্যাদি পাওয়া গেছে। আর এক-তৃতীয়াংশ হাসপাতালে কাউকে না কাউকে সরাসরি ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের অ্যান্টি-টোব্যাকো প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আহমাদ খাইরুল আবরার সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ঢাকার ৫১টি হাসপাতালে জরিপটি পরিচালিত হয়। জরিপে ঢাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হাসপাতালে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে পানের পিক, চুনের দাগ দেখা গেছে। আর সরাসরি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করতে দেখা গেছে প্রায় অর্ধেক হাসপাতালে (৪৫ শতাংশ)। জরিপে দেখা যায়, ঢাকার ৮০ শতাংশ সরকারি হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি হয়। এমনকি ১৮ শতাংশ হাসপাতালের সীমানার মধ্যেই এমন দোকান রয়েছে।

অপরদিকে হাসপাতালগুলোতে আগত রোগী ও দর্শনার্থীদের তামাক ছাড়ার ব্যাপারে সহায়তা দিতে তামাক নিবৃত্তকরণ ক্লিনিক থাকা জরুরি। কিন্তু ৫১টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র একটিতে এই সুবিধা রয়েছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাতীয় প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েল উপ-সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য) শামীমা ফেরদৌস, বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ডা. মোল্লা ওবায়দুল্লাহসহ বিভিন্ন তামাকরিবোধী সংগঠনের সদস্যরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্বাস্থ্য


আরও
আরও পড়ুন