Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ২২ জানুয়ারী ২০২০, ০৮ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

৬৩ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ

ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৬৩জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ^বিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটি। সুপারিশের আলোকে বিশ্বিবদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাস সিন্ডিকেটের পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্তভাবে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধে মামলার আসামী, ছিনতাই, সাংবাদিক মারধরসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারসহ কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এরআগে ২০১৮ সালে ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। পরে ‘ঘ’ ইউনিটের পুন:পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্যে ৮৭জনের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পায় শৃঙ্খলা কমিটি। পরবর্তীতে তাদেরকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না সে বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভা। এরপর যাচাই-বাছাই করে ৬৩জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা কমিটি। যা আগামী সিন্ডিকেট সভায় পাশ হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর একে এম গোলাম রব্বানী বলেন, মোট ৮৭ জনের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। এরমধ্যে ৬৩ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। ৯ জনকে আগেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। এছাড়া এর আগে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে ১৫ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সময় ছিনতাই ও মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ১৩ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগে দুইজনকে চিহ্নিত করে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। তাদেরকেও বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া মুহসীন হল ছাত্রলীগের চার নেতাকেও স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। গত বছরের ৮ অক্টোবর রাতে মহসীন হলের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে পিস্তল, বঁটি, সিসিক্যামেরা, হাতুড়ি, লাঠিসহ আটক করা হয় দুই ছাত্রলীগ নেতাকে। অন্য দুই নেতা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির ক্রীড়াবিষয়ক উপ-সম্পাদক হাসিবুর রহমান তুষার, দর্শন বিভাগের ১ম বর্ষের (২০১৫০১৬) ছাত্র ও ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী অর্থবিষয়ক উপ-সম্পাদক আবু বকর আলিফ, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও হল শাখা ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক উপ-সম্পাদক মো. ইফতেখার ইসলাম তুষার এবং বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ও হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ইমরান হোসেন (ইমরান ফরহাদ ইমু)।
প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, এটা একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। যা আগে কেউ করতে পারেনি। এখানে যাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে তারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী শিক্ষার্থী। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অপরাধীর স্থান হতে পারেনা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢাবি

৭ জানুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ