Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী

আজীবন ক্ষমতায় থাকার উপায় খুঁজছেন পুতিন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০, ৪:৩৯ পিএম

রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ মন্ত্রিসভার আকস্মিক পদত্যাগের পর প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ক্ষমতা আরও সুসংহত হয়েছে। বুধবার পুতিন রাশিয়ার সংবিধান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় দিমিত্রি মেদভেদেভ সরকার ভেঙ্গে দেন। রাশিয়ার সরকারী সংবাদ সংস্থা তাসের এক খবরে বলা হয়েছে, সংবিধানের নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মেদভেদেভ বর্তমান রুশ নেতা ভøাদিমির পুতিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। মেদভেদেভ প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পুতিন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। খবর আলজাজিরা, সিএনবিসি, বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

দিমিত্রি মেদভেদেভকে এখন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান করা হয়েছে। অপরদিকে ৫৩ বছর বয়সী মিখাইল মিশুস্টিনকে করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী। অর্থনীতিতে ডক্টরেট সম্পন্ন মিশুস্তিন দীর্ঘদিন দেশটির কর দফতরের প্রধান ছিলেন। আইটি বিশেষজ্ঞ ও তুখোর পিয়ানো বাদক মিখাইল মিশুস্তিনের চেষ্টায় রুশ কর বিভাগে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বুধবার মেদভেদেভ সরকার ভেঙ্গে দেয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন পুতিন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন এক সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি দেশের জন্য অনেক করেছেন। আমরা যৌথভাবে যা অর্জন করেছি- তা অবশ্যই সন্তোষজনক। রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন বলেন, আমরা যা অর্জন করেছি- তা হয়ত অনেক বেশি কিছু নয়। সবকিছু একসঙ্গে অর্জন করা যায় না।
৬৭ বছর বয়সী পুতিনের দায়িত্বকাল ২০২৪ সালে শেষ হবে। তখন তার বয়স হবে ৭১। কিন্তু প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৭১ বছর বয়সী কোন নেতার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের বিধান নেই। এ জন্য রুশ সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন সাবেক কেজিবি অফিসার ভøাদিমির পুতিন।
এদিকে দিমিত্রি মেদভেদেভের সরকার ভেঙ্গে দেয়া ও পুতিনের ক্ষমতা আরও সুসংহত হওয়ার বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে রাশিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনি। বুধবার এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, নিজের ক্ষমতা আরও পোক্ত করতে পুতিন এসব করছেন। কারণ তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চান এবং তিনি পুরো রাশিয়াকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন। মেদভেদেভের সরকার ভেঙ্গে দেয়া প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ার পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে মেদভেদেভ সরকার ভেঙ্গে দেন। তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের ঘোষণা সত্যিই বিস্ময়কর ছিল। কারণ মেদভেদেভ এই ঘোষণা দেয়ার আগে তার মন্ত্রিসভা কিছুই জানতো না। মেদভেদেভ এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। মেদভেদেভ যখন প্রেসিডেন্ট তখন পুতিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর মধ্যে রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনের দাপট কমানো, প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের নিয়ম সংশোধন করা, বিদেশি নাগরিকত্ব কিংবা বিদেশে বসবাসের অনুমতি থাকা ব্যক্তিদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে নিষিদ্ধের আইন সুসংহত করার কথাও বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
পুতিনের ভাষণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদভ মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পদত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার দুমার অনুমোদনের পর রুশ প্রেসিডেন্ট এক ডিক্রিতে ৫৩ বছর বয়সী মিশুস্তিনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। পুতিনের এ আচমকা সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব ও প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনকে ‘জানুয়ারি বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেছে রুশ দৈনিক কোমারসাস্ত।
পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের অনেকেই সাবেক কেজিবি গোয়েন্দার এ পদক্ষেপকে ‘আজীবন ক্ষমতায় থাকার’ উপায় হিসেবে দেখছেন। এ দফায় পুতিন টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালে। তাই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য পুতিন ক্ষমতা ছাড়বেন, নাকি সংবিধানই পরিবর্তন করবেন তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই গণভোটের এ প্রস্তাব এল।
মেয়াদ শেষের পর কি করবেন তা এখনো বলেননি পুতিন। বর্তমান সংবিধানের আওতায় তিনি আরেকবারের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াতে পারছেন না। বৃহস্পতিবার পুতিন সংবিধানের সংশোধনী নিয়ে গঠিত ‘ওয়ার্কিং গ্রুপের’ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ গণমাধ্যমগুলো। সংশোধনী প্রস্তাব প্রস্তুতে রুশ প্রেসিডেন্ট এক মাসের সময়ও বেঁধে দিয়েছেন, বলেছে তারা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পুতিন


আরও
আরও পড়ুন