Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

পর্যটনের হাতছানি দিয়ে ডাকছে মীরসরাই

ইমাম হোসেন, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা। যেখানে গিরি-নদীর মিলনস্থলে ছায়া হয়ে দিগন্তে মিশে গেছে নীলাকাশ। এই সৌন্দর্যকে দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর মানুষের কাছে আরো সহজে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং দেশের পর্যটন শিল্পকে আরো একধাপ এগিয়ে নেয়ার লক্ষে এখানে তৈরি হয়েছে দেশের ২য় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া সেচ প্রকল্প। যদিও মীরসরাইয়ে আরো অনেকগুলো পর্যটন কেন্দ্র থাকলেও এই তিনটা সব চেয়ে বেশি পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র। খৈয়াছরায় ৮ স্তরের ঝর্ণাসহ আরো একাধিক ঝর্ণা, মহামায়া লেক ও মুহুরি প্রজেক্ট দেখতে হাজার হাজর পর্যটক পরিবার, প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব কে নিয়ে ভীড় জমাচ্ছেন।
মহামায়া : যেখানে ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ী ছড়ার মিলন মোহনায় রয়েছে স্বচ্ছ সবুজ জলাধার। পাহাড়ী ঝর্ণা প্রবাহ হতে সৃষ্ট জলধারা এর সৌর্ন্দয বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মহামায়া প্রকল্পের আওতায় মাটির ড্যাম, এপ্রোচ রোড, স্পিলওয়ে, ইনট্রেক স্ট্রাকচার রয়েছে। এখানে রয়েছে মাছ শিকারীদের জন্য অপুরন্ত সুযোগ। যে কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০০ টাকা হারে বড়শীর ২টা চীপ নির্ধারিত স্থানে ২৪ ঘন্টার জন্য মাছ ধরতে পারেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অবকাশ যাপনের জন্য পাহাড়ের খাঁজে নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক কটেজ। যা প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাবে বলে পর্যটকদের ধারণা। উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে ২ কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে তোলা হয়েছে ১১ বর্গ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই কৃত্রিম লেক।
মুহুরী সেচ প্রকল্প: মীরসরাইয়ের পশ্চিম প্রান্তে এবং সোনাগাজী থানার পূর্বে ফেনী নদীতে মুহুরী সেচ প্রকল্প অবস্থিত। প্রকল্পটি কাজ শুরু হয় ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরে এবং বাস্তবায়িত হয় ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে। মুহুরী প্রকল্প এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। উপকুলী বনাঞ্চল, গরু-মহিষ, ভেড়ার খামার, সমুদ্রের জোয়ার, উম্মুক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যের রক্তিম দৃশ্য দেখা এবং প্রকল্প বাঁধ এলাকা দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত পর্যটক এই এলাকায় সমেবত হয়। বিশেষত শীতকালীন সময়ে দুর-দুরান্ত থেকে পর্যটকরা প্রকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত উম্মুত্ত স্থানে বনভোজন করতে আসেন। জোরারগঞ্জ থেকে মুহুরী সেচ প্রকল্পর দুরুত্ব প্রায় প্রায় ৫ কিলোমিটার। পর্যটকরা খুব সহজে যে কোনো ধরনের গাড়ি নিয়ে এই প্রকল্প দেখতে যেতে পারে। মুহুরী প্রজেক্ট যাওয়ার জন্য জোরারগঞ্জ বাজার থেকে শুধুমাত্র সিএনজি যোগে জন প্রতি ৩০ টাকা মুহুরী প্রজেক্ট গেইটে যাওয়া যায়। এরপর গেইট থেকে ১৫ টাকা ভাড়া মুহুরী সেচ প্রকল্পে যাওয়া যায়।
ঝর্ণা: মীরসরাইকে ঝর্ণা শহর বলা হয়। কারণ এখানে রয়েছে, খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নয়দুয়ারিয়া ঝর্ণা, মহামায়া ঝর্ণা, রুপসি ঝর্ণা, বোয়াইল্লাছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, কমলদহ ঝর্ণা, ইত্যাদি। তবে ভরা বর্ষা মৌসুমে ঝর্ণাগুলো পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে।
কিভাবে যাবেন: ঢাকার ফকিরাপুল কিংবা যাত্রাবাড়ি থেকে এসি বাস ১০০০-১২০০ টাকা বা নন এসি ৪৮০-৬০০ টাকা গাড়িতে করে মীরসরাইয়ে ঠাকুরদিঘি বাজারে নেমে ১০০ গজ দক্ষিণ দিকে পাঁয়ে হেঁটে মহামায়া সিএনজি স্টেশনে গিয়ে জনপ্রতি ২০ টাকা করে নিয়ে মহামায়া গেইটে নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে জনপ্রতি ১০ টাকা টিকেট কেটে দেখা নান্দনিক সৌন্দর্যের ভরপুর মহামায়া লেক। এছাড়া ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত ১০টা আন্তঃনগর ঢাকা মেইলে যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন : বারইয়ারহাট পৌরসদরে থাকার জন্য একাধিক হোটেল রয়েছে। যার ভাড়া সিঙ্গেল ৩০০-৭০০ টাকা ডাবল ভাড়া ৬০০-১৪০০টাকা। মীরসরাই ডাক-বাংলো থাকা যায়। একাধিক পর্যটক হলে পাশ্ববর্তী উপজেলা সীতাকুন্ড পৌরসদরে থানা রোড ও কলেজ রোডে মানসন্মত একাধিক হোটেল রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পর্যটন


আরও
আরও পড়ুন