Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ শাবান ১৪৪১ হিজরী

সরিষায় মুনাফার স্বপ্ন

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে | প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

কুমিল্লায় সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ। সরিষার হলুদ রাজ্য মৌ মৌ গন্ধ আকৃষ্ট করছে মৌমাছিদের। অন্যদিকে বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখেও ফুটে ওঠছে খুশির ঝিলিক। এবারে কুমিল্লা জেলায় ৯ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করে বড় ধরণের মুনাফার স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা।
ধান পাট ও চায়ের পর অর্থকরী ফসল হিসেবে সরিষার চাহিদা কোন অংশেই কম নয়। প্রতিবছরেই কুমিল্লায় সরিষা আবাদে বাড়ছে আগ্রহী কৃষকের সংখ্যা। আমনের বাম্পার ফলন শেষে একই জমিতে সরিষার বাম্পার ফলনে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে কুমিল্লার সরিষা চাষিদের মুখে। কুমিল্লার মুরাদনগর, আদর্শ সদর, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, ব্রাহ্মনপাড়া, বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বার, দাউদকান্দি, হোমনা, মেঘনা, তিতাস, চান্দিনা, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। এবারের মৌসুমেও এসব উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাঠের পর মাঠ সরিষার হলুদ আলোয় জ্বলে উঠেছে।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এবারে কুমিল্লা জেলায় ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমের মতো এবারেও মুরাদনগর উপজেলায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা ফলনে শীর্ষে রয়েছে। এর পরেই ফলনের দিক থেকে রয়েছে হোমনা ও নাঙ্গলকোট উপজেলা। গত দশ বছরের মধ্যে এবারের ফলন কুমিল্লায় রেকর্ড গড়েছে।
কুমিল্লার বেশ কটি উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে দুলছে সরিষা আর সরিষা। কৃষকরা পরম পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সরিষার মাঠে। মাঘের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষেত থেকে সরিষা সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। তারপর বিক্রির পালা। কেউবা সরাসরি কারখানায় নিয়ে যাবে তেল উৎপাদনের জন্য। কুমিল্লার মুরাদনগর ও হোমনা উপজেলার কৃষকরা জানান, কম পুঁজিতে সরিষা চাষে দ্বিগুণ লাভ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৪/৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৮ মন সরিষা উৎপাদন করা যায়। যার বাজার মূল্য দশ হাজার টাকার কাছাকাছি পাওয়া যায়। এসব এলাকার কৃষকরা জানান, সরিষা আবাদ করে তারা স্বাবলম্বি। আমন তোলার পর খালি মাঠে চলে সরিষা আবাদের কাজ। এ ফসলটি আবাদের বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলতে পারলে তারা সেরা সরিষা বান্ধব চাষি হয়ে উঠবে।
এবারে কুমিল্লার প্রত্যেক সরিষা চাষি অধিক মুনাফা লাভ করবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুরজিত চন্দ্র দত্ত জানান, আমন-বোরোর মাঝখানের সময়টি সরিষা আবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী সময়। সরিষা অত্যন্ত লাভজনক পণ্য। আমরা সব সময় কৃষকদের চাষাবাদের ব্যাপারে সবধরণের সহযোগিতা পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরিষা আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক অনেক কম লাগে। সরিষা চাষ করে কুষকরা শুধু তেলই তৈরি করে না। সরিষা ভাঙিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরি হয় যা ভালো গো-খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এবারে সরিষা আবাদে কৃষিবিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সরিষা

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৯ জানুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন