Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ০৪ রজব ১৪৪১ হিজরী

রাজধানীতে ছাত্রলীগ নেতা খুনের নেপথ্যে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

বনানীতে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব খুনের নেপথ্যে অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ। বনানীর কড়াইল টিএন্ডটি বস্তির অবৈধ বিদ্যুত সংযোগের প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয় বলে জানান তার বাবা আলতাফ হোসেন। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত করার পর এই মামলার চার্জশিট ও বিস্তারিত জানা যাবে।
সূত্র জানায়, বনানীর কড়াইল টিএন্ডটি বস্তির ঘরে বিদ্যুত সংযোগ নিতে হয় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। অবৈধ সংযোগে প্রতি বছর এই সিন্ডিকেট অর্ধ কোটি টাকা চাঁদা তোলে। বস্তিতে বৈধ বিদ্যুত সংযোগের জন্য ডেসার গুলশান জোন অফিসে আবেদন করেন বনানীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হোসেন হামজা। আর এই আবেদন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ দেয়া ওই সিন্ডিকেটটি উঠে পড়ে লাগে তার বিরুদ্ধে। ওই সিন্ডিকেটটি কড়াইল টিএন্ডটি বস্তিতে মাদক ব্যবসা বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসা চালায়। এটারও প্রতিবাদ করে রাকিব। এসবের জের ধরে ওই সিন্ডিকেটের একদল দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাকিবের ওপর হামলে পড়ে। তারা টিএন্ডটি কলোনীতে রাকিবের বাড়ির সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনার পর এখনও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিট প্রদান করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার বাদী নিহত রাকিবের বাবা আলতাফ হোসেন বলেন, তার ছেলে বিএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর তেজগাঁও কলেজ থেকে মার্কেটিং বিভাগ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে। পরে সরকারি তিতুমীর কলেজে মার্কেটিং বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হয়। রাকিব আর দশটা ছাত্রলীগ নেতার মত দ্বিগভ্রান্ত ছিল না। পড়াশুনায় মেধাবী রাকিব টিএন্ডটি কলোনীতে মাদকের বিরুদ্ধে অন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ২০১৮ সালটা ছিল সারাদেশে ইয়াবার বিরুদ্ধে র‌্যাব ও পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালায়। রাকিবও ওই সময় কলোনীতে মাদকের বিরুদ্ধে একাধিক সমাবেশ করেছিল এবং একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করেছিল। টিএন্ডটি বস্তিতে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রাকিব ছিল সোচ্চার। এ কারণে রাকিব বস্তিতে বৈধ বিদ্যুত লাইন দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। এটাই ওর জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াল। ওই সিন্ডিকেটের বোচা সজীব, জসিমসহ ৭/৮ জন কলোনীর বাড়ির সামনে রাকিবকে কুপিয়ে হত্যা করল।
রাকিবের মা মাকসুদা হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের মেধাবী রাজনীতি করতে গিয়ে তার সন্তানকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এখন আমরা বিচার পাচ্ছি না। দেশে বড় বড় হত্যাকান্ডের বিচার হচ্ছে। কিন্তু আমার সন্তান হত্যার বিচার হচ্ছে না। ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান এলাকায় বিদেশীদের কাছ থেকে ছিনতাই করার অভিযোগ রয়েছে। এরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী। আমার ছেলেকে কেন হত্যা করল, তা আজও জানতে পারিনি। পুলিশও বিষয়টি স্পষ্ট করছে না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, বনানী থানায় মামলা তদন্তের সময় প্রধান আসামি শফিকুল ওরফে বোচা সজীবকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়। এর পাশাপাশি আতাউর রহমান বিল্লাল নামে সন্দেহভাজন একজন আসামি গ্রেফতার করে। মামলাটি পরবর্তীতে তদন্তের ভার পড়ে পিবিআইয়ের ওপর। পিবিআই এজাহারনামীয় আসামি জসিমকে গ্রেফতার করে। মামলায় অজ্ঞাত ৭/৮ জন পলাতক আসামি রয়েছে। গ্রেফতারকৃত বোচা সজীব ও জসিম কারাগারে রয়েছে। এরা এখনও হত্যা সংক্রান্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও অজ্ঞাত আসামীদের শনাক্ত করার পর এই মামলার চার্জশিট প্রদান করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্রলীগ

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ