Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬ মাঘ ১৪২৭, ০৬ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

বকেয়া ৩০ শতাংশ মওকুফ করলো সিসিএস ক্রিকেটাররা!

প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : প্লেয়ার্স ড্রাফটে সবচেয়ে কম বাজেটের দল গড়েও খেলোয়াড় সংগ্রহে ৮২ লাখ টাকা স্পর্শ করেছে সিসিএস’র বাজেট। তিন কিস্তিতে ৩০, ৩০ এবং ৪০ শতাংশ হারে ক্রিকেটারদের সম্মানী দেয়ার শর্তে রাজি থেকেও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে না পারায় গত পরশু পর্যন্ত ৮ শতাংশের বেশি পেমেন্ট ক্রিকেটারদের হাতে বুঝিয়ে দিতে পারেনি প্রিমিয়ার ডিভিশন থেকে প্রথম বিভাগে অবনমন হওয়া এই ক্লাবটি। ক্রিকেটারদের সম্মানী দিতে ক্লাবটি টালবাহানা করায় সিসিএস ক্রিকেটাররা বাধ্য হয়ে পাওনা আদায়ে শরণাপন্ন হয়েছে বিসিবি’র। কামনা করেছে বোর্ডের হস্তক্ষেপ। তাতেই গত পরশু সিসিএস’র ১১ ক্রিকেটার বোর্ডের তরফ থেকে পেয়েছে সম্মানীর ৫২ শতাংশ অর্থ। বিসিবির পক্ষ থেকে এই পরিমাণ পেমেন্ট ক্রিকেটাররা পাওয়ায় গতকাল ক্লাবটি বকেয়া পারিশ্রমিকের ১০ শতাংশ দিয়েছে বুঝিয়ে। শেষ কিস্তির অবশিষ্ট যে ৩০ শতাংশ আছে বকেয়া, সেই পরিমাণ অর্থ মওকুফে ক্রিকেটারদের কাছে অনুরোধ করেছেন ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইউসুফ চৌধুরী নিকু। গতকাল একটি অনলাইনে সেতথ্য দিয়েছেন দলটির এক ক্রিকেটারÑ‘বোর্ড আমাদের ৫২ ভাগ বকেয়া পরিশোধ করার পর আজ (গতকাল) নিকু ভাই আমাদের আরও দশ ভাগ অর্থ পরিশোধ করে। সব মিলিয়ে আমরা ৭০ ভাগ অর্থ বুঝে পেয়েছি। বাকি ৩০ ভাগ টাকা মওকুফ করার অনুরোধ জানিয়েছেন নিকু ভাই। ক্লাবের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলেই তিনি এ অনুরোধ করেছেন। আমরা সবাই আলোচনা করে এই ৩০ ভাগ অর্থ ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন নিকুÑ‘মওকুফের বিষয়টি নতুন নয়। যতটুকু পেরেছি দিয়েছি। এরপর বোর্ড কিছু দিয়েছে। এজন্য বোর্ডকে ধন্যবাদ। খেলোয়াড়দের হাসিমুখ দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। বিসিবি ক্রিকেটারদের টাকাটা দিয়ে দারুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পাপন ভাইকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। ঈদটা ভালো মতো করতে পারবে। তবে প্লেয়ার বাই চয়েজে দল-বদল হওয়ায় আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। যারা আমার দলের হয়ে খেলেছে, তাদের অনেকের সঙ্গেই আমি আগে চুক্তি করে ফেলেছি। সাইফ হাসান ও সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে আমি ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু এই পদ্ধতিতে দল-বদলে ওদের দু’জনকে ২৪ লাখ টাকা দিতে হতো।’
তবে ঈদের আগে ক্রিকেটারদের বকেয়া বিসিবি পরিশোধ করায় এই পরিমাণ অর্থ পরিশোধে তাগিদটা অনুভব করছেন সিসিএস সাধারণ সম্পাদকÑ‘বোর্ড কী উদ্দেশ্যে ক্রিকেটারদের পেমেন্ট দিয়েছে, তা এখন পর্যন্ত জানি না। ক্রিকেটারদের হাতে পেমেন্ট দেয়ার ব্যাপারে বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ইনফরমেশন পাইনি। বিসিবির কাছে আমরাও কিছু অনুদানের টাকা পাবো। অ্যাপিয়ারেন্স ফি’র ৭ লাখ টাকা বুঝে পেয়েছি। কিন্তু এখনো বিপিএল’র খাত থেকে ১৫ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডিং অনুযায়ী আমরাও প্রাইজমানি খাতে আড়াই লাখ টাকার মতো পাবো। ঢাকার বাইরে খেলার জন্য যাতায়ত খরচা খাত থেকে আরো প্রায় ২ লাখ টাকা পাবার কথা। এই তিন খাত মিলিয়ে বোর্ডের কাছে প্রায় ২০ লাাখের মতো পাবো। ক্রিকেটারদের হাতে বুঝিয়ে দিয়েছে বিসিবি প্রায় ৪৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ এখন ২৪ লাখ টাকার মতো দেনা আছি বিসিবির কাছে। যতো দ্রæত সম্ভব সমন্বয় করে এই পরিমাণ টাকা বিসিবিকে বুঝিয়ে দিবো।’
এদিকে, দু’টি ক্লাবের (সিসিএস এবং কলাবাগান একাডেমি) ক্রিকেটারদের প্রথম দুই কিস্তির বকেয়া সম্মানী বিসিবি পরিশোধ করলেও এখনো ব্রাদার্স এবং ভিক্টোরিয়া ক্রিকেটারদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় উদ্বিগ্ন এই দল দু’টির ক্রিকেটাররা। ভিক্টোরিয়া এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চুপ থাকলেও গতকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম সিটির মেয়ার ও বিসিবি পরিচালক আ.জ.ম নাছির ঈদুল ফিতরের আগে দ্বিতীয় কিস্তির ৩০ শতাংশ টাকা ক্রিকেটারদের হাতে বুঝিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ক্লাবটির স্পন্সর ফোর এইচ গ্রæপের টাকা হাতে পেয়ে আগামী ৪ জুলাই এই পরিমাণ অর্থ ক্রিকেটারদের হাতে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে গতকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে শাহরিয়ার নাফিস, ইমরুল কায়েসদের আশ্বস্ত করেছেন আ.জ.ম নাছির। এ তথ্য দিয়েছেন প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের কো-অর্ডিনেটর এবং ব্রাদার্সের ক্রিকেট ম্যানেজার আমিন খান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বকেয়া ৩০ শতাংশ মওকুফ করলো সিসিএস ক্রিকেটাররা!
আরও পড়ুন