Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ ৪ আসামি কারাগারে

চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভার আগে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন গতকাল রোববার শেষ হয়েছে। অন্যদিকে মামলার চার আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন এ নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলেন- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কন্সটেবল- মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, শাহ মো. আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। বিশেষ জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাড়ে ১২টা থেকে চারটা পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছি। আদালত সোমবার আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।

বিশেষ পিপি আদালতকে বলেন, তৎকালীন উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়ে আসামিদের চিহ্নিত করেছেন। সেদিন উর্দ্ধতন পুলিশ অফিসাররা উপস্থিত থাকার পরও আসামিরা পেট্রোল ইন্সপেক্টর জে সি মন্ডলের নির্দেশে গুলি চালায়, এতে সাক্ষীদের সামনেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তখনকার চান্দগাঁও থানার ওসি সাহাবুদ্দিন সাক্ষীতে বলেছেন ঘটনার আগের দিন তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদা লালদীঘি সমাবেশে বল প্রয়োগের কথা বললে অন্য কর্মকর্তারা বিরোধিতা করেছিলেন। তখন রকিবুল হুদা তাদের গালিগালাজ করেন। এতে পরিষ্কার গুলিবর্ষণ ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। এজন্য আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রার্থনা করেছেন বলেও জানান তিনি।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দেয়ার মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে বহনকারি ট্রাকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এতে ২৪ জন মারা যান। গুলিবর্ষণের সময় আইনজীবীরা মানববেষ্টনি তৈরির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন। গুলিতে নিহতদের কারও লাশ পরিবারকে না দিয়ে হিন্দু-মুসলিম নির্বিচারে সবাইকে বলুয়ার দীঘি শ্মশানে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। আদালতের আদেশে সিআইডি মামলা তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম এবং অধিকতর তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
তারা হলেন- চট্টগ্রামের তখনকার পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, কোতোয়ালি অঞ্চলের পেট্রোল ইনসপেক্টর জে সি মন্ডল, কনস্টেবল আব্দুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, শাহ মো. আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। এদের মধ্যে রকিবুল হুদা, বশির উদ্দিন ও আব্দুস সালাম মারা গেছেন। জে সি মন্ডল পলাতক আছেন। বাকি চারজন জামিনে ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গণহত্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ