Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ০৩ রজব ১৪৪১ হিজরী

‘মাহমুদউল্লাহ-ই আমার অধিনায়ক’

পাকিস্তানে মুশফিকে মিস করবেন ডমিঙ্গো

ইমরান মাহমুদ | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

ফিক্সিং প্রস্তাব গোপন করায় গত অক্টোবর থেকে নিষিদ্ধ বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ভারত সফর সামনে থাকায় সময় নষ্ট না করে তড়িৎ তার বদলি দলনেতা ঘোষনা করে বিসিবি। ক্ষুদ্র ফরম্যাটের আর্মব্যান্ড দেয়া হয় আরেক অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে, লংগার ভার্সনের দায়িত্ব পান টেস্ট মাস্টার মুমিনুল হক। দু’জনেরই প্রথম পরীক্ষা ভারত সফরে জয়ের মুখ না দেখেও প্রসংশা কুড়িয়েছেন কোচ, নির্বাচকদের।

গত দুই বছরে সাকিবের চোট ও অনুপস্থিতিতে নানা সময়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। সব মিলিয়ে ৬টি টেস্ট ও ৮টি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। আসছে পাকিস্তান সফরেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। দু’বছরের নিষেধাজ্ঞাসহ সাকিবের এক বছরের স্থগিতাদেশের (শর্ত সাপেক্ষে) মেয়াদ শেষ হবে আসছে অক্টোবরে। ততদিনে অস্ট্রেলিয়ায় বসতে যাওয়া টি-২০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব ‘শেষও’ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের। সব কিছু মিলিয়ে তাই দীর্ঘ সময়ের জন্যই মাহমুদউল্লাহকে পাকাপাকি অধিনায়ক হিসেবে মনে ধরেছে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, ঠান্ডা মাথা আর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আগেই মন জয় করেছেন মাহমুদউল্লাহ। সদ্য শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু বিপিএলেও তার অধিনায়কত্ব প্রশংসিত হয়েছে আসরজুড়ে। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ফাইনালে উঠতে না পারলেও কেয়ালিফায়ার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মূল কৃতিত্বটা মাহমুদউল্লাকে দিতে দ্বিধা করেননি দলের সতীর্থ থেকে শুরু করে মালিকপক্ষও। হাতে ইনজুরি থাকায় বল করা হয়নি, তবে ব্যাট হাতে ৭ ম্যাচে একটি ঝড়ো ফিফটিসহ রান ২০১। দেশে না থেকেও তার এই ফর্মের সাক্ষি হয়েছেন কোচ ডমিঙ্গো। আর তাতেই ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদউল্লাহকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে রাখলেন এই প্রোটিয়া।

পাকিস্তান সফরের প্রথম ধাপকে সামনে রেখে গতকাল থেকে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে তিন দিনের সংক্ষিপ্ত ক্যাম্প। চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। হঠাৎ জ্বরে পরায় এদিন উপস্থিত থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। তাই বুঝি অধিনায়কের হয়ে অনুশীলনটা করলেন কোচ নিজে, ‘আমি আশা করছি সে (রিয়াদ) দ্রæতই সুস্থ হয়ে উঠবে। টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমাদের নেতৃত্ব দিবে। তার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন আছে। আমার মনে হয় ভারত সফরে সে তার দায়িত্ব যথার্থই পালন করেছে। তার সঙ্গে কাজ করে আমি সন্তুষ্ট। আমার মনে হয় সে নিজে যথেষ্ঠ পেশাদার। ড্রেসিং রুমেও তাকে সবাই সম্মান করে। সে বিশ্ব মানের ক্রিকেটার। সে আমার অধিনায়ক।’

অধিনায়ক না হয় ঠিক আছে, গতপরশু ঘোষিত পাকিস্তান সফরের ১৫ সদস্যের টি-২০ দলে এক সঙ্গে এতগুলো ওপেনার হওয়া নিয়ে উঠেছে জল্পনা, ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে চলছে কল্পনা। মিডল অর্ডারে ব্যাট করবেন কয়েকজন ওপেনার, এছাড়াও আর কাকে কোথায় কি ভূমিকায় খেলাবেন সেটি তাই পরিস্কার করেই বললেন কোচ, ‘আমাদের দেখতে হবে অন্যরা মিডল অর্ডারে কিভাবে খেলে। ভারতে তিন নম্বরে ব্যাট করা সৌম্য ছয়ে নামতে পারে। রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) পাঁচে ব্যাট করতে পারে। আফিফ তিন কিংবা চারে নামতে পারে। আমাদের এগুলো (ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করার বিষয়) দেখতে হবে। শান্ত আসর ভালোভাবে শেষ করেছে। এখানে অনেক বিকল্প আছে। কেবল দুই জন ওপেন করতে পারবে বাকিদের মিডল অর্ডার প‚রণ করতে হবে।’

পারিবারিক কারণে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন মুশফিক। তার এই সিদ্ধান্তে প‚র্ণ শ্রদ্ধা আছে ডমিঙ্গোর, ‘মুশির সঙ্গে কথা হয়েছে আমার, সে যাচ্ছে না। আমার মতো সেও পরিবার অন্তপ্রাণ। তার যদি মনে হয়, এটিই তার পরিবারের জন্য ভালো, সেটিকে আমাদের সম্মান করা উচিত।’ তবে মুশফিকের অভাব দল অনুভব করবে পাকিস্তানে, সেটি অকপটেই বললেন বাংলাদেশ কোচ। তবে তার আশা, অন্য কেউ এই সুযোগ লুফে নেবে, ‘ভীষণভাবেই মিস করব, সে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। বাংলাদেশের গ্রেট সে। তার অভিজ্ঞতার অভাব বোধ করবে দল। স¤প্রতি বিপিএলে ভালো করেছে, তার আগে ভারত সফরেও ভালো করেছে। তবে এটি অন্য একজনের জন্য সুযোগ পারফর্ম করার। একদিন মুশি খেলা ছেড়ে দেবে। আমাদের এমন ক্রিকেটার থাকতে হবে, যে মুশির জায়গায় এসে একই পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারবে।’
সৌম্য এমনিতে ওপেনার হলেও এই বিপিএলে ব্যাট করেছেন তিন নম্বর ও মিডল অর্ডারে। সফলও হয়েছেন। টুর্নামেন্টে ১২ ম্যাচে ৩৩১ রান করেছেন তিনি, ৩৩.১০ গড় ও ১৪০.২৫ স্ট্রাইক রেটে। উইকেট নিয়েছেন ১২টি। টি-টোয়েন্টিতে দেশের হয়ে ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম সাত পজিশনে কেবল ছয় নম্বরেই কখনও ব্যাট করেননি তিনি। আফিফ এমনিতে তিন নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করলেও এবারের বিপিএলে ওপেন করেছেন। লিটন দাসের সঙ্গে মিলে গড়েছেন এবারের আসরের সেরা উদ্বোধনী জুটি। দলকে নিয়মিত এনে দিয়েছেন আগ্রাসী শুরু। টুর্নামেন্টে ৩৭০ রান করেছেন ১৩১.২০ স্ট্রাইক রেটে। উইকেট নিয়েছেন ৭টি। একমাত্র বিশেষজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান কেবল অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। মোহাম্মদ মিঠুন বিপিএলে নিয়মিত খেলেছেন তিনে। সব মিলিয়ে তাই ওপেনার আর টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দিয়েই মিডল অর্ডার প‚রণ করতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রথম দফায় আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সিরিজের বাকী দুই ম্যাচ ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি। ২৩ জানুয়ারি সকালে সেখানে পৌঁছবে বাংলাদেশ দল।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ