Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

প্রশাসনে ওএসডি কর্মকর্তা ২৯০ ও ১৭৭জন চুক্তিতে

সংসদে প্রশ্নোত্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ২৯০ জন কর্মকর্তা ওএসডি হিসেবে কর্মরত আছেন। আর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংযুক্ত সংস্থায় চুক্তিভিক্তিক নিয়োগে আছেন ১৭৭ জন। এছাড়া এই মুহুর্তে দেশে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৮ পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। বিএনপি’র সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাগণকে দাপ্তরিক বিভিন্ন কারণে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। জনস্বার্থে যেকোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই এটি একটি নিয়মিত পদায়ন হিসেবেই বিবেচিত হয়। সাধারণতঃ উচ্চতর পদে পদোন্নতির পর উচ্চশিক্ষা, লিয়েন, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য বা অংশগ্রহণ শেষে ফেরত আসা, অবসরোত্তর ছুটি পিআরএলসহ বিশেষ কিছু কারণে কর্মকর্তাগণকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে প্রদান করা হয়।
বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৮ পদ শূন্য আছে। শূন্যপদ পূরণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার পদ সমূহ নিয়োগ প্রদান করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে নিয়মিত নিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে।
২০১৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭ তম বিসিএস এর মাধ্যমে এক হাজার ২৪৮ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ক্যাডারে এবং ৩৯ তম বিসিএস এর মাধ্যমে ৪ হাজার ৬১২ জনকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, সর্বমোট ৫ হাজার ৮৫৯ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়। এছাড়া ৪০তম বিসিএস এর মাধ্যমে এক হাজার ৯১৯টি বিভিন্ন ক্যাডারে শূন্যপদে নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালের পহেলা অক্টোবর হতে সরকারি চাকুরি আইন-২০১৮ কার্যকর করা হয়েছে। আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি দলের সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১২ লাখ ১৭ হাজার ৬২ জন।

ওএসডি সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ চেম্বারে স্থগিত
সরকারি কর্মকর্তাদের ১শ’ ৫০ দিনের বেশি সময় ধরে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (ওএসডি) থাকা কর্মকর্তাদের স্ব-স্বপদে পুনর্বহালের আদেশ ৮ সপ্তাহ স্থগিত করেছেন চেম্বারকোর্ট। সরকারের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আপিল করার নির্দেশ দেন। সরকারের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে ওএসডি থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সঙ্গে কোনও সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি রাখার বিধান অবৈধ ঘোষণা করেও রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এছাড়া, ওই রায়ে একজন সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়। পাশাপাশি যারা ১৫০ দিনের বেশি অতিরিক্ত সময় ওএসডি আছেন, তাদের স্বপদে পুনর্বহালসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে একটি সার্টিফায়েড প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত: ২০১২ সালে ওএসডির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলেন সাবেক সচিব এম আসাফউদ্দৌলাহ। রিটে বলা হয়, ১৯৯১ সালের ৩ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন ৪৫ এবং সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে ওএসডি করে রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। এ কারণে ওএসডির বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত চেয়ে রিট করা হয়।ওই রিটের শুনানির পর আদালতের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদালতে ৯ বছরের একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ মে ওই প্রতিবেদন দেয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০৫ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। তাদের পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৭ টাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রশাসন


আরও
আরও পড়ুন