Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০৩ এএম

গত ১৭ জানুয়ারি দৈনিক ইনকিলাবের ১৫ নং পাতায় ‘নেদায়ে ইসলামের নিবন্ধন বাতিল আবেদনে মতলবে ক্ষোভ’ শিরোনামে প্রকাশিত নিউজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী। তিনি তার প্রতিবাদ লিপিতে জানান, প্রতিবেদনে তথ্যের সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই না করে কোনো বিশেষ মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সংবাদদাতা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছেন। ঘটনা যাচাই না করে এমন সংবাদ প্রকাশ নিন্দনীয় ও আইনবিরুদ্ধ। উক্ত প্রতিবেদনে নেদায়ে ইসলামের নিবন্ধন সম্পর্কে প্রকৃত অবস্থা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নেদায়ে ইসলাম জাতীয়ভিত্তিক নিবন্ধিত একটি ঐতিহ্যবাহী অরাজনৈতিক সেবা সংস্থা। যুগশ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ইমামুত তরীকত আল্লামা শায়খ সায়্যিদ মুহাম্মাদ বোরহানুদ্দীন উয়েসী (রাহ.)-এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬৪ ইং সালে তাঁর ইন্তেকালের পর আল্লামা শায়খ সায়্যিদ মানযূর আহমাদ উয়েসী (রা:) ফরাজিকান্দী উয়েসীয়া শরীফের পীর ও নেদায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান হিসেবে ৪৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে আল্লামা শায়খ সায়্যিদ মানযূর আহমাদ উয়েসী (রা:)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর মনোনীত ও সিলসিলার সকলের সমর্থনে আল্লামা শায়খ সায়্যিদ মোশতাক আহমাদ উয়েসী (মা.জি.আ) ফরাজিকান্দী উয়েসীয়া শরীফের পীর ও নেদায়ে ইসলামের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সরকারের জয়েন্ট স্টক কোম্পানির সোসাইটি এক্টের আওতায় নেদায়ে ইসলাম জাতীয়ভিত্তিক নিবন্ধিত একটি সংস্থা। যার অনুমোদিত কার্যনির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান আল্লামা শায়খ সায়্যিদ মোশতাক আহমাদ (মা.জি.আ)। এমনকি ২০১২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইয়াতীমখানা পরিচালনার জন্য গৃহীত বাংলাদেশ সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরপর দুই মেয়াদে নবায়নকৃত নিবন্ধনেও অনুমোদিত কার্যনির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান শায়খ সায়্যিদ মোশতাক আহমাদ (মা.জি.আ)। তাই ২০১২ সাল থেকে নেদায়ে ইসলামের সকল প্রতিষ্ঠান শায়খ সায়্যিদ মোশতাক আহমাদ (মা.জি.আ) ব্যতীত অন্য কারো পরিচালনা করার তথ্যের আইনগত কোনো ভিত্তি নাই। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শায়খ সায়্যিদ মোশতাক আহমাদ (মা.জি.আ) নাকি নিজের নামে নিবন্ধন নিয়েছেন। যা বাস্তবতা বিবর্জিত, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য।
আমাদের বক্তব্য, নেদায়ে ইসলামের নাম পরিবর্তন বা নিবন্ধন বাতিল করা হয়নি। বরং বিদ্যমান দুইটি নিবন্ধন (জয়েন্ট স্টক ও সমাজসেবা)-এর মধ্যে সমাজসেবার নিবন্ধনের কার্যক্রম শুধুমাত্র চাঁদপুরের মধ্যে সীমিত থাকায় দেশব্যাপী সকল প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সার্বিক দিক বিবেচনায় জয়েন্ট স্টক থেকে গৃহীত জাতীয় নিবন্ধনকে যথেষ্ট মনে করে রেজিস্টার্ড মেম্বারদের সর্বসম্মতিক্রমে নেদায়ে ইসলামের কার্যনির্বাহী কমিটি সমাজসেবার নিবন্ধন নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিবন্ধন সমাপ্তির কারণ জানতে চাওয়ার প্রেক্ষিতে সমজসেবার তদন্ত কমিটিকে আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যার জন্য স্বাগত জানিয়ে জবাব প্রদানের সময় চেয়ে চিঠি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে আমাদের পক্ষ থেকে নেদায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান মহোদয়ের উপস্থিতিতে উক্ত তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ছুটিতে থাকায় সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় তদন্ত কমিটি গত ১৫-০১-২০২০ ইং তারিখে আলআমীন শিশুসদন কমপ্লেক্স (আশিক), ফরাজিকান্দী, মতলব উত্তর, চাঁদপুরে সরেজমিনে তদন্তের জন্য পরিদর্শনে যায়। কিন্তু উক্ত তারিখে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবে এই মর্মে কোনো চিঠি বা যথাসময়ে কোনো তথ্য না পাওয়ায় নেদায়ে ইসলামের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকতে পারেনি। নেদায়ে ইসলামের সুনাম নষ্ট করতে তৎপর কুচক্রী মহল এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে নেদায়ে ইসলামের কোনো নিবন্ধিত সদস্য নয় এমন বহিরাগত গোটা পঞ্চাশের মতো লোক জড়ো করে নেদায়ে ইসলামের কার্যনির্বাহী কমিটির বিপক্ষে নানারকম কুৎসা রটনা করে। এমনকি নেদায়ে ইসলামের কোনো নিবন্ধিত সদস্য নয় এমন বহিরাগতদের মিথ্যা ও সাজানো বক্তব্য (যাদের বক্তব্য আইনগতভাবে অকার্যকর, অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন) আমলে নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করে। এতে সংস্থার সুনাম চরমভাবে ক্ষুণœ ও কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দের মানহানি করা হয়েছে। তাই এরকম মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
তদন্ত কমিটি তদন্তের জন্য প্রতিষ্ঠানে এসে আবেদনকারী ও আবেদনকারীর পক্ষে কাউকে পাননি। তদন্তকালীন সময়ে তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থিত স্থানীয় জনগনের বক্তব্যই সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের প্রতি অনুরাগ কিংবা বিরাগ ভাজন হয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়নি। প্রকাশিত সংবাদে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোন বক্তব্য নেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন