Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

করোনা ভাইরাসে চীনে নিহতের সংখ্যা ২৮, জনশূন্য উহান, আতঙ্কে বিশ্ববাসী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:১৮ পিএম

চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৮ শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে চীন সরকার।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের উহান শহরেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মূলত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়ায়।
চীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনের নাগরিকরা দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে গেলে এই ভাইরাস দ্রæত ছড়াতে পারে। এদিকে এখনই এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী জরুরী অবস্থা ঘোষণার পক্ষে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আদহানোম গ্রেবেইয়েসুস বলেন, এই ভাইরাসের জন্য চীনে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে। এটি নিয়ে এখনই বিশ্বে জরুরী অবস্থার ঘোষণার মত পরিস্থিতি হয়নি।
চীন থেকে প্রাণঘাতী ভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা গেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, ভাইরাসটি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণে তারা এখন সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে চীন নিশ্চিত করেছিলো যে, মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস যা ইতিমধ্যে ছোঁয়াচে আকার ধারণ করছে।
করোনা ভাইরাসে জনশূন্য উহান, আতঙ্কে বিশ্ব
চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৮শ’তে। সংক্রমণ ঠেকাতে হুবেইসহ পাঁচটির বেশি প্রদেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে চীন সরকার। হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম এবং সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।
১ কোটির বেশি মানুষের শহর উহানের রান্তাঘাট এখন একরকম জনশূন্য বলা চলে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউই। নতুন এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার হুবেই প্রদেশের বিমান, ট্রেনসহ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মানুষের চলাফেরা এবং একে অপরের সংস্পর্শে আসতে না দেয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্থানীয় সরকার। আগাম টিকিট নিয়ে রাখা পর্যটক ছাড়া অন্য কোনো ফ্লাইটের বিমান ছেড়ে যায়নি প্রদেশটি থেকে।
মহামারি ঠেকাতে হুবেই প্রদেশ জুড়ে একের পর এক শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উহান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শহরের মিউনিসিপাল গভর্নমেন্ট। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হুবেই প্রদেশের পাশাপাশি হুয়াংগ্যাং, এঝু, সিয়ানতাও, চিবিসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রদেশে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে চীন সরকার।
চীনজুড়ে পশু থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই দেশটির বিশেষ অঞ্চল হংকংয়ে প্রাথমিকভাবে দু’জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ দফতর। করোনার উপসর্গ দেখা দেয়া ২১ ব্যক্তি ভাইরাসমুক্ত বলেও নিশ্চিত করে দক্ষিণ কোরিয়া।
ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জাপান। গতকাল বৃহস্পতিবার উহান থেকে দুটি বিমান এসে পৌঁছানোর পর চীন ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে দেশটি। তাইপেই থেকে আসা বিমানের যাত্রীদের স্ক্রিনিং পরীক্ষার পরই কেবল প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে ফিলিপিন্সের বাসিন্দাদের।
উহান থেকে আসা সবশেষ ফ্লাইটটির যাত্রীদের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ইতালি কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন পর্যন্ত কোন যাত্রীর মাঝে করোনার উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়নি। উহানের ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্রিনিং টেস্টের পর একইকথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চীন সফরের পর করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা এক ব্যক্তিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে যুক্তরাজ্য। হাঁচিকাশির মাধ্যমে সংক্রমিত শ্বাসযন্ত্রে অসুখ সৃষ্টিকারী এ ভাইরাস প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। এছাড়া প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এছাড়া এই ভাইরাসে ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনা ভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন