Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ০৪ রজব ১৪৪১ হিজরী

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০২০, ২:১৫ পিএম
বিদেশী কোন গর্ভবতী এখন থেকে আর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারবেন না। শুক্রবার থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। খবর সিএনএন'র।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই সহজেই নবজাতকরা পেয়ে যেত দেশটির পরিচয়পত্র। আর এই সুযোগে অনেক দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাদের সন্তান জন্ম দিত। যা যুক্তরাষ্ট্রে বার্থ টুরিজম নামে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর গর্ভবতী নারীদের শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য আমেরিকায় ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন কিছু নিয়ম চালু করেছে। নীতিটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়। এবং এই বিধিকে একটি কঠোর ব্যবস্থা হিসাবে মনে করা হচ্ছে।
নতুন এই নিয়মে একজন গর্ভবতী নারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে তাকে এটা প্রমাণ দিতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্তান জন্ম দেয়া ছাড়া তার ভ্রমণের নির্দিষ্ট অন্য কারণ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সব শিশু দেশটির নাগরিকত্ব পায়, যে আইনের সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশাসন বলেছে যে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন ভ্রমণ নীতি প্রণয়ন জরুরী।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা আইনগতভাবে সকল ব্যক্তিকে’ নাগরিকত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

তথাকথিত ‘অ্যাংকর শিশুদের যাদের মায়েরা ভিন্ন দেশের নাগরিক কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় সেখানে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, তাদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে কনজারভেটিভরা।’
যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের স্বজন থাকার ভিত্তিতে ভিসা পাওয়ার প্রথাটি ‘চেইন মাইগ্রেশন’ নামে পরিচিত, ট্রাম্প এই নীতিরও সমালোচনা করেন।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, বি ভিসা প্রত্যাশী ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়মটি প্রযোজ্য হবে, যা অনভিবাসীদের জন্য জারি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ‘প্রাথমিক উদ্দেশ্য’ সেখানকার কাগজপত্র পাওয়ার আশায় সন্তান জন্ম দেয়া হলে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। নতুন এই বিধিতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এই অনুমতি দেয়া হয়েছে।
ভিসা আবেদনকারীদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে তাদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করার ‘উপায় এবং উদ্দেশ্য’ আছে এবং একজন কনস্যুলার কর্মকর্তাকে বোঝাতে হবে যে তাকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য ইচ্ছুক এমন একজন ডাক্তারের ব্যবস্থাও তিনি করে রেখেছেন।
হোয়াইট হাউস নতুন এই বিধিমালার প্রশংসা করেছে। প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি স্টিফানি গ্রিশাম এক বিবৃতিতে বলেছেন যে ‘বার্থ ট্যুরিজম শিল্প’ হাসপাতালের ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি অপরাধমূলক কার্যকলাপকে উষ্কানি দিতে পারে।

‘বার্থ ট্যুরিজম’এর আওতায় কতজন শিশু জন্মগ্রহণ করে?
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসা মানুষেরা প্রতিবছর কতজন শিশু জন্ম দেয় তার কোনো রেকর্ড নেই, তবে বিভিন্ন গোষ্ঠী একটি আনুমানিক হিসাব দিয়েছে। ইউএস সেন্টারর্স ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সবশেষ তথ্য অনুসারে, বিদেশী বাসিন্দারা ২০১৭ সালে প্রায় ১০ হাজার শিশুর জন্ম দিয়েছে।
এই সংখ্যাটি ২০০৭ সালের তুলনায় ৭ হাজার ৮০০জন বেশি। কঠোর অভিবাসন আইন সমর্থনকারী সংস্থা সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের ধারণা, ২০১৬ সালের শেষের ছয় মাস এবং ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা নারীরা প্রায় ৩৩ হাজার শিশুর জন্ম দিয়েছেন।
মার্কিন কাস্টমস এবং সীমান্ত সুরক্ষা অনুযায়ী বর্তমানে গর্ভবতী নারীরা শিশুর জন্ম হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন।
তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব দেশ মার্কিন ভিসায় ছাড় পায় তাদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। বিশ্বে ৩৯টি দেশ রয়েছে যারা মার্কিন ভিসায় ছাড় পায়। এর মধ্যে বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ। অভিবাসন ঠেকাতে বদ্ধ পরিকর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ