Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

অবস্থার অবনতি : রংপুর মেডিক্যালে স্থানান্তর

কিশোরকে নির্যাতনের ১২ দিন

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গরু চুরির অপবাদে হাত-পা বেঁধে উল্টো ঝুলিয়ে নির্যাতনের শিকার কিশোর রাফিকুল ইসলামের চিকিৎসায় ১২ দিনেও উন্নতি হয়নি। চোখে দেখছে কম। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার কিশোর রাফিকুলকে রেফার্ড করেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক। তার প্রচন্ড মাথাব্যথা হচ্ছে। ১১ দিনের চিকিৎসায় রাফিকুলের শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। সে চোখেও দেখছে কম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. বিশ্বেস্বর রায় বলেন, রাফিকুলকে এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে পেটানোর কারণে চোখ ও মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। বাম চোখে কিছুটা দেখতে পেলেও ডান চোখে দেখতে পারছে না রাফিকুল। উল্টো ঝুঁলিয়ে আঘাত করায় তার দুই পায়ের ব্যথাও কমছে না। প্রচন্ড মাথা ব্যথায় ঠিকভাবে দাড়াতে পারছে না। শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়েছে। ডাক্তার আরো বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে রাফিকুলকে চিকিৎসা দিতে চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার্ড করা হয়েছে। নির্যাতিত কিশোর রাফিকুলের ভাই মুঠোফোনে জানান, রাফিকুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেদম লাঠিপেটার কারণে রাফিকুলের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে ১১ দিন চিকিৎসা করেও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। রাফিকুলের চোখের অবস্থা শেষ পর্যন্ত কী হবে তা নিয়ে পারিবারিকভাবে চিন্তায় রয়েছি। এ ঘটনা মামলায় ৪ জন জেল হাজতে থাকলেও বাকি ৯ জন আসামি জামিনে রয়েছেন। তাদের নানা হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে রাফিকুলের ভাই জানান।
রাফিকুলের বাবা দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম জানান, চুরির মিথ্যা অপবাদে গত ১১ জানুয়ারি রাতে ঘুম থেকে ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করেছে অভিযুক্তরা। এলাকার প্রভাবশালী তনু, তুহিন, আইজল, ইয়াজল, নাজমুল ও মঞ্জুসহ কয়েকজন মিলে গ্রামের শ’ শ’ মানুষের সামনে নির্যাতন করেছে। ছেলের চিকিৎসা ও মামলায় দৌড়ঝাপ করতে আর্থিক সঙ্কটে রয়েছি। অভাব-অনাটনের সংসারে ছেলের চিকিৎসায় অর্থ যোগাতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, ছেলেকে নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ