Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক আদালতের আদেশ প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যে অন্তর্র্বতীকালীন আদেশ দিয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার।

বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আদেশ প্রত্যাখ্যান করে বলে, আদালতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ‘বিকৃত চিত্র’ উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো দেশের বিরুদ্ধে আইসিজের দেয়া আদেশ মানার নৈতিক বাধ্যকতা রয়েছে। তবে রায় মানতে আদালত চাপ প্রয়োগ করতে পারে না।

বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন রাখাইনে গণহত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি। তবে সেখানে যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, যা তদন্ত করা হচ্ছে এবং মিয়ানমারের ফৌজাদারি বিচার ব্যবস্থায় এর বিচার হবে। মানবাধিকার কর্মীদের নিন্দার কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে কিছু দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়ছে বলেও এতে অভিযোগ করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় আইসিজের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাভি আহমেদ ইউসুফ অন্তর্র্বতী আদেশ পাঠ করতে শুরু করেন। তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যায় গাম্বিয়ার করা মামলায় চারটি অন্তর্র্বতী ব্যবস্থা গ্রহণর আদেশ দেন। আদালত সর্বসম্মতভাবে এ আদেশ জারি করে।

ওই আদেশে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং দেশটিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর এখনো চলছে নিপীড়ন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সরকার। এসময় মিয়ানমারের প্রতি তাদের সুরক্ষা দেয়ারও আদেশ দেন আইসিজের বিচারক।

বিচারক অভিযোগ করে বলেন, মামলায় আদালতকে যথাযথ সহযোগিতা করেনি মিয়ানমার। এসময় মামলা বাতিলের জন্য মিয়ানমার যে আবেদন করেছে সেটিও খারিজ করে দেন বিচারক। বিচারক আব্দুল কাওয়াই আহমেদ ইউসুফ স্পষ্ট জানান, এই মামলা নিয়ে মিয়ানমার যে আপত্তি করেছে সেটি গহণযোগ্য নয়।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ওই ঘটনাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। এ মামলার ওপর গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসের হেগে শুনানি হয়।



 

Show all comments
  • M.a. Mamun ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:৪৪ এএম says : 0
    বর্তমান বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রনীতি যে কতটা দুর্বল তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। রাষ্ট্র যখন ব্যার্থ তখন সাধারণ জনগণকে আরেকবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Shunu Miah ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:৪৫ এএম says : 0
    আমরা যারা কয়েকটি দেশকে বন্ধ রাষ্ট্র মনে করি , সেইসব দেশ কিন্তু এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিয়ানমারকে সহায়তা করছে ।
    Total Reply(0) Reply
  • MD Imran ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:৪৫ এএম says : 0
    আইসিজি মায়ানমারের কিছুই করতে পারবে না ।
    Total Reply(0) Reply
  • Shahadat Hossain ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:৪৫ এএম says : 0
    চীনের আর ভারতের সহায়তা পেয়েই তারা বড় বড় কথা বলে।
    Total Reply(0) Reply
  • Abdul Mukith ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:৪৬ এএম says : 0
    মায়ানমার না হয়ে যদি কোনো মুসলিম দেশ হতো তাহলে এতো দিনে কতো রকমের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আসতো এমনকি বিমান হামলাও হতে দেরি হতোনা ।
    Total Reply(0) Reply
  • মোহাম্মদ আব্দুস সালাম ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:১৬ এএম says : 0
    আসলে মিয়ানমারের শক্তিতে তারা রায়কে প্রত্যাখান করার সাহস পেয়েছে। তাদের সাথে রয়েছে চীন, ভারত এবং রাশিয়া। কিন্তু আমাদের সহযোগিতা করার কোন দেশ আল্লাহ ছাড়া নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • humayuen kabir ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ২:১০ পিএম says : 0
    Mayanomar's leader onkshank soky number one haramy
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন