Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ০৪ রজব ১৪৪১ হিজরী

নাগরিকত্ব আইন ও অসহিষ্ণু ভারত

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে বিভাজন সৃষ্টি করছেন মোদি-১

দ্য ইকনোমিস্ট | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

গত মাসে ভারতের নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী এনেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। এর ফলে মুসলমান বাদে উপমহাদেশের অন্যান্য সমস্ত ধর্মের অনুসারীদের জন্য ভারতের নাগরিকত্ব অর্জন সহজ হয়েছে। একই সাথে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে ১৩০ কোটি নাগরিকের নিবন্ধ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এসব বিষয় নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মনে হতে পারে, কিন্তু ভারতে বসবাসকারী প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের অধিকাংশের কাছেই নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, তাই তারা রাষ্ট্রহীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, নাগরিক্ত প্রমাণ করতে না পারা ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য সরকার বন্দীশিবির তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।

স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয়, বিজেপি’র পরিকল্পনা ভুল ছিল। কারণ এটি ব্যাপক এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থী, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা, এমনকি মিডিয়ার জনপ্রিয় তারকারাও ভারতকে সহনশীল, ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ থেকে কট্টর হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় অবস্থানের বিরোধিতা করেতে শুরু করেছেন।

বাস্তবে, এই আইনগুলো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নেয়া উদ্বেগজনক পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। রাম মন্দির তৈরির জন্য অযোধ্যা শহরের বাবরি মসজিদ ভাঙার আন্দোলন করে প্রথমে বিজেপি ভারতের হিন্দুদের সুনজর অর্জন করেছিল। ১৯৯২ সালে হিন্দু উগ্রপন্থীদের হাতে মসজিদটি ধ্বংস এবং তারপরে মারাত্মক দাঙ্গা, এসবই কেবল বিজেপির উত্থানে সহযোগিতা করেছিল। একইভাবে, ২০০২ সালে মোদি যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সে সময় রাজ্যটিতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণহত্যার ঘটনায়, তিনি দেশজুড়ে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের কাছে বীর হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছিলেন।

আক্ষেপের বিষয়, বিজেপির জন্য যেই ইস্যু নির্বাচনী অমৃত, সেটি ভারতের জন্য রাজনৈতিক বিষ। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতিগুলো উপেক্ষা করে, মোদির সর্বশেষ পদক্ষেপগুলো ভারতের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। যার ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা কয়েক দশক স্থায়ী হতে পারে এবং এর ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। অপ্রিয় সত্যটি হল যে, মোদি এবং বিজেপি ধর্ম এবং জাতীয় পরিচয়ের বিভেদ তৈরি করে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। এই জাতীয় বিষয়গুলি ভারতের রাজ্য নির্বাচনের নিরলস ধারাবাহিকতায় হিন্দু-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলিতে দলের নেতাকর্মী এবং তাদের মিত্রদের উজ্জীবিত রাখে। এই বিষয়গুলো সরকারের বিফলতা যেমন, গত বছরের নির্বাচনে জয়ের পর থেকে ভারদের ধুকতে থাকা অর্থনীতির মতো বিষয়গুলো থেকেও জনগণের মনোযোগ সরিয়ে রাখে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মোদি গণনা করে মনে করছেন যে ভারতীয় ভোটারদের একটি মধ্যে বড় সংখ্যাই তার ক্রমাগত প্ররোচনার প্রতি সহানুভ‚তিশীল। মোদির প্ররোচণাগুলো হল, মুসলমানরা সর্বদা বিপজ্জনক ও চরমপন্থী, হিন্দুদের সবসময় দমিয়ে রাখতে চায়, পাকিস্তানের কাছে তারা দেশ বিক্রি করার পরিকল্পনা করে। এসব প্ররোচণা তাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে যথেষ্ট। কারণ, ভারতের জটিল নির্বাচন ব্যবস্থা এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে ঐক্যতার অভাবে, গত নির্বাচনে মাত্র ৩৭% ভোট পেয়েও বিজেপি সংসদে তার সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।

বিজেপি’র জন্য একটি নতুন ইস্যু তৈরির প্রয়োজন ছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি রায় জারি করেছে, যা অযোধ্যায় ধ্বংস হওয়া বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির তৈরির পথ পরিস্কার করেছে। এটি ছিল বিজেপির একটি প্রিয় ইস্যু। কিন্তু সেই ইস্যুটির সমাধান হয়ে যাওয়ায় তাদের এখন একই ধরণের আরেকটি ইস্যু প্রয়োজন মানুষের মনোযোগ ধরে রাখতে। এজন্য নাগরিকত্ব সংশোধনি আইনটি তাদের জন্য একটি ভাল বিকল্প ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই ইস্যুটিতেও মুসলিম বিরোধী-হিন্দুত্ববাদী আবেদন রয়েছে। (আগামী পর্বে সমাপ্য)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ