Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১ হিজরী

সিএএ’র বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব ইউরোপীয় পার্লামেন্টে, কাশ্মীর নিয়ে ফের মার্কিন চাপ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ জানুয়ারি, ২০২০, ৪:২৯ পিএম

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আবার ধাক্কা খেল ভারত। এই আইনকে ‘বিশ্বে রাষ্ট্রহীনতার পক্ষে সবচেয়ে বড় সঙ্কট এবং মানুষের দুর্দশার কারণ’ আখ্যা দিয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ১৫৪ সদস্য। আগামী সপ্তাহে ব্রাসেলসে পার্লামেন্টের অধিবেশনে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এদিকে, রাইসিনা আলোচনা থেকে ফিরে গিয়ে মার্কিন কূটনীতিক অ্যালিস ওয়েলস আবারও জম্মু-কাশ্মীরের বন্দি নেতাদের দ্রুত মুক্তি দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি সিএএ নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, ‘সিএএ সরকারের হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকে তুলে ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি নজির তৈরি করছে।...এই আইনের প্রকৃতিটাই বিভাজনকামী, কারণ এতে অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির যে অধিকার তার থেকে মুসলিমদের ক্ষেত্রে বিভেদ ঘটানো হচ্ছে।’ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৬টি দেশের সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রগতিশীল এস অ্যান্ড ডি গোষ্ঠীই এই প্রস্তাবের পিছনে রয়েছে।

প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়েছে, সিএএ মানবাধিকার, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সব ধরনের জাতি বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতার পরিপন্থী। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে নিপীড়িত আখ্যা দিলেও সিএএ-তে কেন তাদের বাদ রাখা হল, তোলা হয়েছে সেই প্রশ্ন। ভারতে বসবাসকারী তামিল উদ্বাস্তু, পাকিস্তানের আহমেদি ও হাজারা, বাংলাদেশের বিহারি মুসলিমদের প্রতিও সিএএ বৈষম্যমূলক বলে অভিমত প্রস্তাবটির।

এস অ্যান্ড ডি গোষ্ঠীর প্রস্তাবে সিএএ-র বিরুদ্ধে ভারত জোড়া প্রতিবাদের প্রসঙ্গও উল্লিখিত হয়েছে। বলা হয়েছে, এই প্রতিবাদের জেরে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, ১৭৫ জন আহত হন। গ্রেফতার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করতে ইন্টারনেট বন্ধ করা, কারফিউ জারি এবং বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে পুলিশি অত্যাচারের কথা তুলে ধরে ভারতকে জাতিসংঘের ঘোষিত নীতি মেনে চলতে বলেছেন পার্লামেন্টের সদস্যরা।

এদিকে, অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার পরে সেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত সচিব অ্যালিস ওয়েলস। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে রাইসিনা আলোচনায় উপস্থিত থাকার পরে ফিরে গিয়ে যে বিবৃতিটি তিনি দিয়েছেন, তাতে জম্মু-কাশ্মীরের বন্দি নেতাদের দ্রুত মুক্তি দিতে আবারও অনুরোধ জানিয়েছেন ওই মার্কিন কূটনীতিক। পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন অ্যালিস। তার কথায়, ‘ভারত সফর করার ফলে সুযোগ হল সে দেশের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কী কী ঘটছে তা শোনার ও বোঝার। আমার ধারণা হয়েছে যে বিষয়টি সে দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরে কঠিন নিরীক্ষার মধ্যে পড়েছে। তা সে রাস্তাতেই হোক, বা রাজনৈতিক বিরোধীদের আন্দোলনে, সংবাদমাধ্যমে বা আদালতে। আইনে সবাইকে সমান সুরক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সর্বদাই সওয়াল করে যাব।’

গত কয়েক মাস ধরে প্রথমে কাশ্মীর এবং পরে এনআরসি-সিএএ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে অস্বস্তি বাড়ছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের। দেশের ভিতরে প্রতিবাদ যত বাড়ছে, সেই সঙ্কেত পৌঁছে যাচ্ছে আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশে। কাশ্মীর নিয়ে যাতে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনা হয় সে জন্য উঠে পড়ে লেগেছে বেইজিং। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের ভাবমূর্তি অটুট রাখতে রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে সাউথ ব্লককে। বিভিন্ন রাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের প্রধান কাজই এখন সংশ্লিষ্ট দেশের নেতৃত্বকে ভারতের নাগরিকত্ব নীতি বোঝানো। তারই মধ্যে অ্যালিস ওয়েলসের এই বিবৃতি কপালে ভাঁজ ফেলেছে ভারতীয় কূটনীতিকদের।

সম্প্রতি অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও উপত্যকায় সফর করে এসেছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে অ্যালিস বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরে কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে দেখে আমরা খুশি। ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিক ভাবে চালু হয়েছে। অন্যান্য কূটনীতিকদের সঙ্গে আমাদের রাষ্ট্রদূতও জম্মু-কাশ্মীর ঘুরে এসেছেন। এটা জরুরি ছিল।’ ওয়েলসের বক্তব্য, ‘তবে আমরা এখনও ভারত সরকারকে বলে চলেছি যে আমাদের কূটনীতিকদের সেখানে নিয়মিত যেতে দেয়া হোক। কোনও অপরাধ ছাড়াই যে সব রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে রাখা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক।’ সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, টিওআই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন