Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

পাবনায় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সভাপতি, পৌর মেয়রসহ ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত

পাবনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ জানুয়ারি, ২০২০, ৪:৫২ পিএম

পাবনায় বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এম.পি’র উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়রসহ এক ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ সময় অনুষ্ঠান মঞ্চ ভাংচুর করা হয়। শনিবার রাতে সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নে বিরাহীমপুরে এই ঘটনা ঘটে।
সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শওকত আলী সাংবাদিকদের জানান, শনিবার রাতে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিরাহীমপুর মীর্জা আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ধিত সভা হয়। সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুল ওহাব বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি ঘোষণা করেন। ঐ কমিটিতে কেবল তার পছন্দের নেতা-কর্মীদের নাম থাকায় উপস্থিত অন্যান্য নেতা-কর্মীরা আপত্তি করেন এবং সমন্বয়ের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করার দাবি জানান। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব অন্য নেতা-কর্মীদের দাবী অগ্রাহ্য করে ঐ কমিটিই চূড়ান্ত বলে ঘোষণা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্চে উঠে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আহম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন সভাপতি ওহাবের পক্ষ নিলে উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা তাকেও মারপিট করে এবং সভা মঞ্চ ভাংচুর করে। পরে সভার প্রধান অতিথি স্থানীয় এম.পি আহমেদ ফিরোজ কবির এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আ’লীগ সভাপতি ওহাব সভাস্থল ত্যাগ করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ঐ সভায় উপস্থিত ছিলাম না। তবে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে শুনেছি তাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দায়িত্বশীল আচরণ করেননি। কেননা বঙ্গবন্ধু শুধু একক কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেতা নন, বঙ্গবন্ধু ১৬কোটি বাঙালির নেতা এবং বিশ্ববরেণ্য নেতা। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের অংশীদার আওয়ামী লীগের যে কোন স্তরের নেতা-কর্মীর পাশাপাশি একজন সাধারণ নাগরিকও হতে পারেন। কাজেই সভাপতির উচিত ছিল সবার সাথে আলোচনা করে সার্বজনীন একটি কমিটি ঘোষণা করা।
আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল হক (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন এই ধরনের ঘটনা আমাদের কাম্য নয়। আমরা চাই সব ধরনের সভা-সমাবেশ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আইনের পরিপন্থী কোন ঘটনা যেন না ঘটে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত নেতা-কর্মী মঞ্চে চেয়ার ছুড়ে মারেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আসে ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লাঞ্ছিত


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ