Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

লাশ কাঁধে তুলে নিলেন এরদোগান

তুরস্কে ভূমিকম্প : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

তুরস্কের ইলাজিগের সিভরাইস জেলায় শক্তিশালী ভ‚মিকম্প আঘাত হানে। এই ভ‚মিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১। ভ‚মিকম্পে নিহতদের লাশ দাফনে অংশগ্রহণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান। খবর তুর্ক প্রেসের। ভ‚মিকম্পের সময় আতঙ্কিত লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এলাজিগ প্রদেশের সিভরিস শহরে ভ‚মিকম্পের আঘাতে অনেক ভবন ধসে পড়েছে। ভ‚মিকম্প শেষ হলে প্রায় ৪০০ সদস্যের বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয় এলাজিগ প্রদেশের সিভরাইস শহরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে। এখন পর্যন্ত ২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির প‚র্বাঞ্চলে আঘাত হানা ওই ভ‚মিকম্পে আহত হয়েছে প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ। সিভরাইস শহরের ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ-খবর নিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোগান সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি আহতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। ভ‚মিকম্পে নিহতদের জানাযা ও দাফন কাফনে সরাসরি শরিক হতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এলাজিগ প্রদেশে সফর করেছেন। জানাযার পরে নিজের কাঁধে বহন করে একজনের লাশ কবরস্থান পর্যন্তও নিয়ে যান তিনি। কুরআনের হাফেজ এ প্রেসিডেন্ট শুধু রাষ্ট্র পরিচালনাই থেমে থাকেননি। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন। ফাতেহা পাঠ করে কবর জেয়ারত করতেও ভুলেননি তিনি। তার ধর্মীয় সব কাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। উল্লেখ্য, তুরস্কে প্রায়ই ভ‚মিকম্প আঘাত হানে। এর আগে দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভ‚মিকম্প আঘাত হেনেছিল ১৯৯৯ সালে। সে বছর দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজমিত শহরে ভ‚মিকম্পের আঘাতে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সয়লু শনিবার জানিয়েছেন, ভ‚মিকম্পের উৎপত্তিস্থল এলাজিগ প্রদেশের অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী মলতয়া প্রদেশে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। পরে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ আরও সাতজন মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহেরেটিন কোকা জানিয়েছেন, ধসে পড়া ভবনগুলো থেকে অন্তত ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এগারোশ’ তিন জন। উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। অন্তত ২৮টি দল উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। উদ্ধারকাজে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৮ টা ৫৫ মিনিটে শক্তিশালী এই ভ‚মিকম্প আঘাত হানে। ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভ‚মিকম্পের ফলে অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়ে। এতে চাপা পড়ে অনেকে মারা যান। ভ‚মিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে বহু বাসিন্দা রাস্তায় বের হয়ে আসেন। শত শত মানুষ এখনও গৃহহীন রয়েছেন। তুর্ক প্রেস, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এরদোগান

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ