Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

অনিশ্চয়তায় বরিশাল পর্যটন মোটেল-ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্প

অর্থের উৎস জানতে চেয়ে ডিডিপি ফেরত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

বরিশাল সদরে প্রায় পৌনে ২শ’ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন না করায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ কাঠখড় পুড়িয়ে ‘বরিশাল পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রকল্প’টি অনেকটা অনিশ্চয়তার কবলে পড়েছে।
অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে সাবেক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যথেষ্ট উদ্যোগী ছিলেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রায় ৩ বছর আগে বরিশাল মহানগরীর বিআইডব্লিউটিএ’র পরিত্যক্ত মেরিন ওয়ার্কসপের প্রায় এক একর জমি পর্যটন কর্পোরেশনকে লাভ-লোকসানের অংশিদারিত্বে ৩০ বছরের জন্য লিজ প্রদান করা হয়। এ জন্য পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিবছর বিআইডবিøউটিএকে বিপুল অর্থও পরিশোধ করে আসছে। কিন্তু প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশন থেকে ফেরত যাওয়ায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

গত রোববার পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভায় বরিশাল পর্যটন মোটেলের ‘উন্নয়ন প্রকল্প-প্রস্তবনা-ডিপিপি’টি বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হলে প্রকল্পটির অর্থের উৎস জানতে চান সভাপতি। সেখানে পর্যটন কর্পোরেশন থেকে সরকারের নিজস্ব অর্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা জানানো হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র দাখিলের কথা বলে তা ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বৈদেশিক সহায়তা ব্যতীত যেসব উন্নয়ন প্রকল্প সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত হয় তা প্রি-একনেক বা একনেকের অনুমোদনের পরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থছাড় করার বিধান রয়েছে। অনুমোদনের আগেই পর্যালোচনা পর্যায়ে প্রকল্পটির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আগাম ছাড়পত্র প্রদানের বিষয়টি নিয়ে বিব্রত পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল পর্যটন কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তার সাথে আলাপ করা হলে সকলেই বরিশালের প্রকল্পটি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন। তবে পরিকল্পনা কমিশনের সভার সারাংশ পাওয়া গেলে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বিষয়টি পর্যালোচনা করে তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা। ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিভাগীয় সদরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথমবারের মত জাতীয় পর্যটন প্রতিষ্ঠানের আবাসন ও চিত্ত বিনোদন সুবিধা সম্বলিত একটি মোটেলসহ ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের লক্ষে ডিপিপি’টি প্রণয়ন করা হয়। বরিশালই একমাত্র বিভাগীয় শহর যেখানে এখন পর্যন্ত জাতীয় পর্যটন প্রতিষ্ঠানের কোন স্থাপনা নেই।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন