Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

কাজিপুরে ঈদের কেনাকাটা সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় না হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ

প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

টি এম কামাল, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে

ঈদের মানেই কেনাকাটা, অনাবিল আনন্দ, উল্লাস। কিন্তু এই মাহে রজমানের ঈদে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের আনন্দ উদযাপন মø­ান হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ঈদের কেনাকাটায় হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় না হওয়ায় অনেকেই বাজার তালিকা সংক্ষিপ্ত করছেন। ঈদে পরিবারের সদস্যদের কাপড়-চোপড়, আতিথেয়তা যানবাহন খরচ সব মিলিয়ে বেশ কিছু অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়। চাকরিজীবীদের অতিরিক্ত আয় বলতে শুধু ঈদ বোনাস। ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়লেও দোকানের অতিরিক্ত ব্যয়, সাজসজ্জা, কর্মচারীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে গিয়ে সবাই বাড়তি চাপ সামাল দিচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলের কাজিপুর, রায়গঞ্জ, শেরপুর, ধুনট, রায়গঞ্জ, কাউনিয়া, পুঠিয়া, কাহালু, চিলমারী, বীরগঞ্জ, শিবগঞ্জ, সারিয়াকান্দি, নন্দীগ্রাম, সাঁথিয়া, দুপচাঁচিয়া, পীরগাছা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, পঞ্চগড়সহ উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের সংকটের কথা। শুধু তো ঈদের কেনাকাটা নয়। ঈদের আগে সব বিল পরিশোধ, বাড়িভাড়া, টিউশনির টাকা, গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠানো, আত্মীয়-স্বজনকে আপ্যায়ন, ঈদ উপহার ইত্যাদি খাতে খরচ রয়েছে। জীবন ধারণে খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, পরিবহন ভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় দফায় দফায় বেড়ে যাওয়ায় বহু পরিবার দিশেহারা। পাশাপাশি অন্যান্য সেবার বিল বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রচ- আর্থিক চাপে রয়েছে মানুষ। নিত্যপণ্যের তালিকা কাটছাঁট করে চলছে সংসার। বিলাসদ্রব্য কেনা স্বপ্নের মতো। আয়ের টাকা দিয়ে খাদ্যের যোগান, বাড়িভাড়া, সংসারের প্রয়োজনীয় পণ্য না ঈদ কেনাকাটা করবেন। প্রতিবছরই ঈদের আগে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পরিবহন ভাড়ায়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে আমদানি করা পোশাকের ওপরে কর আরোপ করায় দাম বেড়েছে। পাইকারি দোকানে বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ, মার্কেটের ঈদ আয়োজনের খরচ, খুচরা বিক্রেতার দাম বৃদ্ধি সব অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ মার্কেট এলেও সেই অনুপাতে বিক্রি হচ্ছে না। অনেকেই সাধ এবং সাধ্যের সমন্বয় ঘটতে না পেরে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন। ফলে এবার ক্রেতাদের কেনাকাটাও কম। কাজিপুরের মেঘাই বাজারের আব্দুল মান্নান, শেরপুরের উত্তরা মার্কেটের দোকান মালিক মধু মিয়া বলেন, মানুষ সাধ অনুযায়ী সব কিনতে পারে না। অনেকেই দাম আগে বলে কাপড় দেখছেন। তবে যে পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে তাতে আমরা খুশি। বগুড়া আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র কালাম বলেন, আমার আয় বলতে টিউশনি। এই টাকা থেকে আমার পড়াশোনা এবং বোনের পড়াশোনা চালাই। ঈদে গ্রামে পরিবারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য কাপড় নিয়েছি। বোনের জন্য থ্রি-পিস নিয়েছি। নিজের জন্য কিছুই নেয়া হয়নি। ঈদের পর ঢাকায় এসে চলে যেতে হবে। সব কিছুরেই দাম বেড়েছে। ঈদের কেনাকাটা হবে না। তবু তো ভালভাবে খেতে পারব। অনেকেই তো এক বেলা খাবার পায় না। কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজের চতুথ শ্রেণীর কর্মচারী আসাদুল, সিদ্দিক হোসেন বলেন, নিজের জন্য না হয় সন্তানের জন্য কিছু কিনতে পারলে ভাল লাগে। অপারগতা নিয়ে সন্তানের সামনে দাঁড়াতে কষ্ট হয়। ঈদের দিনে সন্তানকে নতুন জামা কিনে না দিতে পারার কষ্ট মৃত্যর চেয়েও ভয়াবহ। কাজিপুরে গান্ধাইল বেসরকারী কেজি স্কুলের শিক্ষিকা রেশমা খাতুন বলেন, এখনও বেতন বোনাস পাইনি। তাই মার্কেটে গিয়ে বাচ্চাদের জন্য শুধু দেখে এসেছি। বেতন পেলে বাচ্চাদের জন্য কাপড় কিনব। নিজের জন্য কেনাকাটা পরের ঈদে করবো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন