Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ০১ রজব ১৪৪১ হিজরী

বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ বিশ্ব ব্যাংকের

সড়ক দুর্ঘটনা বছরে ক্ষতি জিডিপির ৩-৫ শতাংশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৩৮ এএম

সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের প্রতি বছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩-৫ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য এই সমস্যা এখন শুধু মানবিক নয়, বড় অর্থনৈতিক সমস্যা। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের মতোই দারিদ্র্য আরও কমিয়ে আনতে পারে। তাই বাংলাদেশের উচিত সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এখনই পদক্ষেপ নেয়া। ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারেও এই সমস্যা প্রকট। তবে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিলে দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্ঘটনা হ্রাসে একটি উদারহণ সৃষ্টি করতে পারে বাংলাদেশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সৃজনশীল উদ্ভাবনের জন্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টি উইং স্কেফার। অনুষ্ঠনে ৫টি উদ্ভাবনী দলকে পুরস্কৃত করা হয়। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ যৌথ উদ্যোগে এ পুরস্কার দেয়া হয়। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টি উইং স্কেফার। অতিথি হিসেবে ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সড়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো, বাংলাদেশ ও ভুটানের বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন।

হার্টি উইং স্কেফার বলেন, একজন বাবা-মা অনেক কষ্ট করে একটি শিশুকে জন্ম দিয়ে বড় করেন। প্রচুর পয়সা খরচ করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠায়। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। এতে এই শিশুর পেছনে তার বাবা-মা’র সব বিনিয়োগ বৃথা যাচ্ছে। এভাবে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের সম্পর্ক রয়েছে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের মতোই দারিদ্র্য আরও কমিয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, প্রচুর সংখ্যক লোক আহত হয়। অনেকে কর্মক্ষমতা হারায়। এদের সঠিক চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকা উচিত। সব মিলিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা, এটা কমিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নয়, এটা বিশ^ব্যাপী একটি সমস্যা। সৃজনশীল আইডিয়াগুলো কাজে লাগিয়ে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। তরুণদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে দুর্ঘটনা হ্রাসে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

মার্সি টেম্বন বলেন, বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু- কিশোরদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। এ কারণে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি বর্তমানে উন্নয়নে বড় আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এক সময় বাংলাদেশে দুর্ঘটনার জন্য আগে শুধু সড়কের দুর্দশার জন্য দায়ী করা হতো। তবে সচেতনতার মাধ্যমে সড়কের দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। মানুষের মধ্যে একটা জাগরণ সৃষ্টি করা গেছে। তিনি বলেন, এখন বড় সমস্যা হচ্ছে চালকদের অদক্ষতা, ভুয়া লাইসেন্সে গাড়ি চালানো, লাইসেন্স প্রদানে দুর্নীতি। এসব কারণে প্রাণহানি কমানোর পথে বড় বাধা হয়ে যাচ্ছে। সরকার যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে এগুলো সমাধান করতে পারে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন কাজী মোহাম্মদ মারুফু-উ আবিদের নেতৃত্বে বুয়েটের টিম, দ্বিতীয় পুরস্কার লাভ করে ফাহমিদুল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত টিম, তৃতীয় পুরস্কার লাভ করে মো. তাওফিকুর জামান প্রান্ত। এছাড়া প্রথম রানার আপ হন প্রত্যয় রায়ের নেতৃত্বাধীন টিম এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন নাওয়েদ কবির এবং ফাহাদ ওয়াফিক।

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সড়ক দুর্ঘটনা

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন